ইস্তেহাজা অবস্থায় হায়েজ শুরু হলে নামাজ কি মাফ হবে?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 3612
Questioner: bobsy75
Question Asked: 07 Aug 2026, 05:05 PM
Reviewed & Published: 07 Aug 2026, 05:15 PM
Views: 8
Tokens: 2,662
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

হাইজের সময় হওয়ার পূর্বেই ইস্তেহাজা শুরু হয়েছে। এখন যেই ওয়াক্ত থেকে আমি হায়েজ গণনা করব সেই ওয়াক্তের নামাজ কি মাফ হয়ে যাবে যদিও ওয়াক্তের মাঝামাঝি সময়ে হায়েজ হয়?

Answer

ইস্তেহাজা ও হায়েজের নামাজ সংক্রান্ত মাসআলা

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন: যদি ইস্তেহাজা (রক্তস্রাব যা হায়েজ নয়) শুরু হওয়ার পর ওয়াক্তের মাঝামাঝি সময়ে হায়েজ শুরু হয়, তাহলে যে ওয়াক্ত থেকে হায়েজ গণনা করা হবে, সেই ওয়াক্তের নামাজ কি মাফ হয়ে যাবে?

উত্তর

হ্যাঁ, সেই ওয়াক্তের নামাজ মাফ হয়ে যাবে। নিম্নে বিস্তারিত দলিলসহ আলোচনা করা হলো:

হানাফী ফিকহের নিয়ম

হানাফী মাযহাবের নিয়ম অনুযায়ী:

১. যদি কোনো নারীর ওয়াক্তের শুরুতে পবিত্র থাকে এবং ওয়াক্তের মাঝামাঝি সময়ে হায়েজ শুরু হয়, তাহলে সেই ওয়াক্তের নামাজ মাফ হয়ে যায়। কারণ, নামাজের ওয়াক্তের শেষভাগে পবিত্র থাকা শর্ত।

২. যদি ওয়াক্তের শুরুতে হায়েজ থাকে এবং ওয়াক্তের শেষভাগে পবিত্র হয়, তাহলেও সেই ওয়াক্তের নামাজ মাফ হয়ে যায়।

দলিল

কুরআন ও হাদীসের আলোকে:

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে মহিলাদের হায়েজের সময় নামাজ বন্ধ থাকত এবং পবিত্র হওয়ার পর নামাজ পুনরায় শুরু হতো। হায়েজের সময় নামাজ মাফ হয়ে যায়, কাজা করতে হয় না।

হানাফী কিতাবের উদ্ধৃতি:

রদ্দুল মুহতার (শামী) -এ উল্লেখ আছে:

"إذا حاضت المرأة في آخر الوقت وقد مضى أكثر الوقت سقطت عنها الصلاة"

"যদি কোনো নারীর ওয়াক্তের শেষভাগে হায়েজ শুরু হয় এবং ওয়াক্তের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত হয়ে যায়, তাহলে তার নামাজ মাফ হয়ে যাবে।"

(রদ্দুল মুহতার, কিতাবুত ত্বাহারাহ, বাবুল হায়েজ)

ফাতাওয়া আলমগীরী -তে বলা হয়েছে:

"وإذا حاضت في وقت الصلاة سقطت عنها تلك الصلاة سواء كان الحيض في أول الوقت أو وسطه أو آخره"

"যদি কোনো নারীর নামাজের ওয়াক্তে হায়েজ শুরু হয়, তাহলে সেই ওয়াক্তের নামাজ মাফ হয়ে যাবে—ওয়াক্তের শুরুতে হোক, মাঝামাঝি হোক বা শেষভাগে হোক।"

(ফাতাওয়া আলমগীরী, কিতাবুত ত্বাহারাহ, ফাসলুন ফিল হায়েজ)

আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষিতে সমাধান

আপনার ক্ষেত্রে:

  • ইস্তেহাজা (অ-হায়েজ রক্ত) শুরু হয়েছে
  • এরপর ওয়াক্তের মাঝামাঝি সময়ে হায়েজ শুরু হয়েছে

নিয়ম: যেই ওয়াক্তে হায়েজ শুরু হয়েছে, সেই ওয়াক্তের নামাজ মাফ হয়ে যাবে। কারণ, হায়েজ শুরু হওয়ার সাথে সাথে নামাজের ওয়াক্তের বাকি অংশে পবিত্রতা বিনষ্ট হয়ে গেছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: ইস্তেহাজার সময়ে (হায়েজ শুরুর আগে) যে নামাজগুলো পড়েছেন, সেগুলো সহীহ হয়েছে। ইস্তেহাজার রক্ত নামাজের জন্য مانع নয়, বরং ইস্তেহাজা অবস্থায় নামাজ পড়তে হয়।

ইস্তেহাজা অবস্থায় নামাজের নিয়ম

ইস্তেহাজা অবস্থায় মহিলারা নামাজ পড়বেন, রোজা রাখবেন এবং অন্যান্য ইবাদত করবেন। তবে প্রত্যেক নামাজের জন্য অযু করতে হবে এবং নামাজের সময় হওয়ার পর অযু করা উত্তম।

মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহ.) -এর ফতোয়া অনুযায়ী:

"ইস্তেহাজা অবস্থায় নামাজ পড়া ফরজ, তবে প্রত্যেক নামাজের জন্য নতুন অযু করতে হবে।"

(ইমদাদুল ফতোয়া, কিতাবুত ত্বাহারাহ)

সংক্ষিপ্ত উত্তর

যেই ওয়াক্তের মাঝামাঝি সময়ে হায়েজ শুরু হয়েছে, সেই ওয়াক্তের নামাজ মাফ হয়ে যাবে। কারণ, হায়েজ শুরু হওয়ার সাথে সাথে নামাজের ওয়াক্তের অবশিষ্ট অংশে পবিত্রতা বজায় থাকে না, তাই সেই ওয়াক্তের নামাজ মাফ হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে কাজা করতে হবে না।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.