নামাজে ২য় রাকাতে আত্তাহিয়্যাতু পড়া নিয়ে সন্দেহ হলে করণীয় কি?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
মুফতি সাহেব, ৪ রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাজের ২য় রাকাতে বসে আত্তাহিয়্যাতু পরছি নাকি পড়ি নাই, আমি অনেক সময় ভুলে যাই। নামাজের পর আমার মনে থাকে না যে, আমি ২য় রাকাতে আত্তাহিয়্যাতু পড়েছি কি না?
যেহেতু ২য় রাকাতে আত্তাহিয়্যাতু পড়া নামাজের একটি ওয়াজিব— তাই আমি যদি ২য় রাকাতে আত্তাহিয়্যাতু পড়েছি কি না? কোনোভাবেই নিশ্চিতভাবে মনে করতে না পারি এবং শুধু সন্দেহের কারণে শেষ বৈঠকে সাহু সিজদা করি, তাহলে কি আমার নামাজ সহিহ হবে?
অর্থাৎ, শুধু সন্দেহের কারণে সাহু সিজদা করলে কি নামাজ আদায় হয়ে যাবে? আর এ ধরনের সন্দেহ বারবার হলে আমার করণীয় কী?
দয়া করে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী মাসআলাটি জানাবেন।
Answer
নামাজে সন্দেহের কারণে সাহু সিজদা: হানাফি মাজহাবের বিধান
উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
উত্তর
১. নামাযের পর আত্তাহিয়্যাতু পড়ার ব্যাপারে কেবল সন্দেহ হলে নামাযের হুকুম:
হানাফী ফিকহের সুনির্দিষ্ট মূলনীতি অনুযায়ী, নামায সম্পন্ন করার পর বা সালাম ফেরানোর পর যদি কেবল মনে সন্দেহ জাগে যে "আমি ২য় রাকাতে আত্তাহিয়্যাতু পড়েছিলাম কি পড়িনি", তবে সালামের পরের এই নিছক সন্দেহ শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও ধর্তব্য নয়।
যতক্ষণ না ২য় রাকাতে আত্তাহিয়্যাতু ছুটে যাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত ধারণা বা দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে, ততক্ষণ পর্যন্ত কেবল সন্দেহের কারণে নামাযে কোনো ত্রুটি এসেছে বলে গণ্য হবে না এবং নামায সম্পূর্ণ সহীহ ও সঠিক থাকবে।
২. শুধু সন্দেহের কারণে সাহু সিজদা করলে নামায আদায় হবে কি না?
সাহু সিজদা কেবল তখনই শরীয়তসম্মত ও ওয়াজিব হয়, যখন নামাযের কোনো ওয়াজিব প্রামাণিকভাবে ভুলবশত ছুটে যায় অথবা কোনো ফরয কাজ আদায়ে বিলম্ব ঘটে।
- শুধু সন্দেহের বশে সাহু সিজদা করা: কোনো ওয়াজিব ছুটে যাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়ে কেবল অহেতুক সন্দেহ বা ভয়ের কারণে সাহু সিজদা করা শরীয়তের সঠিক নিয়ম নয়।
- নামায সহীহ হওয়ার বিষয়: তবে কেউ যদি নিশ্চিত না হয়ে কেবল ২য় রাকাতে আত্তাহিয়্যাতু না পড়ার ভয়ে শেষ বৈঠকে দুই দিকে সালাম ফিরানোর পর সাহু সিজদা করে ফেলে, তবে এর দ্বারা তার মূল নামায বাতিল হবে না—নামায আদায় হয়ে যাবে। তবে দুই দিকে সালাম না ফিরিয়ে বরং একদিকে সালাম ফিরিয়ে যদি কেউ সন্দেহমূলক সাহু সিজদা দিয়ে দেয়, তাহলে উক্ত নামাযকে দোহড়ানো ওয়াজিব।
৩. এ ধরনের সন্দেহ বারবার (কাসরতুশ শাক্ক) হলে করণীয়:
যাদের ক্ষেত্রে নামাযে বা নামাযের পর এমন সন্দেহ ও ওয়াসওয়াসা প্রায়শই বা বারবার দেখা দেয়, ফুকাহায়ে কেরামের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের করণীয় হলো:
১. প্রবল ধারণার ওপর আমল করা (গালিবে যান): নামাযের ভেতরে বা সালামের পর মন যেদিকে সায় দেয় বা প্রবল ধারণা হয় (যেমন: "আমি আত্তাহিয়্যাতু পড়েছি"), সেই ধারণার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেবেন এবং নামায সঠিক হয়েছে ধরে নেবেন। ২. ওয়াসওয়াসা ও কূচিন্তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা: অহেতুক সন্দেহ বা সংশয়কে শয়তানের ওয়াসওয়াসা মনে করে পুরোপুরি উপেক্ষা করবেন। নামায শেষ হওয়ার পর আত্তাহিয়্যাতু পড়া বা না পড়া নিয়ে মনে যে অস্পষ্ট দ্বিধা আসে, তার দিকে মোটেও কান দেবেন না।
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
১. নূরুল ঈযাহ:
- পৃষ্ঠা: ১৩৮ (অনুচ্ছেদ: সন্দেহের বর্ণনা — সালামের পর সন্দেহ ধর্তব্য না হওয়া এবং বারবার সন্দেহ হলে প্রবল ধারণার ওপর আমল করার বিধান)। ২. কাওয়াইদুল ফিক্বহ (হাশিয়া সহ):
- পৃষ্ঠা: ১৯২/১ (ক্বায়দা: নামাযের মধ্যে ও সালামের পর সন্দেহের শরয়ী হুকুম)।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
والله أعلم بالصواب