স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া মোহরানার টাকায় টিকেট ও আংটি কেনা কি মোহরানা আদায় হিসেবে গণ্য হবে?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
আমার পরিচিত একজনের পক্ষ থেকে প্রশ্ন।
তিনি বলেন-
আমার বিয়ের মোহরোনা ছিল তিন লক্ষ।
আমার স্বামী এই টাকা শোধ করেন দেড় লক্ষ আমার কানাডা আসার সময় টিকেট কিনে দেয় আর বাকি দেড় লক্ষ টাকা আমাকে হিরার আংটি কিনে দেয়।
তবে আমার মোহরোনার টাকা আমার হাতে ও দেয়া হয় নী আর আমার বাবদ খরচ করার খরচ করার সময় ও আমার অনুমতি নিয়ে খরচ করা হয় নী, যদি ও আমার বাবদ খরচ করা হয়েছে।
এখন আমার প্রশ্ন হলো আমার মোহরোনা কি সঠিকভাবে আদায় করা হয়েছে?
বিস্তারিত দলিল প্রমাণ দিয়ে বললে ভাল হয়।
Answer
উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
মোহরানা আদায়ের ক্ষেত্রে শরীয়তের মূল নীতি হলো: মোহরানা স্ত্রীর সম্পত্তি। এটি আদায় করতে হবে স্ত্রীকে অথবা তার স্পষ্ট অনুমতি নিয়ে তার বাবদ খরচ করতে হবে। স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া তার মোহরানার টাকায় কোনো কিছু কেনা বা খরচ করা বৈধ নয়, এমনকি তা স্ত্রীর নিজের জন্যই হোক না কেন।
আপনার প্রশ্নের আলোকে বিশ্লেষণ:
১. টিকেট কেনা (১.৫ লক্ষ টাকা): আপনার কানাডা আসার টিকেট কেনা হয়েছে। এটি আপনার ভ্রমণের খরচ। যেহেতু এটি আপনার বাবদ খরচ হয়েছে, তাই এটি মোহরানা আদায় হিসেবে গণ্য হবে কেবলমাত্র যদি আপনার অনুমতি নিয়ে কেনা হয়ে থাকে। আপনার বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, "আমার বাবদ খরচ করার সময় আমার অনুমতি নিয়ে খরচ করা হয়নি।" তাই এই খরচ মোহরানা আদায় হিসেবে গণ্য হবে না। তবে, যদি আপনি এখন (জিজ্ঞাসার সময়) এই খরচকে মোহরানা আদায় হিসেবে গ্রহণ করতে রাজি হন, তাহলে তা আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু যেহেতু আপনি প্রশ্ন করছেন এবং সন্তুষ্ট নন, তাই বোঝা যাচ্ছে আপনি এখনও এতে রাজি নন। ফলে এই টাকা মোহরানা হিসেবে আদায় হয়নি।
২. হিরার আংটি কেনা (১.৫ লক্ষ টাকা): এটি আপনার জন্য কেনা হয়েছে, কিন্তু আপনার হাতে দেওয়া হয়নি এবং আপনার অনুমতিও নেওয়া হয়নি।
এক্ষেত্রে এখন যদি আপনি সেটা মোহরানা হিসেবে গ্রহণ করেন, তাহলে এই দেড় লক্ষ টাকা মোহরানা আদায় বলে গণ্য হবে।
আর যদি সেটি আপনি গ্রহণ না করে তাকে ফিরিয়ে দেন, তাহলে এই পরিমাণ টাকা আপনাকে দেওয়া তার উপর আবশ্যক হবে।
দলিল:
১. কুরআন: আল্লাহ তাআলা বলেন, "আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহরানা আদায় করে দাও খুশি মনে।" (সূরা নিসা: ৪) এই আয়াতে মোহরানা স্ত্রীকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা স্ত্রীর পূর্ণ মালিকানায় যায়।
২. হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম সেই ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর সাথে সবচেয়ে ভালো ব্যবহার করে।" (তিরমিজি) মোহরানা আদায় না করা স্ত্রীর সাথে খারাপ ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত।
৩. ফিকহের কিতাব:
- রদ্দুল মুহতার (ফাতাওয়া শামী): মোহরানা স্ত্রীর সম্পত্তি। তার অনুমতি ছাড়া তা ব্যবহার করা জায়েয নয়। (রদ্দুল মুহতার, ৩/১০০)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া: "যদি স্বামী স্ত্রীর মোহরানার টাকায় তার (স্ত্রীর) অনুমতি ছাড়া কিছু কেনে, তবে তা স্ত্রীর মালিকানায় চলে যাবে, কিন্তু মোহরানা আদায় হবে না।" (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৪৫)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া: মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহঃ) বলেছেন, মোহরানা আদায়ের জন্য স্ত্রীর হাতে টাকা তুলে দেওয়া বা তার স্পষ্ট সম্মতি নেওয়া জরুরি। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৪৩৫)
আল্লাহ তাআলা আপনাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য বজায় রাখুন।