শিশুর শুকনো প্রস্রাব, ভেজা চুল, নাপাক কাঁথা এবং দৈনন্দিন জীবনে পবিত্রতা রক্ষার সমাধান।
Taharah Purity · Hanafi
Question
২) একইভাবে হাতে হিসু লেগেছিল, সেই হাত দিয়ে মাথা চুলকিয়েছি, চুল কিছুটা ভেজাভাব ছিলো, এতে চুলও নাপাক হয়েছে?
৩) বাবুর কাঁথা স্বাভাবিকভাবে নাপাকই, হালকা ভেজা কাঁথা ধরলেও হাত নাপাক হবে?
৪) দিনে অনেএএকবার হিসু হাতে লেগে যায়, প্রত্যেকবার ধুতে মনে থাকেনা, কতো জিনিস ধরে ফেলি ভেজা শুকনো, এতে কি করণীয়?
Answer
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রশ্ন ১: বাবুর হিসু (শিশুর প্রস্রাব) হাতে লেগে শুকিয়ে গিয়েছিল, তারপর তেল নিয়ে সেই হাত কোনো কাপড়ে মুছলাম। এতে কাপড়টি নাপাক হবে কি?
উত্তর: শুকনো নাপাকি (যেমন শুকনো প্রস্রাব) যদি কোনো শুকনো বস্তুতে লাগে, তাহলে তা নাপাক করে না। কিন্তু আপনি তেল নিয়েছেন (যা ভেজা), এবং সেই ভেজা তেলের মাধ্যমে নাপাকির অংশ কাপড়ে স্থানান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। হানাফী ফিকহের নীতি হলো: শুকনো নাপাকি যদি ভেজা বস্তুর মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়, তবে সেই বস্তু নাপাক হবে। এখানে আপনার হাতে তেল নেওয়ার কারণে হাতটি ভেজা ছিল, এবং আপনি কাপড়ে মুছেছেন। ফলে যদি নাপাকির কোনো অংশ কাপড়ে লাগে, তবে কাপড়টি নাপাক হবে। তবে যদি কাপড়ে কোনো গন্ধ বা রং না থাকে এবং নিশ্চিত না হন যে নাপাকি লেগেছে, তাহলে কাপড় পবিত্রই গণ্য হবে। সাধারণত শুকনো নাপাকি ভেজা বস্তুর মাধ্যমে স্থানান্তরিত হতে পারে, তাই সতর্কতা হিসেবে কাপড়টি ধুয়ে নেওয়া ভালো। (রদ্দুল মুহতার, ১/২০৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৪১)
প্রশ্ন ২: হাতে হিসু লেগেছিল, সেই হাত দিয়ে ভেজা চুল চুলকালাম। চুল কি নাপাক হবে?
উত্তর: যদি হাতে শুকনো হিসু লেগে থাকে এবং আপনি ভেজা চুল স্পর্শ করেন, তাহলে নাপাকি ভেজা চুলে স্থানান্তরিত হবে এবং চুল নাপাক হবে। তবে যদি হাত শুকনো হয় এবং চুলও শুকনো হয়, তাহলে নাপাকি স্থানান্তরিত হবে না। যেহেতু চুল ভেজা ছিল এবং হাতে শুকনো নাপাকি থাকলেও ভেজা চুলের সংস্পর্শে তা স্থানান্তরিত হতে পারে, তাই চুল নাপাক হয়েছে বলে গণ্য হবে। পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৪১; বাহিশ্তি জেওর, পবিত্রতা অধ্যায়)
প্রশ্ন ৩: বাবুর কাঁথা তো স্বাভাবিকভাবেই নাপাক। হালকা ভেজা কাঁথা ধরলেও কি হাত নাপাক হবে?
উত্তর: কাঁথা যদি নাপাক হয় (যেমন প্রস্রাব লেগেছে), তাহলে তা ভেজা অবস্থায় থাকলে হাত নাপাক হবে। কারণ ভেজা নাপাকি হাতে স্থানান্তরিত হবে। কিন্তু যদি কাঁথা শুকনো হয় এবং হাতও শুকনো হয়, তাহলে হাত নাপাক হবে না। তবে আপনি যদি নিশ্চিত না হন যে কাঁথার নাপাকি অংশ ভেজা আছে, তাহলে সতর্কতা হিসেবে হাত ধুয়ে নেওয়া ভালো। হানাফী মতে, শুকনো নাপাকি শুকনো বস্তুকে নাপাক করে না। (রদ্দুল মুহতার, ১/২০৩; ফাতাওয়া উসমানী, ১/২৪০)
প্রশ্ন ৪: দিনে অনেকবার বাবুর হিসু হাতে লেগে যায়, প্রত্যেকবার ধুতে মন থাকে না, অনেক জিনিস ভেজা-শুকনো ধরি। এতে কী করণীয়?
উত্তর: এটি একটি বাস্তবসম্মত সমস্যা। ইসলাম সহজতা দিয়েছে। হানাফী ফিকহের নীতি হলো: اليقين لا يزول بالشك (নিশ্চিত জিনিস সন্দেহে দূর হয় না)। আপনি যদি নিশ্চিত না হন যে কোনো বস্তুতে নাপাকি লেগেছে, তবে তা পবিত্রই গণ্য হবে। তাই:
- যে হাতে প্রস্রাব লেগেছে, সেটি ধোয়ার চেষ্টা করুন। কিন্তু যদি ভুলে যান, তাহলে পরে যখন মনে হবে তখন ধুয়ে নিন।
- আপনি যে জিনিস স্পর্শ করেছেন, সেগুলো যদি নাপাকির চিহ্ন (গন্ধ, রং) না থাকে, তাহলে সেগুলো পবিত্রই থাকবে।
- দৈনন্দিন জীবনে অজান্তে অনেক কিছু ঘটে, ইসলাম তা ক্ষমা করে। শুধু সতর্ক থাকুন যে, ঢিলা-ঢালা না হয়ে যান।
ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: "তোমার নিশ্চিত জ্ঞানকে সন্দেহের উপর প্রাধান্য দাও।" (সহীহ মুসলিম) তাই কোনো জিনিসের পবিত্রতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে, সন্দেহের কারণে সেটিকে নাপাক গণ্য করবেন না। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৪১; বাহিশ্তি জেওর, পবিত্রতা অধ্যায়)
উপসংহার: শিশুর প্রস্রাব শুকনো অবস্থায় অন্য শুকনো জিনিসকে নাপাক করে না, তবে ভেজা মাধ্যমে স্থানান্তরিত হলে নাপাক করে। দৈনন্দিন জীবনে সতর্ক থাকবেন, কিন্তু অতিরিক্ত ওয়াসওয়াসায় পড়বেন না। মনে রাখবেন, ইসলাম সহজতার ধর্ম।
আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
References:
- রদ্দুল মুহতার (১/২০৩, ২১২)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৪১)
- বাহিশ্তি জেওর (পবিত্রতা অধ্যায়)
- ফাতাওয়া উসমানী (১/২৪০)
- আল-হিদায়া (১/২৪)