কেউ তাবিজ করেছে কি না? এর জন্য নাম দেখা কি কুফরি?
Miscellaneous Fiqh · Ahle Hadith / Salafi
Question
Answer
উত্তর:
আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখা এবং তাঁর রহমতের ওপর ভরসা করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। আপনার বর্তমান মানসিক অবস্থা—যে আল্লাহ আপনার সন্তানদের হেফাজত করবেন এবং তারা ভালো থাকবে—এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন এবং আল্লাহর প্রতি আপনার ঈমানের বহিঃপ্রকাশ। তবে একথা চূড়ান্তভাবে ধরে নেওয়া যে আল্লাহ আপনার দু‘আ কবুল করেছেন, তা জায়েয নয়। কারণ দু‘আ কবুলের বিষয়টি গায়েব, যা শুধু আল্লাহ জানেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«يُسْتَجَابُ لأَحَدِكُمْ مَا لَمْ يَعْجَلْ، يَقُولُ: دَعَوْتُ فَلَمْ يُسْتَجَبْ لِي»
“তোমাদের প্রত্যেকের দু‘আ কবুল করা হয়, যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়ো করে আর বলে: আমি দু‘আ করলাম, কিন্তু আমার দু‘আ কবুল হলো না।” (সহীহ বুখারী: ৬৩৪০, সহীহ মুসলিম: ২৭৩৫)
আপনার বর্তমান আশাবাদ ও শান্তি ‘ইস্তিজাবা’র (কবুলের) লক্ষণ হতে পারে, তবে তা নিশ্চিত নয়। ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন: “দু‘আ কবুলের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো প্রমাণ বা ওহী ছাড়া জায়েয নয়। তবে আশা ও সুধারণা রাখা জায়েয।” (মাজমূ‘উল ফাতাওয়া, ১৪/৩২)
আপনার সন্তানদের খিলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য তৈরি করার নিয়ত অত্যন্ত মহৎ। এটি আপনার দ্বীনদারির পরিচায়ক। তবে মনে রাখবেন, খিলাফত প্রতিষ্ঠা আল্লাহর ইচ্ছাধীন একটি বিষয়। আপনি চেষ্টা করতে পারেন, কিন্তু ফলাফল আল্লাহর হাতে। আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন:
«إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ»
“নিশ্চয় কাজগুলো নিয়তের উপর নির্ভরশীল।” (সহীহ বুখারী: ১)
সুতরাং আপনার নিয়ত ও চেষ্টা সাওয়াবের কারণ হবে, কিন্তু এ থেকে ধরে নেওয়া উচিত নয় যে আপনার দু‘আ অবশ্যই কবুল হয়েছে। বরং আল্লাহর কাছে আশা রাখা এবং ভয়-ভীতিও বজায় রাখা উচিত। আল্লাহ বলেন:
«وَادْعُوهُ خَوْفًا وَطَمَعًا»
“এবং তাঁকে ডাকো ভয় ও আশার সাথে।” (সূরা আল-আ‘রাফ: ৫৬)
উপসংহার:
আপনার বর্তমান আশাবাদ ও শান্তি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নেয়ামত, যা আপনার ঈমান ও আমলের ফল হতে পারে। তবে এটি নিশ্চিত প্রমাণ নয় যে আপনার পূর্বের সব দু‘আ নির্দিষ্টভাবে কবুল হয়েছে। বরং সুধারণা বজায় রাখুন, প্রচেষ্টা চালিয়ে যান এবং আল্লাহর কাছে দু‘আ করতে থাকুন। ইনশাআল্লাহ তিনি উত্তম প্রতিদান দেবেন।
রেফারেন্স:
- কুরআন: সূরা আল-বাকারাহ ২:১৮৬; সূরা আল-মু’মিন ৪০:৬০।
- হাদীস: সহীহ বুখারী ও মুসলিম (উপরোক্ত)।
- শাইখ ইবনু বায: “দু‘আ কবুলের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া জায়েয নয়; বরং আশা রাখা এবং আল্লাহর প্রতি ভরসা করা কর্তব্য।” (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ইবনু বায, ৬/৩৬)
- শাইখ ইবনু উসাইমীন: “কেউ যদি দু‘আ করে এবং তার অন্তরে প্রশান্তি ও আশাবাদ অনুভব করে, তবে এটি কবুলের লক্ষণ হতে পারে, কিন্তু তা নিশ্চিত নয়।” (শারহু রিয়াদুস সলিহীন, ৪/২৮১)
সতর্কতা: আপনার নিয়তের অংশে “খিলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠা বাংলার মাটিতে”—এমন নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা না রেখে সাধারণভাবে ইসলামের বিজয় ও শাসন কামনা করা উত্তম। খিলাফত প্রতিষ্ঠা আল্লাহর নির্ধারিত সময়েই হবে, আপনি শুধু আপনার সন্তানদের ইসলামী শিক্ষায় গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যান।