ফজরের নামাজের সময় বাকি ১০ মিনিট বা তার থেকে ও কম, এদিকে ফরজ গোসল ও করতে হবে, সেক্ষেত্রে করণীয় কি

Salah-Prayer · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 4860
Questioner: Afra Aroya
Question Asked: 03 Sep 2026, 05:31 AM
Reviewed & Published: 03 Sep 2026, 05:55 AM
Views: 21
Tokens: 3,017
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

অনেক সময় দেখা যায় ফজরের নামাজের সময় বাকি ১০ মিনিট বা তার থেকে ও কম। এদিকে ফরজ গোসল ও করতে হবে সেক্ষেত্রে করণীয় কি

Answer

ফজরের নামাজের সময় কম থাকা অবস্থায় ফরজ গোসলের বিধান

প্রশ্নের উত্তর:

আলহামদুলিল্লাহ। এই বিষয়ে ইসলামী বিধান অত্যন্ত স্পষ্ট। ফজরের নামাজের সময় বাকি ১০ মিনিট বা তার চেয়েও কম থাকা অবস্থায় যদি ফরজ গোসল (গোসলের কারণে জানাবাত বা অপবিত্রতা) করতে হয়, তাহলে করণীয় কী—এ সম্পর্কে নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:


১. ফরজ গোসলের প্রয়োজন হলে করণীয়

যদি ফজরের নামাজের সময় বাকি থাকে মাত্র ১০ মিনিট বা তার কম, এবং আপনার উপর ফরজ গোসল ওয়াজিব হয় (যেমন: স্বপ্নদোষ, সহবাস, মাসিক/নিফাস শেষ হওয়া ইত্যাদি কারণে), তাহলে সবার আগে ফরজ নামাজ আদায় করা জরুরি। কারণ:

"নামাজ তো নির্ধারিত সময়ে মুমিনদের উপর ফরজ করা হয়েছে।" (সূরা আন-নিসা: ১০৩)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"যে ব্যক্তি ফজরের (সূর্যোদয়ের) পূর্বে এক রাকাত পেল, সে ফজরের নামাজ পেল।" (সহীহ বুখারী: ৫৮০, সহীহ মুসলিম: ৬০৮)


২. সময় কম থাকলে করণীয় পদ্ধতি

ক. তায়াম্মুম করার বিধান

যদি পানি ব্যবহার করে গোসল করলে নামাজের সময় চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে তায়াম্মুম করে নামাজ আদায় করা জায়েয। আল্লাহ তাআলা বলেন:

"আর যদি তোমরা রোগী হও অথবা সফরে থাক, অথবা তোমাদের কেউ শৌচাগার থেকে আসে, অথবা তোমরা স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর, আর (এ অবস্থায়) পানি না পাও, তাহলে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করো—মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ করো।" (সূরা আল-মায়িদা: ৬)

খ. শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যার মত

শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"যদি কেউ জানাবাত অবস্থায় থাকে এবং ভয় করে যে, গোসল করলে নামাজের সময় চলে যাবে, তাহলে সে তায়াম্মুম করবে এবং নামাজ আদায় করবে। এটাই অধিকতর সঠিক মত। কারণ, সময় থাকা অবস্থায় নামাজ আদায় করা গোসলের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।"

(মাজমু' ফাতাওয়া, ২১/৪৩৫)

গ. শাইখ ইবনে উসাইমীনের মত

শাইখ মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"যদি ফজরের সময় শেষ হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং গোসল করলে সময় চলে যাবে, তাহলে তায়াম্মুম করবে এবং নামাজ পড়বে। নামাজের পর যখন সময় হবে বা সুযোগ হবে, তখন গোসল করবে। তবে পূর্বের নামাজ পুনরায় পড়তে হবে না, কারণ সে ওযর (অজুহাত) এর কারণে তায়াম্মুম করেছে।"

(আশ-শারহুল মুমতি', ১/৩৪০)


৩. গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ও বিবরণ

ক. যদি সময় থাকে গোসল করার পর নামাজ পড়ার

যদি দেখা যায় যে, গোসল করে নামাজ পড়লে সময় থাকবে (অর্থাৎ সূর্যোদয়ের আগে অন্তত এক রাকাত পড়া যাবে), তাহলে গোসল করেই নামাজ পড়া ওয়াজিব। কারণ, পানি ব্যবহার করা সম্ভব হলে তায়াম্মুম জায়েয নয়।

খ. তায়াম্মুমের নিয়ম

তায়াম্মুমের নিয়ম:

  1. পবিত্র মাটিতে দুই হাত মারবেন
  2. মুখমণ্ডল মাসেহ করবেন
  3. দুই হাত কনুই পর্যন্ত মাসেহ করবেন

গ. নামাজের পর করণীয়

তায়াম্মুম করে নামাজ পড়ার পর, যখন সুযোগ হবে তখন ফরজ গোসল করতে হবে। তবে নামাজ পুনরায় পড়তে হবে না—এ বিষয়ে অধিকাংশ আলেম একমত।


৪. শাইখ সালেহ আল-ফাওযানের মত

শাইখ সালেহ আল-ফাওযান (হাফিজাহুল্লাহ) বলেন:

"যে ব্যক্তি জানাবাত অবস্থায় ফজরের সময় পেল এবং জানতে পারল যে, গোসল করলে সূর্যোদয় হয়ে যাবে, সে যেন তায়াম্মুম করে নামাজ পড়ে নেয়। কারণ, সময়মতো নামাজ আদায় করা অপরিহার্য। আর তায়াম্মুম হলো পবিত্রতার বিকল্প যখন পানি ব্যবহার করা সম্ভব হয় না বা ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।"

(আল-মুলাখ্খাসুল ফিকহী, ১/৮৮)


৫. সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত

| পরিস্থিতি | করণীয় | |-----------|---------| | গোসল করলে নামাজের সময় থাকবে (এক রাকাত বা তার বেশি) | গোসল করে নামাজ পড়া | | গোসল করলে সময় চলে যাবে (সূর্যোদয় হয়ে যাবে) | তায়াম্মুম করে নামাজ পড়া, পরে গোসল করা | | সময় এত কম যে তায়াম্মুম করেও নামাজ পড়া সম্ভব নয় | তায়াম্মুম করে অন্তত এক রাকাত পড়ার চেষ্টা করা; সম্ভব না হলে নামাজের নিয়ত করা এবং সময় হওয়ার পর কাযা করা |


৬. দলিলসমূহ

১. আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "দুইজন লোক সফরে বের হলো। নামাজের সময় হলে তারা পানি পেল না। তারা তায়াম্মুম করে নামাজ পড়ল। পরে সময়ের মধ্যে পানি পেয়ে গেল। তাদের একজন গোসল করে নামাজ পুনরায় পড়ল, অন্যজন পড়ল না। পরে তারা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এসে বিষয়টি জানাল। তিনি যিনি পুনরায় পড়েননি তাকে বললেন: "তুমি সুন্নাহ অনুযায়ী কাজ করেছ এবং তোমার নামাজ যথেষ্ট হয়েছে।" আর যিনি পুনরায় পড়েছেন তাকে বললেন: "তোমার জন্যও দ্বিগুণ সওয়াব আছে।" (আবু দাউদ: ৩৩৮, নাসাঈ: ৪৩২—শাইখ আল-আলবানী সহীহ বলেছেন)

২. আমর ইবনে আস (রাঃ)-এর ঘটনা—ঠান্ডা রাতে জানাবাত অবস্থায় তায়াম্মুম করে নামাজ পড়েছিলেন, যা রাসূলুল্লাহ ﷺ অনুমোদন করেছেন। (সহীহ বুখারী: ৩৩৬, সহীহ মুসলিম: ১১০)


৭. চূড়ান্ত ফতোয়া

শাইখ আব্দুল আজিজ ইবনে বায (রহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: "যদি কেউ ফজরের সময় ঘুম থেকে ওঠে এবং তার উপর গোসল ফরজ হয়, আর সময় কম থাকে, তাহলে কী করবে?"

উত্তরে তিনি বলেন:

"যদি সময় থাকে গোসল করে নামাজ পড়ার, তাহলে গোসল করবে। আর যদি সময় না থাকে, যেমন সূর্যোদয় হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে তায়াম্মুম করবে এবং নামাজ পড়বে। আল্লাহ তাআলা বলেন: 'আল্লাহ তোমাদের উপর কোনো অসুবিধা করতে চান না।' (সূরা আল-মায়িদা: ৬) আর নবী ﷺ বলেছেন: 'যদি আমি তোমাদেরকে কোনো কাজের আদেশ করি, তাহলে তোমরা তা থেকে যতটুকু সম্ভব আদায় করো।' (সহীহ বুখারী: ৭২৮৮, সহীহ মুসলিম: ১৩৩৭)"

(মাজমু' ফাতাওয়া ইবনে বায, ১০/১৮৫)


আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.