উমরাহ করার উদ্দেশ্য মহিলাদের ইহরাম বাধার পুরো নিয়ম সহিহ ভাবে জানতে চাই?
Hajj and Umrah · Hanafi
Question No:
4845
Questioner:
Nusrat Jahan
Question Asked:
03 Sep 2026, 12:17 AM
Reviewed & Published:
03 Sep 2026, 05:59 AM
Views:
19
Tokens:
2,843
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আসসালামু আলাইকুম।
উমরাহ করার উদ্দেশ্য মহিলাদের ইহরাম বাধার পুরো নিয়ম সহিহ ভাবে জানতে চাই। গোসল করার পর কি কি স্টেপ ফলো করা লাগে?
উমরাহ করার উদ্দেশ্য মহিলাদের ইহরাম বাধার পুরো নিয়ম সহিহ ভাবে জানতে চাই। গোসল করার পর কি কি স্টেপ ফলো করা লাগে?
Answer
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। নিম্নে হানাফি মাযহাবের আলোকে মহিলাদের উমরাহর ইহরাম বাঁধার পূর্ণাঙ্গ নিয়ম বর্ণনা করা হলো:
মহিলাদের ইহরাম বাঁধার নিয়ম
মহিলাদের জন্য ইহরামের নিয়ম মূলত পুরুষদের মতোই, তবে কিছু বিশেষ পার্থক্য রয়েছে। নিচে ধাপে ধাপে বর্ণনা করা হলো:
১. প্রস্তুতি (গোসল ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা)
- উমরাহর নিয়তে মীকাতের (সীমারেখা) আগে থেকেই গোসল করা মুস্তাহাব। গোসল সম্ভব না হলে অজু করলেও চলবে।
- গোসলের পর শরীরের অবাঞ্ছিত লোম (যেমন: বগল, নাভির নিচে) পরিষ্কার করা এবং নখ কাটা মুস্তাহাব। তবে মাথার চুল কাটা বা আঁচড়ানোর সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনো চুল না ভাঙে বা পড়ে না যায়, কারণ ইহরাম অবস্থায় চুল পড়া মাকরূহ।
২. ইহরামের কাপড় (পোশাক)
- মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ইহরামের কাপড় নেই। তারা তাদের স্বাভাবিক সেলাই করা পোশাক (যেমন: শাড়ি, বোরকা, সালোয়ার-কামিজ) পরতে পারবে। তবে শর্ত হলো:
- পোশাকটি হবে পুরোপুরি ঢাকা (পুরুষের নিকট অমাহরাম থাকলে মুখমণ্ডল ও হাতের তালু ছাড়া সারা শরীর ঢাকা)।
- পোশাকটি পবিত্র হতে হবে।
- সেলাইবিহীন কাপড় পরা জরুরি নয়।
- খেয়াল রাখতে হবে, পোশাক যেন শরীরে এমনভাবে লেগে না থাকে যা শরীরের গঠন প্রকাশ করে (অর্থাৎ খুব টাইট বা পাতলা কাপড় পরা যাবে না)।
- মোজা ও জুতা: মহিলারা ইহরাম অবস্থায় মোজা ও জুতা পরতে পারবেন। পুরুষদের মতো খোলা জুতা পরা জরুরি নয়।
- মুখমণ্ডল ও হাত: ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য মুখমণ্ডল ও হাতের তালু খোলা রাখা সুন্নত, তবে অমাহরাম পুরুষের সামনে গেলে মুখমণ্ডল ঢেকে নেওয়া ফরজ (ওয়াজিব)।
৩. নিয়ত (ইহরাম বাঁধা)
- গোসল ও পোশাক পরার পর উমরাহর নিয়ত করতে হবে। নিয়তের সময় মনে মনে সংকল্প করতে হবে: "হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য উমরাহর ইহরাম বাঁধছি।"
- নিয়তের সময় মুখে উচ্চারণ করা বা দোয়া পড়া জরুরি নয়, তবে পড়লে সওয়াব বেশি। নিয়তের পর নিম্নের দোয়াটি পড়া মুস্তাহাব:
- لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ (লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি'মাতা লাকা ওয়াল মূলক, লা শারিকা লাক)।
- তবে মহিলাদের জন্য উচ্চস্বরে তালবিয়া (লাব্বাইক...) পড়া নিষিদ্ধ, তারা চুপে চুপে বা নিচু স্বরে পড়বে।
৪. ইহরামের পর করণীয়
- নিয়ত করার পর থেকে ইহরামের সমস্ত বিধিনিষেধ (নিষিদ্ধ কাজ) মেনে চলতে হবে। যেমন: সুগন্ধি ব্যবহার না করা, স্বামীর সাথে সহবাস না করা, ঝগড়া-বিবাদ না করা, চুল-নখ না কাটা ইত্যাদি।
- মহিলাদের জন্য ইহরাম অবস্থায় মাথায় কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা জায়েজ, তবে চেহারা ঢেকে রাখা যাবে না (অমাহরাম ছাড়া)।
৫. উমরাহর ধাপসমূহ
ইহরাম বাঁধার পর উমরাহ সম্পন্ন করতে হলে:
- তাওয়াফ: কাবা শরিফকে বাম দিকে রেখে ৭ বার তাওয়াফ করতে হবে। তাওয়াফের সময় ইহরামের কাপড়ে কাঁধ ও বাহু খোলা রাখা (ইজতিবা) পুরুষদের জন্য সুন্নত, মহিলাদের জন্য নয়।
- সাঈ: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে ৭ বার সাঈ করতে হবে।
- হালক বা তাকসির: উমরাহ শেষে মাথার চুল ছোট করা বা কামানো। মহিলাদের জন্য চুল কামানো নিষিদ্ধ, তারা শুধু চুলের আগার সামান্য অংশ (এক আঙুল পরিমাণ) কাটবে। এরপর ইহরাম খুলে যায় এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করা যায়।
গুরুত্বপূর্ণ নোট (হানাফি ফিকহের আলোকে)
- ইহরামের কাপড়: মহিলাদের জন্য সেলাই করা কাপড় পরা জায়েজ, এমনকি রেশমি কাপড়ও পরা জায়েজ (যদি তা শরীর ঢাকার জন্য হয়)। তবে রঙিন ও আকর্ষণীয় পোশাক পরা মাকরূহ।
- মুখমণ্ডল: ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য মুখমণ্ডল খোলা রাখা সুন্নত, তবে পর্দার প্রয়োজন হলে (অমাহরামের সামনে) মুখমণ্ডল ঢেকে নেওয়া ফরজ। এক্ষেত্রে এমন কাপড় দিয়ে ঢাকবে যা মুখে লাগবে না (যেমন: বোরকার কাপড়)।
- গোসল: ইহরাম অবস্থায় গোসল করা জায়েজ, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন গোসলের সময় চুল না ভাঙে বা সুগন্ধি সাবান ব্যবহার না করা হয়।
রেফারেন্স:
- আল-হিদায়াহ: ১/২২৪ (ইহরামের বিবরণ)
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): ২/৪৭৩-৪৭৫ (মহিলাদের ইহরামের বিধান)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২২২ (মহিলাদের ইহরাম)
- বাহিশ্তি জেওর: ১/৩৩৪-৩৩৫ (ইহরামের নিয়ম)
- ফাতাওয়া উসমানি: ২/৩৮১-৩৮২
আল্লাহ তায়ালা আপনার উমরাহ কবুল করুন এবং সহজ করে দিন। আমিন।