কাফেরের প্রতি আচরণ ও ইসলামী আদর্শ কেমন হওয়া চাই?
Halal and Haram · Hanafi
Question
কাহিনীটি হলো, কিছুদিন আগে কয়েকজন বন্ধু মিলে ঘুরতে গিয়েছিল। সৌমিক নামে একজন হিন্দু বন্ধু ছিল সেখানে। এখন সে খালি নিজের ধর্ম নিয়ে কথা বলছে—ব্রাহ্মণ এই, ব্রাহ্মণ সেই। তখন আমার সেই মুসলিম বন্ধুটি বলল, "ভাই, এখন এগুলো রাখ।" তখন ওই হিন্দু বন্ধুটি বলল, "মুসলিম তো নিচু জাতি, এরা তো এগুলো বলবেই।"
এখন ওই হিন্দুকে শরিয়তের দৃষ্টিতে কী করা উচিত? ওকে মারা কি জায়েজ কিনা?
Answer
কাফেরের প্রতি আচরণ ও ইসলামী আদর্শ
প্রশ্নের উত্তর:
আপনার প্রশ্নের জবাবে প্রথমেই বলব—ইসলাম কখনোই অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি অন্যায় আচরণ, মারধর বা হত্যার অনুমতি দেয়নি। বরং ইসলাম শান্তি, সহনশীলতা ও ন্যায়বিচারের ধর্ম।
শরিয়তের দৃষ্টিতে করণীয়:
১. ধৈর্য ধারণ করা: ওই হিন্দু বন্ধুর উক্তিটি অজ্ঞতা ও পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাব থেকে হয়েছে। তার প্রতি ধৈর্য ধারণ করা এবং উত্তম আচরণ করা উচিত।
২. সুন্দরভাবে বোঝানো: তাকে শান্তভাবে ইসলামের সঠিক শিক্ষা বোঝানোর চেষ্টা করা উচিত। আল্লাহ তাআলা বলেন:
"তুমি উত্তম পন্থায় আহ্বান করো তোমার রবের পথে।" (সূরা আন-নাহল: ১২৫)
৩. মারধর বা হত্যা জায়েজ নয়: ইসলামে কোনো মানুষকে শুধুমাত্র ধর্মীয় বক্তব্যের কারণে হত্যা বা মারধর করা সম্পূর্ণ হারাম ও নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি কোনো মু'আহিদ (অমুসলিম নাগরিক)কে হত্যা করবে, সে জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না।" (সহীহ বুখারী: ৩১৬৬)
ইসলামের দৃষ্টিতে জাতিভেদ:
ইসলামে কোনো জাতিভেদ বা বর্ণপ্রথা নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন:
"হে মানবজাতি! নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পারো। নিশ্চয় আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান সেই ব্যক্তি যে সর্বাধিক তাকওয়াবান।" (সূরা আল-হুজুরাত: ১৩)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বিদায় হজের ভাষণে ঘোষণা করেছেন:
"আরবের ওপর অনারবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, অনারবের ওপর আরবেরও কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। সাদার ওপর কালোর কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কালোর ওপর সাদারও কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাকওয়ার মাধ্যমে।" (মুসনাদ আহমাদ: ২৩৪৮৯)
করণীয়:
১. ওই হিন্দু বন্ধুর উক্তিতে ক্ষুব্ধ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করুন। ২. তাকে ইসলামের সঠিক শিক্ষা সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করুন। ৩. তার সাথে সুন্দর আচরণ বজায় রাখুন, যাতে সে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে। ৪. প্রয়োজনে তাকে ইসলাম সম্পর্কে বই-পুস্তক বা সঠিক তথ্য প্রদান করুন।
মনে রাখবেন: ইসলামে জবরদস্তি নেই। আল্লাহ বলেন:
"দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই।" (সূরা আল-বাকারাহ: ২৫৬)
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।