ঘন ঘন মাসিক আসলে মাসিকের তারিখ কিভাবে ধরবো এবং নামাজ কিভাবে পড়বো
Taharah Purity · Hanafi
Question
Answer
ঘন ঘন মাসিক আসলে মাসিকের তারিখ ও নামাজ সংক্রান্ত বিধান
প্রশ্নের উত্তর
ঘন ঘন মাসিক (ইস্তিহাযা) হলে মাসিকের তারিখ নির্ধারণ এবং নামাজ আদায়ের বিধান ইসলামি ফিকহে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
মাসিকের তারিখ নির্ধারণের নিয়ম
১. অভ্যাস (আদত) অনুযায়ী: যদি কোনো মহিলার পূর্বে নির্দিষ্ট সংখ্যক দিন মাসিক হওয়ার অভ্যাস থাকে (যেমন: ৭ দিন), তবে ঘন ঘন রক্ত আসলেও তিনি তার অভ্যাসের দিনগুলোকে মাসিক হিসেবে গণ্য করবেন। অভ্যাসের অতিরিক্ত দিনের রক্তকে ইস্তিহাযা (অস্বাভাবিক রক্ত) হিসেবে গণ্য করা হবে।
২. অভ্যাস না থাকলে: যে মহিলার কোনো নির্দিষ্ট অভ্যাস নেই, তিনি যখন প্রথমবার রক্ত দেখবেন, তখন ১০ দিন পর্যন্ত মাসিক হিসেবে গণ্য করবেন। এর বেশি হলে তা ইস্তিহাযা।
৩. তাময়ীজ (পার্থক্য) অনুযায়ী: যদি রক্তের রং, গাঢ়তা, গন্ধ ইত্যাদির পার্থক্য থাকে, তবে যে রক্ত মাসিকের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ (গাঢ়, কালো, দুর্গন্ধযুক্ত) তা মাসিক এবং হালকা, হলুদ বা পানি জাতীয় রক্ত ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে।
নামাজ আদায়ের নিয়ম
১. মাসিকের দিনগুলোতে: যে দিনগুলো মাসিক হিসেবে গণ্য হবে, সেই দিনগুলোতে নামাজ, রোজা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকবেন। মাসিক শেষে গোসল করে নামাজ শুরু করবেন।
২. ইস্তিহাযার দিনগুলোতে: যে দিনগুলো ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে, সেই দিনগুলোতে নামাজ, রোজা আদায় করতে হবে। ইস্তিহাযার রক্ত নামাজের জন্য مانع নয়।
৩. ইস্তিহাযার ক্ষেত্রে অজু: ইস্তিহাযার কারণে প্রত্যেক নামাজের সময় নতুন করে অজু করতে হবে। অর্থাৎ, প্রত্যেক ফরজ নামাজের জন্য আলাদা অজু করতে হবে। তবে একই সময়ের সুন্নত, নফল নামাজগুলো ঐ অজু দিয়েই পড়া যাবে।
৪. ইস্তিহাযার ক্ষেত্রে অন্যান্য বিধান:
- রোজা রাখা যাবে
- কুরআন তিলাওয়াত করা যাবে
- মসজিদে প্রবেশ করা যাবে
- স্বামীর সাথে সহবাস করা যাবে
গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা
১. মাসিকের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সময়: হানাফি মাযহাব মতে, মাসিকের সর্বনিম্ন সময় ৩ দিন এবং সর্বোচ্চ ১০ দিন। এর কম বা বেশি রক্ত আসলে তা ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে।
২. পবিত্রতার সর্বনিম্ন সময়: দুই মাসিকের মাঝে পবিত্রতার সর্বনিম্ন সময় ১৫ দিন। এর কম সময়ে রক্ত আসলে তা ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে।
৩. ঘন ঘন মাসিকের ক্ষেত্রে: যদি কোনো মহিলার ১৫ দিনের কম ব্যবধানে রক্ত আসে, তবে প্রথম রক্তকে মাসিক এবং পরের রক্তকে ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য করা হবে, যদি না তা তার অভ্যাসের সাথে মিলে যায়।
দলিল
কুরআন: "আর তারা তোমাকে ঋতুবিষয়ে জিজ্ঞেস করে। বলো, তা হলো কষ্টদায়ক।" (সূরা বাকারা: ২২২)
হাদিস: হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, ফাতিমা বিনতে আবি হুবাইশ (রা.) ইস্তিহাযায় আক্রান্ত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বলেছিলেন: "মাসিকের রক্ত হলো কালো, যা পরিচিত। যখন এরূপ রক্ত দেখবে, তখন নামাজ ছেড়ে দেবে। আর যখন অন্য রক্ত দেখবে, তখন অজু করে নামাজ পড়বে।" (আবু দাউদ, নাসাঈ)
ফাতাওয়া উসমানি: মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম) তাঁর ফাতাওয়া উসমানিতে ইস্তিহাযার বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং উপরোক্ত নিয়মগুলোই বর্ণনা করেছেন।
রদ্দুল মুহতার: ইবনে আবিদীন (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থে মাসিক ও ইস্তিহাযার বিস্তারিত মাসআলা বর্ণনা করেছেন।
উপসংহার
ঘন ঘন মাসিকের সমস্যায় আক্রান্ত মহিলাদের জন্য উপরোক্ত নিয়মগুলো অনুসরণ করা জরুরি। আল্লাহ তাআলা সবাইকে সঠিকভাবে দ্বীন পালনের তাওফিক দান করুন।