কেউ তাবিজ করেছে কি না? এর জন্য নাম দেখা কি কুফরি?
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
নিজে রুকইয়াহ না করে শুধু রোগীর নাম দেখে বা শুনে কোনো রাক্বী (যিনি রুকইয়াহ করেন) যদি বলেন যে "আপনার অমুক সমস্যা আছে এবং অমুক কারণে জ্বীন প্রভাব ফেলেছে", তাহলে তা শরীয়তসম্মত নয় এবং এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। কারণ এটি গায়েব জানার অথবা তান্ত্রিক/কুসংস্কারমূলক পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত, যা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
দলিল ও হানাফি ফিকহের নির্দেশনা:
-
গায়েব জানার ব্যাপারে কুরআনের নির্দেশনা:
- আল্লাহ বলেন: "গায়েবের চাবি তার কাছেই রয়েছে, তিনি ছাড়া কেউ তা জানে না।" (সূরা আল-আন‘আম: ৫৯)
- রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: "যে ব্যক্তি কোনো গণক বা জ্যোতিষীর কাছে যায় এবং তার কথাকে সত্য মনে করে, সে মুহাম্মাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা অস্বীকার করল।" (মুসনাদ আহমাদ, হাদীস: ৯৫৩৬; আবু দাউদ, হাদীস: ৩৯০৪)
-
শুধু নাম দেখে রোগ নির্ণয়ের বিধান:
- হানাফি ফিকহের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, রোগীর নাম, পিতা-মাতার নাম, বা জন্মতারিখ ইত্যাদি দেখে অদৃশ্য জিনিস (যেমন: জ্বীন-ভূতের প্রভাব) নির্ণয় করা কুসংস্কার ও শিরকের পথ।
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.) থেকে বর্ণিত: "যে ব্যক্তি ফালনামা (অশুভ লক্ষণ) কিংবা গণকের কথায় বিশ্বাস করে, সে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ তাওয়াক্কুল ত্যাগ করে।" (শরহু মাআনিল আসার, ৪/৪৩৬)
-
জ্বীন দ্বারা রুকইয়াহ করার বিধান:
- জ্বীনের সাহায্য নেওয়া বা জ্বীনকে মাধ্যম বানিয়ে রুকইয়াহ করা জায়েয নয়, কারণ এটি জ্বীনের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের শামিল, যা শিরকের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
- ইমাম আহমদ রযা খান (রহ.) ও মুফতি তাকি উসমানী (দা.বা.)-এর মতানুসারে, তান্ত্রিক ও জ্বীন-ভূতের মাধ্যমে চিকিৎসা সম্পূর্ণ হারাম। বরং রুকইয়াহ কেবল কুরআনের আয়াত, সহিহ দু‘আ ও জিকিরের মাধ্যমেই করতে হবে।
- ইমাম ইবনে আবেদীন (রহ.) বলেন: "জ্বীনের মাধ্যমে চিকিৎসা নেওয়া জায়েয নয়, কারণ তা শয়তানের কাজে সাহায্যকারী হয়।" (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৭৩)
-
সঠিক পদ্ধতি:
- নিজে রুকইয়াহ করা: সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস, এবং সহিহ দু‘আ (যেমন: "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আজিমুল হালিম..." ইত্যাদি) পড়ে রোগীর ওপর দম করা।
- যদি নিজে রুকইয়াহ করতে না পারেন, তাহলে কোনো বিশ্বস্ত ও আলিম ব্যক্তির মাধ্যমে কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক রুকইয়াহ করানো।
উপসংহার:
- শুধু নাম দেখে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা করা জায়েয নয় এবং এটি কুসংস্কারের অন্তর্ভুক্ত।
- জ্বীন দ্বারা রুকইয়াহ করানো বা জ্বীনের সাহায্য নেওয়াও নাজায়েয।
- সঠিক পদ্ধতি হলো: কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক সরাসরি দম-দরুদ ও দু‘আ করা।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শিরক ও কুসংস্কার থেকে হেফাজত করুন।
বিশেষ নোট: প্রশ্নকারী যদি নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে থাকেন, তাহলে তার বিস্তারিত জানার প্রয়োজন নেই; বরং সাধারণ নিয়মের ভিত্তিতে উত্তর প্রদান করা হলো।
রেফারেন্স:
- ফাতাওয়া উসমানী (১/৩৫৬-৩৬০)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (৪/২৪৫-২৪৮)
- রদ্দুল মুহতার (৬/৩৭৩)
- বেহেশতী জেওর (ভলিউম ২, দম-দরুদের অধ্যায়)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (৫/৩৫৬)