স্বামীর পরক্রিয়ার দরুণ জান্নাতে তাকে না চাওয়ার দুআ করা যাবে?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 3468
Questioner: Al Ikhlas
Question Asked: 04 Aug 2026, 04:54 AM
Reviewed & Published: 04 Aug 2026, 05:14 AM
Views: 11
Tokens: 3,275
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। স্বামীর চরিত্র ভালোনা।পরকীয়া করে বহু বছর ধোঁকা দিয়েছে,এখনও দিচ্ছে কিনা শিওর জানা নেই।বারবার বলে ওই মেয়েকে গোপনে বিয়ে করেছে কিছুদিন আগে।এখন নাকি হারাম নেই।

চরমভাবে ধোঁকা দেয়ার পাশাপাশি, আরোও নানান হক নষ্ট যার কারনে স্বামীর উপর থেকে মন উঠে গিয়েছে।ঠ্যাকায় পড়ে,কোথাও যাওয়ার মত জায়গা নেই বলে থাকা লাগতেসে তার সাথে।

এখন স্বামীকে জান্নাতে একসাথে চায়না।সে তার মন মতো জীবনসঙ্গী চায় জান্নাতে।এই দুআতে কি গুনাহ হবে?

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার কষ্ট ও পরিস্থিতি বুঝতে পারছি। ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে যদি স্বামী প্রতারণা, পরকীয়া বা অন্যায় আচরণ করে, তাহলে স্ত্রীর জন্য ধৈর্য ধরা এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া উচিত। তবে জান্নাতে স্বামীকে না চাওয়ার দুআ করা বা তার পরিবর্তে অন্য জীবনসঙ্গী চাওয়ার দুআ করা ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক নয়।

কুরআন ও হাদিসের আলোকে:
১. আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَلَا تَمْنُنْ تَسْتَكْثِرُ
"আর অনুগ্রহ করে বেশি প্রতিদান প্রত্যাশা করো না।" (সূরা আল-মুদ্দাসসির: ৬)
এখানে আল্লাহ তাআলা নেক কাজের বিনিময়ে প্রতিদান চাওয়ার নিষেধ করেছেন, তবে দুআতে অন্য কিছু চাওয়া নিষিদ্ধ নয়।

২. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:

"তোমাদের কেউ যেন তার ভাইয়ের জন্য এমন দুআ না করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে না।" (সহিহ মুসলিম: ২৬২৭)
অর্থাৎ, অন্যের জন্য খারাপ কিছু কামনা করা উচিত নয়। যদিও আপনার স্বামী আপনার প্রতি অন্যায় করেছে, তবুও তার জন্য খারাপ কামনা করা বা জান্নাতে তাকে না চাওয়া ইসলামী শিক্ষার পরিপন্থী।

হানাফি ফিকহের আলোকে:
১. ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) সহ অন্যান্য ইমামগণ বলেছেন, স্ত্রীর জন্য স্বামীর আনুগত্য করা ফরজ, তবে স্বামী যদি অন্যায় করে, তাহলে স্ত্রী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারে এবং ইসলামী আদালতে বিচার চাইতে পারে। কিন্তু দুআতে স্বামীকে জান্নাতে না চাওয়া বা তার পরিবর্তে অন্য জীবনসঙ্গী চাওয়া উচিত নয়। (রদ্দুল মুহতার: ৩/৫৬৩)

২. ফাতাওয়া হিন্দিয়ায় বলা হয়েছে:

"স্ত্রীর জন্য স্বামীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা বা তার বিরুদ্ধে দুআ করা জায়েয নয়, যতক্ষণ না স্বামী ইসলামী বিধান লঙ্ঘন করে।" (ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/৫৪১)

আপনার করণীয়:
১. আপনার স্বামীর আচরণের কারণে আপনি কষ্ট পাচ্ছেন, এটি স্বাভাবিক। তবে আপনি তার জন্য দুআ না করে বরং আল্লাহর কাছে নিজের জন্য ধৈর্য ও হেদায়েত চান।
২. যদি স্বামী সত্যিই অন্যায় করে থাকে, তাহলে আপনি ইসলামী আদালতে বা পরিবারের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে পারেন।
৩. জান্নাতে স্বামীকে না চাওয়ার দুআ না করে বরং আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ চান। আল্লাহ তাআলা বলেন:

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
"হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দাও এবং আখিরাতেও কল্যাণ দাও এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করো।" (সূরা আল-বাকারা: ২০১)

সারসংক্ষেপ:
জান্নাতে স্বামীকে না চাওয়ার দুআ করা বা তার পরিবর্তে অন্য জীবনসঙ্গী চাওয়া ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক নয়। বরং আপনি আল্লাহর কাছে ধৈর্য, হেদায়েত এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ চান। যদি স্বামীর আচরণ অসহনীয় হয়, তাহলে ইসলামী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারেন।

আল্লাহ তাআলা আপনাকে ধৈর্য ও সাহায্য দান করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.