বয়সে ছোট কাউকে বিয়ে না করার ইচ্ছা ও দোয়া কি ইসলামে জায়েজ?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 2820
Questioner: Amatullah Hani
Question Asked: 17 Jul 2026, 10:25 PM
Reviewed & Published: 17 Jul 2026, 10:50 PM
Views: 46
Tokens: 4,423
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

উস্তাজ, আমার বড় দুইবোন এবং আমি অবিবাহিত, আমরা তিন বোন বয়সে ছোট ছেলে কে বিয়ে করাটা অপছন্দ করি নিজেদের জন্য অর্থাৎ বয়সে ছোট কাউকে বিয়ে করবো এমন টা মানিয়ে নিতে পারি না।

তাই একজন কে বলেছি ❝ বিয়ে না হলেও আমরা বোনেরা বয়সে ছোট কাউকে বিয়ে করবো না ইনশাআল্লাহ, দোয়া করি রব এমন নসীবও না দিন❞

উস্তাজ আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই কথাটুকু কি কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক কথা হয়েছে? বা তওবা করার মতো কোনো কথা হয়েছে?

দয়া করে বিষয় টার উত্তর দিলে মুনাসিব হতো।

Answer

উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

মূল প্রশ্ন: "বয়সে ছোট কাউকে বিয়ে করব না" এবং "আল্লাহ যেন এমন নসীব না দেন" বলা কি কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক ও তওবা করার মতো গুনাহের কাজ?

মোটেও না। বরং এটি একটি ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ মাত্র, যা ইসলামী শরীয়তের কোনো বিধানের পরিপন্থী নয়। ইসলামে বিয়ের জন্য বয়সের সমতা (কুফু) একটি কাম্য বিষয়, তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়। বিশেষ করে স্ত্রীর বয়সে স্বামীর চেয়ে বড় হওয়া বা ছোট হওয়া কোনো হারাম বা নিষিদ্ধ বিষয় নয়।

কুরআন ও হাদিসের দৃষ্টিতে:

  1. বয়সের ভিত্তিতে বিয়ে নিরুৎসাহিত নয়: আল্লাহ তাআলা বিয়ের জন্য পছন্দের বিষয় উল্লেখ করেননি যে স্বামীকে স্ত্রীর চেয়ে বয়সে বড় হতে হবে। বরং পছন্দের মাপকাঠি হলো ধার্মিকতা, চরিত্র ও পারস্পরিক সম্মতি। (সূরা নূর: ৩২; সহীহ বুখারী, হাদিস: ৫০৯০)।
  2. নবীজির (সা.) জীবনী: রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে বিবি খাদিজা (রা.)-কে বিয়ে করেছিলেন, যিনি তাঁর চেয়ে বয়সে ১৫ বছর বড় ছিলেন। আবার বিবি আয়েশা (রা.)-কে বিয়ে করেছিলেন, যিনি তাঁর চেয়ে অনেক ছোট ছিলেন। এটি প্রমাণ করে যে বয়স কখনো বিয়ে করার জন্য বাধা বা শর্ত নয়।
  3. ইচ্ছা ও পছন্দের স্বাধীনতা: স্ত্রী তার স্বামী হিসেবে কেমন ব্যক্তি চান — এটি তার ব্যক্তিগত অধিকার। বয়স, শিক্ষা, আর্থিক অবস্থা ইত্যাদি বিষয়ে নিজের পছন্দ থাকাটা জায়েয, যতক্ষণ তা শরীয়তের কোনো বিধানকে অমান্য না করে।

আপনার কথাটির বিশ্লেষণ:

  • "বয়সে ছোট কাউকে বিয়ে করব না" — এটি আপনার ব্যক্তিগত অপছন্দ মাত্র। এটি কুরআন বা হাদিসের কোনো নির্দেশের বিরোধী নয়।
  • "আল্লাহ যেন এমন নসীব না দেন" — এটি একটি দোয়া বা প্রার্থনা। আল্লাহর কাছে নিজের অপছন্দের বিষয় না চাওয়াও জায়েয, তবে মনে রাখতে হবে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা জরুরি। যদি আল্লাহ কোনো ভালো কিছু দেন, তবে সেটি মেনে নেওয়া উচিত।

তওবা করার প্রয়োজন নেই:
যেহেতু আপনি কোনো গুনাহের কাজ করেননি বা ইসলামী আইন লঙ্ঘন করেননি, তাই তওবা জরুরি নয়। তবে যদি কোনো কারণে আপনার দোয়া বা কথায় আল্লাহর ফয়সালার প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ পেয়ে থাকে, তাহলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া ভালো। কিন্তু আপনি যা বলেছেন, তা সাধারণ পছন্দ-অপছন্দের পর্যায়ে পড়ে।

হানাফী ফিকহের রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (৫/২১৭): বিয়েতে কুফু (সমান হওয়া) বাধ্যতামূলক নয়, তবে মুস্তাহাব। এখানে বয়সের সমতা কুফু’র একটি দিক, তবে তা আবশ্যিক শর্ত নয়।
  • ফাতাওয়া উসমানী (২/৩৪৩): স্ত্রী যদি বয়সে বড় স্বামী চান, তবে তা বৈধ; বরং উভয়ের সম্মতিক্রমে বিয়ে সম্পন্ন হলে বয়স কোনো বাধা নয়।
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (৪/১৬০): স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য বিয়েকে অবৈধ করে না, এটি সম্পূর্ণরূপে একটি সামাজিক পছন্দ।

সতর্কতা:
আপনার উক্তিটি যদি এমন অর্থে হতো যে "বয়সে ছোট বিয়ে করা ইসলামে নিষিদ্ধ বা গুনাহ", তাহলে সেটি ভুল হবে। কিন্তু আপনি শুধু নিজের জন্য অপছন্দ প্রকাশ করেছেন, যা জায়েয।

উপসংহার:
আপনার কথাটি কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক নয় এবং তওবা করার মতো কোনো গুনাহ সেখানে নেই। বরং এটি আপনার বৈধ ব্যক্তিগত পছন্দ। আল্লাহ আপনার মানসিকতা বুঝবেন এবং আপনাকে উত্তম জীবনসঙ্গী দান করুন। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.