গ্রুপের সবাই মিলে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কুরআন খতম কি করা যাবে?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
২.বেতর নামাজের ৩য় ওয়াক্তে ফজর হয়ে গেলে কি করনীয়?
Answer
উত্তর দেওয়ার পূর্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ নোট: প্রশ্নে উল্লেখিত তারিখ (২০২৬) এবং প্রশ্নের ধরণ দেখে মনে হচ্ছে এটি একটি কাল্পনিক বা ভবিষ্যতের প্রশ্ন। তবে যেহেতু আপনি উত্তর চেয়েছেন, আমি ইসলামি আইন (ফিকহ) অনুযায়ী এর সমাধান দিচ্ছি। দ্বিতীয় প্রশ্নটি (বেতর ও ফজর) একটি বাস্তব এবং গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা, যার উত্তর নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো।
প্রশ্ন ১: গ্রুপে ভাগ করে কুরআন খতম করা কি জায়েজ?
উত্তর: হ্যাঁ, এই পদ্ধতিতে কুরআন খতম করা সম্পূর্ণ জায়েজ, বৈধ এবং সওয়াবের কাজ। বরং এটিকে উৎসাহিত করা হয়েছে। একে ফিকহের পরিভাষায় "খতমে কুরআন"-এর একটি সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে গণ্য করা হয়।
দলিল ও যুক্তি:
১. কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত: কুরআন তিলাওয়াত করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ইবাদত। হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি কুরআনের একটি অক্ষর পাঠ করবে, তার জন্য একটি নেকি রয়েছে, আর একটি নেকি দশ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।" (তিরমিজি, সুনানে আবু দাউদ)। গ্রুপে ভাগ করে পড়লেও প্রত্যেকে আলাদাভাবে তিলাওয়াতের সওয়াব পাবে।
২. সবাই মিলে খতমের ধারণা: ইসলামে "খতম" শব্দের অর্থ হলো সম্পূর্ণ কুরআন তিলাওয়াত করা। আপনি যে পদ্ধতির কথা বলেছেন, তাতে ৩০ জন লোক একই সপ্তাহে ৩০টি ভিন্ন ভিন্ন পারা পড়লে পুরো কুরআনটি একবার তিলাওয়াত করা হয়। এটি একটি যৌথ ইবাদত। এতে প্রত্যেকে নিজ নিজ পারা পড়ার সওয়াব পাবে এবং দোয়া ও সম্মিলিত প্রার্থনার মাধ্যমে বরকত লাভ করবে।
৩. সাহাবায়ে কেরামের আমল: সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এবং তাবেয়ীনদের থেকে এমন প্রমাণ পাওয়া যায় যে, তারা কুরআন খতমের জন্য ভাগ করে পড়তেন। বিশেষ করে রমজান মাসে তারা কুরআন খতমের বিশেষ আয়োজন করতেন। (ফাতহুল বারী, ইমাম ইবনে হাজার আসকালানি)।
৪. হানাফি ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি: হানাফি মাযহাবের প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহে (যেমন: ফাতাওয়া হিন্দিয়া, রদ্দুল মুহতার) কুরআন খতমের জন্য জামায়াতবদ্ধ হয়ে বসা এবং ভাগ করে তিলাওয়াত করা মাকরূহ নয়, বরং মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) বলা হয়েছে। তবে শর্ত হলো, সেখানে কোনো গুনাহের কাজ বা গান-বাজনা ইত্যাদি যুক্ত করা যাবে না। আপনার বর্ণিত পদ্ধতি সম্পূর্ণ পরিষ্কার এবং সহীহ।
সতর্কতা: এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য যেন শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি ও কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত লাভ হয়। কোনো প্রকার রিয়া (লোক দেখানো) বা প্রতিযোগিতা যেন না থাকে। এছাড়া যারা পড়ছেন তারা যেন সঠিক মাখরাজ ও তাজবিদের সাথে পড়ার চেষ্টা করেন।
সিদ্ধান্ত: সুতরাং, প্রশ্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে কুরআন খতম করা এবং এর উদ্যোগ নেওয়া জায়েজ, বৈধ এবং সওয়াবের কাজ।
প্রশ্ন ২: বেতর নামাজের ৩য় রাকাতে (ওয়াক্তে) ফজর হয়ে গেলে কী করণীয়?
উত্তর:
বেতর নামাজের ৩য় রাকাতে (ওয়াক্তে) ফজর হয়ে গেলে নামাযটিকে সম্পন্ন করা হবে। ঐ নামায আদায় হয়ে যাবে।
আল্লাহই ভালো জানেন।