দৈনন্দিন রুটিনে সুন্নাহ,উত্তম আখলাক,আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 4849
Questioner: Connection Error
Question Asked: 03 Sep 2026, 12:40 AM
Reviewed & Published: 03 Sep 2026, 02:37 AM
Views: 9
Tokens: 8,975
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১.আসসালামু আলাইকুম। আমি ভার্সিটির স্টুডেন্ট। সকালে ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদ পড়ি(মাঝে মাঝে মিস যায়),ফজর পড়ি,ইশরাক আর চাশত বেশিরভাগ সময়ই পড়ি না।বেশি ঘুমানো ও রাত জাগার কারণে আমার ইশরাক ও চাশত মিস যায়।ক্লাস থাকলে ক্লাসে যাই।ক্লাস শেষে রুমে রেস্ট নেই।মাগরিবের পর থেকে এশা পর্যন্ত নফল নামায পড়ি। এশার ওয়াক্তের শুরুতে রাত আটটায় কুরআন ক্লাস করি।কুরআন ক্লাস শেষে কুরআন শেখাই মেয়েদের।এশার সালাত পড়ি। সব মিলায়ে ঘুমাতে আমার ১ টা মতো বেজে যায়।এটা নিয়ে আমি খুবই হতাশ কারণ আমার ঘুম ১০/১১ ঘণ্টা না ঘুমালে হয় না।লেট করে ঘুমানোয় আমার ইশরাক চাশত মিস হয়।আমি কিভাবে আমার দৈনন্দিন রুটিন সাজাবো যেটা সুন্নাহ অনুযায়ী হবে?ঘুম থেকে উঠা থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত আমার একটা সুন্নাহভিত্তিক রুটিন দিলে আমার উপকার হতো।আর আমি এই দেরী ঘুমানোর জন্য ডিপ্রেসড হয়ে যাই।
২.উত্তম আখলাক কি?কিভাবে আখলাককে উত্তম করব?ইন ডিটেইলস গাইডলাইন চাই উদাহরণ সহ ।কোন কোন ক্ষেত্রে আখলাক কিরকম হবে সব।কারোর প্রতি রাগ উঠলে যদি আমি আল্লাহ অপছন্দ করেন বলে না দেখাই বা রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগ করে কথা বলতেন না ভেবে যদি রাগ মনের মাঝেই রাখি সেটা কি উত্তম আখলাক হবে?
৩.অসৎ কাজে বাঁধা দিতে বলা হয়েছে। আবার সুধারণা ও করতে বলা হয়েছে। দুইটা ব্যালান্স কিভাবে করব? উদাহরণ সহ বুঝিয়ে দিলে ভালো হয়। একজনকে একটা খারাপ কাজ করতে দেখছিই,ইন্সট্যান্ট সুধারণা কিভাবে করব?

Answer

উত্তর:

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে দ্বীনি আমল ও পড়াশোনার মধ্যে সমন্বয় করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। আসুন, আমরা কুরআন-সুন্নাহ এবং হানাফি ফিকহের আলোকে আপনার প্রতিটি প্রশ্নের সমাধান করার চেষ্টা করি।


১. সুন্নাহভিত্তিক দৈনন্দিন রুটিন ও ঘুমের সমস্যা

আপনি যে সমস্যায় ভুগছেন—অতিরিক্ত ঘুম (১০-১১ ঘণ্টা) এবং দেরিতে ঘুমানোর কারণে ইশরাক ও চাশতের নামাজ মিস হওয়া—এটি একটি সাধারণ সমস্যা। ইসলাম ঘুমকে একটি নেয়ামত হিসেবে ঘোষণা করেছে, কিন্তু অলসতা ও বাড়াবাড়িকে অপছন্দ করেছে।

ক. ঘুমের পরিমাণ ও সময় সম্পর্কে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি:

১. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ঘুম ছিল পরিমিত। তিনি ইশার পরপরই ঘুমাতেন এবং রাতের শেষ ভাগে (তাহাজ্জুদের সময়) জেগে উঠতেন। ২. হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা প্রথম রাতের (ইশার পর) ঘুমকে সুন্নত মনে করো, কারণ সাহাবায়ে কিরাম ইশার পর কথা বলাকে অপছন্দ করতেন।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৪৭) ৩. তবে, আধুনিক যুগের শিক্ষার্থীদের জন্য রাত জেগে পড়াশোনা করা বা কুরআন ক্লাস করা জরুরি হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে ফিকহবিদরা বলেছেন, প্রয়োজনে রাত জাগা যেতে পারে, তবে ফজরের নামাজ ও তাহাজ্জুদ যেন মিস না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

খ. আপনার জন্য একটি সুন্নাহ-সম্মত রুটিনের খসড়া:

আপনার ব্যস্ততা (ক্লাস, কুরআন ক্লাস, কুরআন শেখানো) বিবেচনা করে একটি বাস্তবসম্মত রুটিন নিচে দেওয়া হলো। মনে রাখবেন, রুটিন এমন হতে হবে যা আপনি দীর্ঘদিন ধরে রাখতে পারবেন।

| সময় | কাজ | দলিল/উপকারিতা | | :--- | :--- | :--- | | রাত ১০:৩০ - ১১:০০ | ঘুমাতে যাওয়া (যদি সম্ভব হয়, ইশার পরপরই) | রাসূলুল্লাহ (সা.) ইশার পর দুনিয়ার কথা বলতে অপছন্দ করতেন। (সহিহ বুখারি) | | ভোর ৪:০০ - ৪:৩০ | তাহাজ্জুদ ও ফজরের জন্য ওঠা | আল্লাহ তাআলা বলেন: "রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ পড়ুন, এটি আপনার জন্য অতিরিক্ত।" (সূরা বনী ইসরাইল: ৭৯) | | ভোর ৪:৩০ - ৫:০০ | তাহাজ্জুদ, দোয়া ও ইস্তিগফার | এই সময় দোয়া কবুল হয়। | | ভোর ৫:০০ - ৫:৩০ | সেহরি/হালকা নাস্তা (যদি রোজা থাকে) ও ফজরের আযান | | | ভোর ৫:৩০ - ৬:০০ | ফজরের নামাজ ও সকালের যিকির (আসকার) | ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত যিকির করা সুন্নত। | | সকাল ৬:৩০ - ৭:০০ | সূর্যোদয়ের ১৫-২০ মিনিট পর ইশরাকের নামাজ | হাদিসে আছে, যে ব্যক্তি ফজরের পর বসে যিকির করে তারপর ২ রাকাত নামাজ পড়ে, তার একটি হজ ও ওমরার সওয়াব হয়। (তিরমিজি) | | সকাল ৭:০০ - ৮:০০ | ক্লাস/পড়াশোনা শুরু | | | দুপুর ১২:০০ - ১:০০ | যোহরের নামাজ ও দুপুরের খাবার | | | দুপুর ১:০০ - ৩:০০ | কুনুতুল্লাহ (দুপুরের ঘুম) | রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা সাহরির খাবার খাও, কারণ সাহরিতে বরকত আছে এবং দুপুরে ঘুমাও (কাইলুলা), কারণ দুপুরের ঘুম রাতের ইবাদতে সাহায্য করে।" (ইবনে মাজাহ) | | বিকাল ৩:০০ - ৪:৩০ | আসরের নামাজ ও পড়াশোনা | | | সন্ধ্যা ৬:৩০ - ৭:০০ | মাগরিবের নামাজ ও মাগরিবের পর নফল | মাগরিবের পর থেকে এশা পর্যন্ত নফল নামাজের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। | | রাত ৮:০০ - ৯:০০ | কুরআন ক্লাস | | | রাত ৯:০০ - ১০:০০ | কুরআন শেখানো ও এশার নামাজ | | | রাত ১০:৩০ | ঘুমাতে যাওয়া | |

গ. ঘুম কমানোর বাস্তব সমাধান:

১. ধীরে ধীরে ঘুম কমান: আপনি যদি ১১ ঘণ্টা ঘুমান, তবে হঠাৎ করে ৬ ঘণ্টায় নামিয়ে আনবেন না। প্রথম সপ্তাহে ৯ ঘণ্টা, দ্বিতীয় সপ্তাহে ৮ ঘণ্টা, তৃতীয় সপ্তাহে ৭ ঘণ্টা করার চেষ্টা করুন। ২. রাত ১১টার মধ্যে ঘুমানো জরুরি: রাত ১১টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত ঘুম শরীরের জন্য সবচেয়ে উপকারী। এই সময় ঘুমালে ৬ ঘণ্টার ঘুমই ৮ ঘণ্টার সমান কার্যকর হয়। তাই রাত ১১টার মধ্যে ঘুমাতে পারলে সকাল ৫টায় উঠা সহজ হবে। ৩. ক্যাফেইন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস এড়িয়ে চলুন: ঘুমানোর ১ ঘণ্টা আগে মোবাইল, ল্যাপটপ ব্যবহার বন্ধ করুন। চা/কফি বিকাল ৪টার পরে না খাওয়াই ভালো। ৪. হতাশ না হয়ে দোয়া করুন: ঘুম নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছেন না বলে হতাশ হবেন না। এটি একটি অভ্যাসগত সমস্যা, ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়াটি পড়ুন: "আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা ফিহা..." (অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে এই রাতের কল্যাণ এবং এতে যা আছে তার কল্যাণ প্রার্থনা করছি।)


২. উত্তম আখলাক (আখলাকে হাসানা) কী এবং কীভাবে অর্জন করব?

ক. উত্তম আখলাকের সংজ্ঞা:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেই বলেছেন: "আমি উত্তম আখলাকের পূর্ণতা দান করার জন্যই প্রেরিত হয়েছি।" (মুয়াত্তা মালিক)

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ রাদ্দুল মুহতার-এ আখলাকের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: "আখলাক হলো মানুষের অন্তরের এমন একটি অবস্থা, যা থেকে ভালো-মন্দ কাজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রকাশ পায়, কোনো চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন হয় না।"

সহজ ভাষায়, উত্তম আখলাক হলো সেই চারিত্রিক গুণাবলি, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) পছন্দ করেন। যেমন: সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা, ক্ষমাশীলতা, বিনয়, দানশীলতা, ধৈর্য, এবং কারো প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ না রাখা।

খ. উত্তম আখলাক অর্জনের উপায় (বিস্তারিত গাইডলাইন):

১. আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে আদর্শ বানানো: আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে।" (সূরা আহযাব: ২১) ২. আত্মশুদ্ধি (তাযকিয়ায়ে নফস): কুরআন মাজিদে আল্লাহ বলেন: "সে সফলকাম হয়েছে, যে নিজেকে শুদ্ধ করেছে।" (সূরা শামস: ৯) ৩. ভালো সঙ্গী নির্বাচন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "মানুষ তার বন্ধুর ধর্ম অনুসরণ করে। তাই তোমাদের প্রত্যেকে যেন দেখে, সে কাকে বন্ধু বানাচ্ছে।" (আবু দাউদ, তিরমিজি) ৪. ক্ষমা ও সহনশীলতা: কুরআনে আল্লাহ বলেছেন: "তারা যারা ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষের প্রতি ক্ষমা করে। আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।" (সূরা আলে ইমরান: ১৩৪)

গ. রাগ নিয়ে আপনার প্রশ্নের উত্তর:

আপনি জিজ্ঞেস করেছেন, "কারো প্রতি রাগ উঠলে যদি আমি আল্লাহ অপছন্দ করেন বলে না দেখাই বা রাসূলুল্লাহ (সা.) রাগ করে কথা বলতেন না ভেবে যদি রাগ মনের মাঝেই রাখি, সেটা কি উত্তম আখলাক হবে?"

উত্তর: হ্যাঁ, রাগ চেপে রাখা এবং তা প্রকাশ না করা উত্তম আখলাকের অংশ। তবে, রাগকে অন্তরে জমা না রেখে তা দূর করার চেষ্টা করা আরও উত্তম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাগ দমন করার উপায় শিখিয়েছেন:

  • "রাগ করলে দাঁড়ানো অবস্থায় থাকলে বসে পড়ো, তবুও রাগ না গেলে শুয়ে পড়ো।" (আবু দাউদ)
  • "রাগ করলে 'আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম' পড়ো।" (সহিহ বুখারি)
  • রাগের সময় অজু করো। কারণ রাগ শয়তানের আগুন থেকে আসে, আর পানি আগুন নিভিয়ে দেয়। (আবু দাউদ)

তবে, মনে রাখবেন, রাগকে অন্তরে চেপে রাখা এবং ক্ষমা করে দেওয়া (যা আল্লাহর জন্য হয়) এর মধ্যে পার্থক্য আছে। আপনি যদি কারো প্রতি রাগ করে থাকেন, তবে তার জন্য দোয়া করুন, তাকে ক্ষমা করে দিন। এটিই উত্তম আখলাক। রাগ পুষে রাখা অন্তরের রোগ, যা ধীরে ধীরে হিংসা ও বিদ্বেষের জন্ম দেয়।


৩. "আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার" এবং "সুধারণা" এর মধ্যে ভারসাম্য

আপনি কুরআনের দুটি নির্দেশের কথা উল্লেখ করেছেন:

  • আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার: ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা। (সূরা আলে ইমরান: ১০৪)
  • সুধারণা (হুসনে যান): আল্লাহ তাআলা বলেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই কিছু ধারণা গুনাহ।" (সূরা হুজুরাত: ১২)

এ দুটির মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে করবেন?

এখানে মূল বিষয় হলো উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি

১. উদ্দেশ্য: নিষেধ করার উদ্দেশ্য হতে হবে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং ভুলকারী ব্যক্তির কল্যাণ কামনা। তাকে ছোট করা বা নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা নয়। ২. পদ্ধতি: নিষেধ করতে হবে অত্যন্ত নম্রভাবে, গোপনীয়ভাবে এবং কোমল ভাষায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।" (সহিহ বুখারি)

আপনার উদাহরণটি বিশ্লেষণ করি:

"একজনকে একটা খারাপ কাজ করতে দেখছিই, ইন্সট্যান্ট সুধারণা কিভাবে করব?"

উত্তর: আপনি যদি কাউকে সরাসরি খারাপ কাজ (যেমন: মিথ্যা বলা, গিবত করা, অন্যায়ভাবে কাউকে মারধর করা) করতে দেখেন, তাহলে সেখানে "সুধারণা" করার অবকাশ নেই। কারণ, আপনি চোখের সামনে গুনাহটি দেখেছেন। এখানে আপনার কর্তব্য হলো:

১. প্রথমে তাকে গোপনে নসীহত করা: তাকে একান্তে ডেকে বলুন, "ভাই, আমি আপনাকে ভালোবাসার কারণে বলছি, আপনি যে কাজটি করছেন, সেটি ইসলামে নিষিদ্ধ। আল্লাহর জন্য হলেও কাজটি ছেড়ে দিন।" ২. সুধারণা কোথায় প্রযোজ্য? সুধারণা সেক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যখন আপনি নিশ্চিত নন যে কাজটি খারাপ কিনা, অথবা কারো সম্পর্কে কোনো খারাপ কথা শুনেছেন কিন্তু নিশ্চিত নন। তখন তার সম্পর্কে ভালো ধারণা পোষণ করবেন। যেমন: কাউকে কোনো মুসলিম ভাইয়ের সাথে ঝগড়া করতে দেখলেন। আপনি জানেন না কে আগে শুরু করেছে। তখন আপনার উচিত উভয়ের ব্যাপারে সুধারণা রাখা এবং তাদের মধ্যে মীমাংসা করার চেষ্টা করা। ৩. যদি কেউ প্রকাশ্যে গুনাহ করে: ইসলামী আইন (ফিকহ) অনুযায়ী, যদি কেউ প্রকাশ্যে (সবার সামনে) গুনাহ করে, তাহলে তাকে প্রকাশ্যেও নিষেধ করা যেতে পারে। তবে, যদি কেউ গোপনে গুনাহ করে, তাহলে তাকে গোপনে নসীহত করা ফরজ। (ফাতাওয়া আলমগীরি)

মনে রাখবেন: নবী (সা.) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো মন্দ কাজ দেখে, সে যেন তা নিজ হাতে (ক্ষমতা থাকলে) দূর করে, যদি না পারে তাহলে মুখে (ভালো কথা বলে) নিষেধ করে, আর যদি তাও না পারে তাহলে মনে মনে ঘৃণা করে। আর এটি হলো ঈমানের সবচেয়ে দুর্বল স্তর।" (সহিহ মুসলিম)


উপসংহার ও দোয়া

আপনি দ্বীনের পথে চলতে চান, পড়াশোনা করতে চান, আবার মানুষের কাছে দ্বীন পৌঁছাতে চান—এটি সত্যিই প্রশংসনীয়। হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরুন। রুটিন একদিনে তৈরি হয় না। ছোট ছোট ধাপে এগিয়ে যান। আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: "আল্লাহর কাছে সেই সব কাজ সবচেয়ে প্রিয়, যা সামান্য হলেও নিয়মিত করা হয়।" (সহিহ বুখারি)

আল্লাহ তাআলা আপনাকে উত্তম আখলাক দান করুন, আপনার রুটিনকে সুন্নাহসম্মত করুন এবং আপনার জ্ঞান ও আমলে বরকত


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.