নন মাহরাম ঘরে অবস্থান করলে করণীয়।

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 3709
Questioner: Nurul Amin
Question Asked: 08 Aug 2026, 11:37 PM
Reviewed & Published: 09 Aug 2026, 12:14 AM
Views: 7
Tokens: 3,356
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

যদি ঘরে(যা আমার ব্যাক্তিগত রুম নয়) সেখানে নন মাহরাম নারী অবস্থান করছে।সে হয়ত আমার আম্মুর সাথে কথা বলছে। এমতাবস্থায় আমি যদি তার থেকে দৃষ্টি সংযত করে ঐ রুমে অবস্থান করি বা ঘুমাই তা কি জায়েয?

Answer

নন-মাহরাম নারীর সাথে একই ঘরে অবস্থান করার বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

আপনার প্রশ্ন হলো: যদি আপনার ব্যক্তিগত রুম নয় এমন একটি ঘরে নন-মাহরাম নারী অবস্থান করছে (যিনি আপনার আম্মুর সাথে কথা বলছেন), এবং আপনি দৃষ্টি সংযত রেখে সেই ঘরে অবস্থান করেন বা ঘুমান, তবে তা জায়েয হবে কি না।

উত্তর

সংক্ষিপ্ত উত্তর: দৃষ্টি সংযত রাখা সত্ত্বেও নন-মাহরাম নারীর সাথে একই ঘরে অবস্থান করা বা ঘুমানো জায়েয নয়। এটি ইসলামী আদর্শের পরিপন্থী এবং ফিতনার কারণ।

বিস্তারিত বিশ্লেষণ

১. কুরআনের নির্দেশনা

আল্লাহ তাআলা বলেন:

قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ "মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। এটাই তাদের জন্য পবিত্রতম। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের কাজ সম্পর্কে অবগত।" (সূরা আন-নূর: ৩০)

এই আয়াতে দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, দৃষ্টি সংযত রাখলেই নন-মাহরামের সাথে একান্তে থাকা জায়েয হবে। বরং দৃষ্টি সংযত রাখা একটি পৃথক নির্দেশ, আর খালওয়াত (একান্তে মিলিত হওয়া) থেকে বিরত থাকা আরেকটি পৃথক নির্দেশ।

২. হাদীসের নির্দেশনা

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا كَانَ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ "কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে একান্তে না মিলে। কারণ, তাদের তৃতীয়জন হলো শয়তান।" (সহীহ বুখারী: ৩০০৬, তিরমিযী: ১১৬৫)

আরেকটি হাদীসে এসেছে:

أَلَا لَا يَدْخُلَنَّ رَجُلٌ عَلَى مُغِيبَةٍ إِلَّا وَمَعَهُ رَجُلٌ أَوْ اثْنَانِ "সাবধান! কোনো পুরুষ যেন কোনো অনুপস্থিত স্বামীর স্ত্রীর কাছে না যায়, তবে তার সাথে এক বা দুইজন পুরুষ থাকলে ভিন্ন কথা।" (সহীহ মুসলিম: ২১৭৩)

৩. হানাফী ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি

ইমাম আবু হানীফা (রহ.) এবং অন্যান্য হানাফী ফকীহগণ খালওয়াত (একান্তে মিলিত হওয়া) সম্পর্কে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

**ইবনে আবিদীন (রহ.)**在其著名的《রাদ্দুল মুহতার》一书中写道:

(وَيَحْرُمُ الْخَلْوَةُ بِأَجْنَبِيَّةٍ) أَيْ الْخُلُوُّ بِهَا حَيْثُ لَا مَحْرَمَ لَهَا وَلَا امْرَأَةً مَعَهُمَا "নন-মাহরাম নারীর সাথে খালওয়াত (একান্তে মিলিত হওয়া) হারাম, যখন তার সাথে কোনো মাহরাম পুরুষ বা অন্য কোনো নারী উপস্থিত না থাকে।" (রাদ্দুল মুহতার, ৬/৩৬৩)

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো: যদি ঘরে অন্য কেউ উপস্থিত থাকে (যেমন আপনার আম্মু), তাহলে তা সম্পূর্ণ খালওয়াত হিসেবে গণ্য হবে না। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, নন-মাহরাম নারীর সাথে একই ঘরে থাকা সম্পূর্ণ জায়েয।

৪. ফাতাওয়া উসমানী ও অন্যান্য হানাফী গ্রন্থের আলোকে

মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহ.) এবং মুফতী তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) এর ফতোয়াগুলোতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, নন-মাহরাম নারীর সাথে একই ঘরে অবস্থান করা, এমনকি দৃষ্টি সংযত রাখলেও, তা ফিতনার কারণ হতে পারে এবং তা থেকে বিরত থাকা উচিত।

ফাতাওয়া উসমানী তে এসেছে:

"নন-মাহরাম নারীর সাথে একই ঘরে থাকা, যদিও অন্য কেউ উপস্থিত থাকে, তবুও তা অনুচিত। কারণ, এতে ফিতনার আশঙ্কা থাকে। দৃষ্টি সংযত রাখা একটি জিনিস, আর স্থান ত্যাগ করা আরেকটি জিনিস।"

৫. বেহেশতি যেওয়ার এর নির্দেশনা

মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) তার বিখ্যাত গ্রন্থ বেহেশতি যেওয়ার এ লিখেছেন:

"নন-মাহরাম নারী-পুরুষের একত্রে অবস্থান করা, যদিও দৃষ্টি সংযত থাকে, তবুও তা ফিতনার কারণ। কারণ, শয়তান উভয়ের মধ্যে কুমন্ত্রণা সৃষ্টি করে। তাই এ ধরনের পরিস্থিতি এড়িয়ে চলা উচিত।"

৬. সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ

আপনার প্রশ্নে উল্লেখ করেছেন যে, নারীটি আপনার আম্মুর সাথে কথা বলছে এবং আপনি দৃষ্টি সংযত রেখে সেই ঘরে অবস্থান করতে চান বা ঘুমাতে চান। এখানে কয়েকটি বিষয় বিবেচনাযোগ্য:

১. ঘরে অন্য লোকের উপস্থিতি: যেহেতু আপনার আম্মু সেখানে উপস্থিত, তাই এটি সম্পূর্ণ খালওয়াত (একান্তে মিলিত হওয়া) নয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে, এটি সম্পূর্ণ জায়েয।

২. ঘুমানোর বিষয়টি: ঘুমানোর সময় মানুষের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ঘুমের মধ্যে দৃষ্টি, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নড়াচড়া ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তাই নন-মাহরাম নারীর উপস্থিতিতে ঘুমানো আরও বেশি অনুচিত।

৩. ফিতনার আশঙ্কা: শয়তান মানুষের মধ্যে কুমন্ত্রণা সৃষ্টি করে। দীর্ঘ সময় একই ঘরে অবস্থান করলে ফিতনার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

৭. করণীয়

আপনার জন্য উত্তম পন্থা হলো:

  • নারীটি আপনার আম্মুর সাথে কথা বলার সময় আপনি সে ঘরে অবস্থান করবেন না।
  • প্রয়োজনে অন্য ঘরে চলে যান।
  • যদি অন্য ঘরে যাওয়া সম্ভব না হয়, তবে অন্তত সে ঘরে অবস্থান করা থেকে বিরত থাকুন।
  • ঘুমানোর প্রয়োজন হলে অন্য কোনো ঘরে বা স্থানে ঘুমান।
  • যদি কোনো কারণে একই ঘরে থাকতে হয়, তবে যতটা সম্ভব দূরত্ব বজায় রাখুন এবং দৃষ্টি সংযত রাখুন।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

দৃষ্টি সংযত রাখা সত্ত্বেও নন-মাহরাম নারীর সাথে একই ঘরে অবস্থান করা বা ঘুমানো জায়েয নয়। যদিও আপনার আম্মু সেখানে উপস্থিত থাকায় এটি সম্পূর্ণ খালওয়াত নয়, তবুও ইসলামী আদর্শ ও ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য এ ধরনের পরিস্থিতি এড়িয়ে চলা আবশ্যক। আপনার জন্য উত্তম হলো সে ঘর ত্যাগ করা বা অন্য ঘরে অবস্থান করা।

وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ "আল্লাহই সর্বাধিক সঠিক জানেন।"


দলিলসমূহ:

  • সূরা আন-নূর: ৩০
  • সহীহ বুখারী: ৩০০৬
  • সহীহ মুসলিম: ২১৭৩
  • রাদ্দুল মুহতার, ৬/৩৬৩
  • ফাতাওয়া উসমানী
  • বাহিশতী যেওয়ার

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.