কারোর অনিয়মিত হায়েজ হলে কতদিন পর থেকে নামায শুরু করবে?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
Answer
কারোর অনিয়মিত হায়েজ হলে নামাযের সময় সীমা
উত্তর
যদি কোনো মহিলার হায়েজ প্রথম থেকেই অনিয়মিত হয়, অর্থাৎ কখনো ৩ মাস পর হায়েজ হয় ১ মাস থাকে, কখনো ২০ দিন পর শুরু হয় ১৫-১৮ দিন থাকে, তাহলে তার ক্ষেত্রে হায়েজ ও পবিত্রতার সময় নির্ধারণের নিয়ম হলো:
হানাফী মাযহাবের নিয়ম:
১. ইস্তিহাযা (রক্তস্রাবের অস্বাভাবিকতা) নির্ধারণের মূলনীতি:
যে মহিলার হায়েজ প্রথম থেকেই অনিয়মিত (মুবতাদিয়া গায়রু মুমাইয়্যিযা) তার ক্ষেত্রে হায়েজের সর্বনিম্ন সময় ৩ দিন এবং সর্বোচ্চ সময় ১০ দিন। পবিত্রতার সর্বনিম্ন সময় ১৫ দিন।
- হায়েজ শুরু হওয়ার পর থেকে ১০ দিন পর্যন্ত নামায থেকে বিরত থাকবে, কারণ এটি হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে।
- ১০ দিন পার হওয়ার পর যদি রক্তস্রাব চলতে থাকে, তাহলে ১০ দিনের পর থেকে নামায শুরু করে দেবে। কারণ ১০ দিনের বেশি রক্তস্রাব হায়েজ নয়, বরং ইস্তিহাযা (অসুস্থতা) হিসেবে গণ্য হবে।
- অতিরিক্ত রক্তস্রাবের সময় নামায পড়তে হবে এবং পরবর্তীতে ঐ দিনগুলোর রোযা রাখতে হবে (যদি রমযান হয়)।
৩. পবিত্রতার সময়কাল:
- হায়েজ বন্ধ হওয়ার পর থেকে ১৫ দিন পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত যদি আবার রক্ত শুরু হয়, তাহলে সেটি হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে না, বরং ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে এবং নামায চালিয়ে যেতে হবে।
- ১৫ দিন পূর্ণ হওয়ার পর যদি রক্ত শুরু হয়, তাহলে সেটি নতুন হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে।
ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মত:
ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, হায়েজের সর্বোচ্চ সময়কাল ১০ দিন। এর বেশি রক্তস্রাব ইস্তিহাযা। (রদ্দুল মুহতার, ১/২৮৩)
কুরআন ও হাদীসের আলোকে:
কুরআনে হায়েজের নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ নেই। হাদীসে হায়েজের সময়কাল সম্পর্কে নির্দেশনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "হায়েজ হলো ৩ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত।" (দারাকুতনী, বাইহাকী)
ব্যবহারিক নিয়ম:
১. হায়েজ শুরু হলে ১০ দিন পর্যন্ত নামায বন্ধ থাকবে। ২. ১০ দিনের মধ্যে রক্ত বন্ধ হলে গোসল করে নামায শুরু করবে। ৩. ১০ দিনের বেশি রক্ত চলতে থাকলে ১০ দিন পূর্ণ হলে গোসল করে নামায শুরু করবে। ৪. ১৫ দিন পবিত্রতা না পেলে নতুন রক্ত হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে না।
উল্লেখযোগ্য হানাফী কিতাবের রেফারেন্স:
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): ১/২৮৩-২৮৪
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/৩৬
- বাহিশতী জেওর: ১/৫৮-৬০
- ফাতাওয়া উসমানী: ১/৩০৫-৩০৬
- ইমদাদুল ফাতাওয়া: ১/১৮৫-১৮৬
মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহ.) এবং মুফতি তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম)-এর মতে, অনিয়মিত হায়েজের ক্ষেত্রে উপরোক্ত নিয়মই প্রযোজ্য। (মা'আরিফুল কুরআন, ২/৪৫০; ফিকহুল বুয়ূত, ১/১৮৫)