নামাজের সময় বারবার বায়ু নির্গত হলে করণীয়

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 3436
Questioner: Sumaiya_3
Question Asked: 03 Aug 2026, 07:36 AM
Reviewed & Published: 03 Aug 2026, 07:43 AM
Views: 15
Tokens: 3,892
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ।

মলদ্বার অপারেশনের ফলে ঠিকমতো ওযু ধরে রাখা সম্ভব হয়না। ওযু করে আসলেও নামাজে ওঠাবসার ফলে অনিচ্ছকৃত ভাবে বায়ু নিঃসরন হয়ে যায়,আটকানো সম্ভব হয়না। নামাজপড়াকালীনও হয়ে যায়। তাছাড়া এভাবে বার বার ওযুর বিড়ম্বনায় ঠিকমতো কুরআন নিয়ে বসাও সম্ভব হয়না।মনে হয় আমার তো ওযু নাই।
তাই এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ওযুর মাসয়ালা জানালে উপকৃত হবো মিন ফাদলিক।যেহেতু, সমস্যাটা লাইফটাইম ব্যাপার হয়ে গেছে।
জাজাকাল্লাহু খইরন।

Answer

উত্তর: ওযু ভঙ্গের ব্যাপারে মা‘যূর (অজুহাতযুক্ত) ব্যক্তির শর‘ঈ বিধান

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। মলদ্বার অপারেশনের কারণে দীর্ঘমেয়াদী (লাইফটাইম) সমস্যায় পড়ায় আপনার অসুবিধা আমরা বুঝতে পারছি। ইসলাম ধর্ম সহজ, এবং এই ধরনের কঠিন পরিস্থিতিতে শরী‘আত বিশেষ সুবিধা প্রদান করেছে। আপনার জন্য প্রযোজ্য বিধান হলো মা‘যূর (معذور)-এর বিধান।

মা‘যূর হওয়ার শর্ত:

হানাফী মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি এমন রোগে আক্রান্ত হয় যার কারণে তার ওযু বারবার ভেঙে যায়, তাহলে সে মা‘যূর হবে। তবে এর জন্য একটি শর্ত রয়েছে। ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, যদি কোনো একটি নামাজের পুরো সময় জুড়ে (যেমন: যোহরের শুরু থেকে আসর পর্যন্ত) এই সমস্যা চলতে থাকে, অর্থাৎ এতটুকু সময়ও পাওয়া না যায় যে, সে ওযু করে নির্ভয়ে নামাজ পড়তে পারবে, তাহলে সে মা‘যূর হিসেবে গণ্য হবে। (রদ্দুল মুহতার, ১/৩০৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৪২)

আপনি উল্লেখ করেছেন যে, এটি আপনার লাইফটাইম সমস্যা এবং নামাজের ভিতরেও বায়ু নির্গত হয়। যেহেতু আপনার সমস্যা দীর্ঘমেয়াদী এবং একটি নামাজের পুরো সময় জুড়ে বিরত থাকে না, তাই আপনি শর‘ঈ দৃষ্টিতে মা‘যূর (অজুহাতপ্রাপ্ত) গণ্য হবেন।

মা‘যূর ব্যক্তির জন্য ওযু ও নামাজের বিধান:

১. ওযুর সময়: মা‘যূর ব্যক্তি প্রতিটি নামাজের (ফরজ) সময় শুরু হওয়ার পর ওযু করবেন। এই ওযু দ্বারা সে ঐ নামাজের ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত এবং নফল সবগুলো আদায় করতে পারবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৪২)

২. ওযু বৈধ থাকার সময়সীমা: মা‘যূর ব্যক্তির ওযু ঐ নামাজের পুরো সময় পর্যন্ত বৈধ থাকবে। অর্থাৎ, যোহরের সময় শুরু হলে ওযু করলে, আসর শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত সে যত খুশি নামাজ পড়তে পারবে এবং কুরআন স্পর্শ করতে পারবে। আসরের সময় শুরু হলে তার ওযু ভেঙে যাবে এবং তাকে আবার নতুন করে ওযু করতে হবে। (রদ্দুল মুহতার, ১/৩০৬)

৩. নামাজের ভিতরে বায়ু নির্গত হলে: মা‘যূর ব্যক্তির নামাজের ভিতরে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে বায়ু নির্গত হয়, তাহলে তার নামাজ ভঙ্গ হবে না। সে নামাজ চালিয়ে যাবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৪২; বাহিশ্তি জেওর)

৪. কুরআন স্পর্শ ও তিলাওয়াত: মা‘যূর ব্যক্তি উক্ত সময়ের ওযু দ্বারা কুরআন স্পর্শ করতে পারবেন এবং তিলাওয়াত করতে পারবেন। কারণ, শর‘ঈ দৃষ্টিতে তার ওযু বিদ্যমান আছে। (ফাতাওয়া উসমানী, ১/১৮৫)

মাসআলার সারসংক্ষেপ (আপনার জন্য করণীয়):

  • আপনি যখন নামাজ পড়তে চান, তখন ঐ নামাজের সময় হওয়ার পর (যেমন: যোহরের আজান হওয়ার পর) ওযু করুন।
  • এই ওযু দিয়ে আপনি ঐ নামাজের সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত (অর্থাৎ আসরের আজান পর্যন্ত) যত খুশি নামাজ পড়তে পারবেন, কুরআন তিলাওয়াত করতে পারবেন এবং স্পর্শ করতে পারবেন।
  • নামাজের ভিতরে বায়ু নির্গত হলেও আপনার নামাজ ভঙ্গ হবে না, চালিয়ে যাবেন।
  • মনে রাখবেন, আপনার ওযু নষ্ট হওয়ার বিষয়ে কোনো সন্দেহ বা ওয়াসওয়াসা (শয়তানি প্ররোচনা) করবেন না। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি উক্ত সময়ের মধ্যে আছেন, আপনার ওযু সহীহ আছে বলে ধরে নেবেন।

রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): ১/৩০৫-৩০৬ (মা‘যূরের বিধান)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরী): ১/৪২ (মা‘যূরের ওযু ও নামাজের বিধান)
  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী): ১/১৮৫ (মা‘যূরের কুরআন স্পর্শের বিধান)
  • বাহিশ্তি জেওর (আশরাফ আলী থানভী): ওযু ভঙ্গের অধ্যায়

আল্লাহ তাআলা আপনার রোগ থেকে আরোগ্য দান করুন এবং আপনার ইবাদতকে সহজ করে দিন। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.