হায়েজ অবস্থায় শুক্রবার সূরা কাহাফ ও রাতে সূরা মুলক তিলাওয়াত করা জায়েজ কি না?
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
হায়েজ (মাসিক) অবস্থায় নারীদের জন্য পবিত্র কুরআন স্পর্শ করা এবং তিলাওয়াত করা (আয়াত মুখে উচ্চারণ করা) নিষিদ্ধ। তবে কিছু বিশেষ নিয়মে কুরআনের আয়াত মুখে উচ্চারণ করা জায়েজ আছে, যেমন জিকির, দোয়া, প্রশংসা ইত্যাদি। সূরা কাহাফ এবং সূরা মুল্ক কুরআনের অংশ হওয়ায় হায়েজ অবস্থায় এগুলো তিলাওয়াত করা জায়েজ নয়। তবে আপনি যদি মনে মনে বা মোবাইল/অডিও থেকে শুনেন, তবে তা জায়েজ। অথবা তাফসির বা অনুবাদ পড়তে পারেন। শুক্রবার সূরা কাহাফ এবং রাতে সূরা মুল্ক পড়ার বিশেষ ফজিলত থাকলেও, হায়েজ অবস্থায় তা সরাসরি তিলাওয়াত করা যাবে না।
হানাফি ফিকহের বিধান:
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, হায়েজ অবস্থায় কুরআনের কোনো আয়াত অন্তত এক আয়াত পরিমাণ তিলাওয়াত করা (মুখে উচ্চারণ) নাজায়েজ। এটি হারাম। (রদ্দুল মুহতার, ১/২৯৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৮)
তবে নিম্নোক্ত অবস্থায় জায়েজ:
- কুরআনের আয়াত জিকির বা দোয়া হিসেবে পড়া (যেমন "রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাহ...")
- তাসবিহ বা তাহমিদ (যেমন "আলহামদুলিল্লাহ" ইত্যাদি)
- কুরআনের শব্দ দিয়ে আল্লাহর প্রশংসা করা
- কুরআন তাফসির বা অনুবাদ পড়া
- মোবাইল বা অডিও থেকে কুরআন শোনা
★সূরা কাহাফ এবং সূরা মুলকের জন্য বিশেষ আমলের ফজিলত হাদিসে প্রমাণিত (মুসলিম, তিরমিজি), কিন্তু হায়েজ অবস্থায় তা সরাসরি তিলাওয়াত করা নয়, বরং শোনা বা মনে মনে পড়া জায়েজ।
শ্রেষ্ঠ পন্থা:
- শুক্রবার সকালে সূরা কাহাফের অডিও শুনুন বা অনুবাদ পড়ুন।
- রাতে সূরা মুল্কের অডিও শুনুন বা মনে মনে এর অর্থ নিয়ে চিন্তা করুন।
- শুদ্ধ তিলাওয়াতের জন্য অপেক্ষা করুন পবিত্র হওয়া পর্যন্ত।
রেফারেন্স:
- রদ্দুল মুহতার (১/২৯৩)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৩৮)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/২৫২)
- ফাতাওয়া উসমানী (২/২২৩)
- বেহেশতি জেওর (হায়েজের অধ্যায়)