১৫ দিনের আগে রক্তস্রাব আসলে করণীয় কি? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question No:
3671
Questioner:
Binte Mizanur
Question Asked:
08 Aug 2026, 01:37 PM
Reviewed & Published:
08 Aug 2026, 01:50 PM
Views:
29
Tokens:
4,159
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আসসালামু আলাইকুম
সম্মানিত উস্তাজ,
আমার একটা মাসয়ালা জানার ছিলো,,,,
গত মাসের আগের মাসে পিরিয়ড হওয়ার পর গত মাসে একটু দেরীতে পিরিয়ড হয় তুলনামূলক। সাধারণত ৩০ দিন গ্যাপেই হয় আর ৫/৬ দিন হয় কিন্তু গতমাসে ৪০+ দিন পরে হয় এবং মাত্র ৩ দিন ফ্লো খুবই কম হয়। এরপর ১৩ দিন পর পুনরায় এ মাসে পিরিয়ড হয়,,,কিন্তু এবার ফ্লো ঠিকাছে মোটামুটি আলহামদুলিল্লাহ। আমি একজায়গায় দেখেছি ১৫ দিনের আগে পিরিয়ড হলে তা অসুস্থতা এবং নামাজ তিলাওয়াত সব ঠিক থাকবে। কিন্তু প্রথমবার ফ্লো ঠিক না থাকায় এবারে ফ্লো তুলনামূলক হওয়ায় আমি কনফিউজড হয়ে গিয়েছি। আমার ক্ষেত্রে কি হুকুম কি হবে?
জাজাকুমুল্লাহু খইর
সম্মানিত উস্তাজ,
আমার একটা মাসয়ালা জানার ছিলো,,,,
গত মাসের আগের মাসে পিরিয়ড হওয়ার পর গত মাসে একটু দেরীতে পিরিয়ড হয় তুলনামূলক। সাধারণত ৩০ দিন গ্যাপেই হয় আর ৫/৬ দিন হয় কিন্তু গতমাসে ৪০+ দিন পরে হয় এবং মাত্র ৩ দিন ফ্লো খুবই কম হয়। এরপর ১৩ দিন পর পুনরায় এ মাসে পিরিয়ড হয়,,,কিন্তু এবার ফ্লো ঠিকাছে মোটামুটি আলহামদুলিল্লাহ। আমি একজায়গায় দেখেছি ১৫ দিনের আগে পিরিয়ড হলে তা অসুস্থতা এবং নামাজ তিলাওয়াত সব ঠিক থাকবে। কিন্তু প্রথমবার ফ্লো ঠিক না থাকায় এবারে ফ্লো তুলনামূলক হওয়ায় আমি কনফিউজড হয়ে গিয়েছি। আমার ক্ষেত্রে কি হুকুম কি হবে?
জাজাকুমুল্লাহু খইর
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন—ইসলামি ফিকহে হায়েজ (মাসিক) ও ইস্তিহাযা (অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ)-এর মধ্যে পার্থক্য বোঝা।
হায়েজের ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ সময়সীমা (হানাফি মাযহাব):
- ন্যূনতম সময়: ৩ দিন (৭২ ঘণ্টা)।
- সর্বোচ্চ সময়: ১০ দিন (২৪০ ঘণ্টা)।
- সাধারণ চক্র: ৩০ দিনের ব্যবধান, তবে এটি কমবেশি হতে পারে।
(সূত্র: আল-হিদায়াহ, রদ্দুল মুহতার ১/২৮৩)
আপনার ক্ষেত্রে বিধান:
১. গত মাসে ৪০+ দিন পর পিরিয়ড শুরু হয়ে মাত্র ৩ দিন ফ্লো কম থাকা:
- যেহেতু ৩ দিন হায়েজের ন্যূনতম সময়সীমা পূরণ করে, তাই এটি হায়েজ হিসেবেই গণ্য হবে।
- তবে ৩ দিনের পর রক্ত বন্ধ হয়ে গেলে গোসল করে নামাজ, রোজা ইত্যাদি শুরু করতে হবে।
২. ১৩ দিন পর পুনরায় রক্ত আসা:
- হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, হায়েজের সর্বোচ্চ সময়সীমা ১০ দিন।
- আপনার ক্ষেত্রে প্রথম পিরিয়ড ৩ দিন স্থায়ী হয়েছিল, এরপর ১৩ দিন পবিত্র ছিলেন।
- ১৩ দিন পবিত্র থাকার পর নতুন করে রক্ত আসা—এটি পূর্বের রক্তস্রাবের ধারাবাহিকতা নয়, বরং নতুন রক্তস্রাব হিসেবে গণ্য হবে।
- কারণ, ১৫ দিনের কম ব্যবধানে আসা রক্ত (পবিত্রতা ১৫ দিনের কম হলে) তা পূর্বের হায়েজের সাথে যুক্ত হয় না, বরং ইস্তিহাযা (অস্বাভাবিক রক্ত) হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং যেহেতু আপনি ১৩ দিন পবিত্র ছিলেন, যা ১৫ দিনের কম, তাই এই রক্ত ইস্তিহাযা বলে গণ্য হবে। হ্যা, পূর্বের হায়েয থেকে ১৫ দিন পর যদি রক্তস্রাব আসে, এবং তা তিনদিন তিনরাত স্থায়ী হয়, তাহলে এই রক্তস্রাব হায়েয হিসেবে গণ্য হবে।
বিস্তারিত:
- হানাফি ফিকহের নিয়ম হলো—দুটি হায়েজের মধ্যে ন্যূনতম ১৫ দিন পবিত্রতা আবশ্যক।
- যদি ১৫ দিনের কম ব্যবধানে রক্ত আসে, তবে তা ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে এবং নামাজ, রোজা, তিলাওয়াত সব বৈধ থাকবে।
- (সূত্র: রদ্দুল মুহতার ১/২৮৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৬)
৩. এ মাসে আবার পিরিয়ড শুরু হলে:
- যেহেতু আপনি ১৩ দিন পর রক্ত দেখেছেন, এটি ইস্তিহাযা।
- তাই এই রক্ত আসার সময়ও নামাজ, রোজা, কুরআন তিলাওয়াত করা যাবে।
- তবে ইস্তিহাযার রক্ত থাকা অবস্থায় ওযু করে নামাজ পড়তে হবে (প্রতিটি নামাজের জন্য নতুন ওযু)।
আপনার জন্য করণীয়:
- গত মাসের ৩ দিনের রক্ত—হায়েজ, এরপর গোসল করে নামাজ শুরু করুন।
- ১৩ দিন পর আসা রক্ত—ইস্তিহাযা, তাই এটি হায়েজ নয়। নামাজ, রোজা, তিলাওয়াত চলবে। তবে পূর্বের হায়েয থেকে ১৫ দিন পর রক্তস্রাব যদি তিনদিন তিনরাত স্থায়ী হয়, তাহলে কিন্তু এই রক্তস্রাব হায়েয বলে গণ্য হবে।
- এ মাসে আবার পিরিয়ড শুরু হলে—যদি তা ১৫ দিনের পবিত্রতার পর হয়, তবে তা হায়েজ হবে। কিন্তু যেহেতু ১৩ দিন পর এসেছে, তাই এটি ইস্তিহাযা।
উল্লেখ্য:
- আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথমবার ফ্লো কম ছিল—এতে হায়েজের বিধান পরিবর্তন হয় না।
- ফ্লো বেশি বা কম হওয়া হায়েজের জন্য শর্ত নয়, বরং ৩ দিন থেকে ১০ দিনের মধ্যে রক্ত আসাই হায়েজের জন্য যথেষ্ট।
সারসংক্ষেপ:
- গত মাসের ৩ দিনের রক্ত → হায়েজ (নামাজ, রোজা বন্ধ থাকবে)।
- ১৩ দিন পর আসা রক্ত → ইস্তিহাযা (নামাজ, রোজা, তিলাওয়াত চলবে)।
- এ মাসের রক্ত → যেহেতু ১৫ দিনের কম ব্যবধানে এসেছে, তাই এটি ইস্তিহাযা।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
দলিল:
- কুরআন: "তারা তোমাকে ঋতুবিষয়ে জিজ্ঞেস করে। বলুন, তা কষ্টদায়ক।" (সূরা বাকারা: ২২২)
- হাদিস: "হায়েজের সময় নামাজ ছেড়ে দাও, আর পবিত্র হলে গোসল করে নামাজ পড়ো।" (সহিহ বুখারি: ৩০৪)
- ফিকহি গ্রন্থ: রদ্দুল মুহতার ১/২৮৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৬, আল-হিদায়াহ ১/৩৩।
জাজাকুমুল্লাহু খইর — আপনার দ্বীনি সচেতনতার জন্য।