অসুস্থ ব্যক্তির নামাজ ও ওযুর বিধান, মুসাফির অবস্থায় কসর নামাজ, হাত নাড়াতে পারেন কিন্তু উঠতে পারেন না এমন রোগীর জন্য দিকনির্দেশনা।

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 2756
Questioner: Rekha Moni
Question Asked: 15 Jul 2026, 09:04 PM
Reviewed & Published: 15 Jul 2026, 09:14 PM
Views: 44
Tokens: 6,022
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
আমার হাজবেন্ড ১৪দিন যাবত আইসিইউ তে ছিলো। বর্তমানে কেবিনে।এখন তার সেন্স আছে কিন্তু কথা বলতে পারেনা।উঠে বসতে পারেনা। সাপোর্ট দিয়ে বসাতে হয়।
কথা বলতে না পারলে ও সব মনে আছে।কথা বলতে একটু সময় লাগবে ডাক্তার বলেছে।হাত নড়াচড়া করতে পারে।
আর বর্তমান চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সে ঢাকায় আছপ।সেটাও তো মুসাফির এর দুরত্বে। কিন্তু মুসাফির হওয়ার জন্য তো নিয়ত লাগবে?
তাহলে তার কী কসরের সালাত পড়তে হবে নাকি এমনি সালাত।
এ অবস্থায় তার নামাজ ওযু কিভাবে কন্টিনিউ করবে?
একটু দ্রুত জানাবেন।

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রথমে আপনার স্বামীর সুস্থতার জন্য আমরা দো‘আ করি। আল্লাহ তাকে দ্রুত আরোগ্য দান করুন।

আপনার স্বামীর বর্তমান অবস্থা (কথা বলতে না পারা, উঠতে না পারা, তবে হাত নড়াচড়া করতে পারেন এবং সব কিছু বুঝতে পারেন) বিবেচনায় নামাজ ও ওযু সম্পর্কে হানাফি মাযহাবের বিধান নিচে দেওয়া হলো।


১. নামাজের পদ্ধতি (অসুস্থ ব্যক্তির জন্য)

যে ব্যক্তি দাঁড়াতে অক্ষম, তিনি বসে নামাজ পড়বেন। যদি বসতেও অক্ষম হন, তবে চিৎ বা কাৎ হয়ে ইশারা (মাথা বা হাতের ইশারা) দ্বারা নামাজ পড়বেন।
আপনার স্বামী হাত নড়াতে পারেন, তাই তিনি বসে না পারলে চিৎ হয়ে শুয়ে বা কাৎ হয়ে ইশারা দ্বারা নামাজ আদায় করবেন।

  • সিজদা ও রুকুর ইশারা:
    রুকুর জন্য সামান্য, সিজদার জন্য একটু বেশি ঝুঁকবেন। মাটিতে মাথা রাখার প্রয়োজন নেই, ইশারাই যথেষ্ট। যদি বসে পড়তে পারেন, তাহলে বসে রুকু-সিজদা ইশারায় করবেন।
    (রদ্দুল মুহতার, ২/৯৯; বেহেশতি জেওর, ৩/১২)

  • কিরাত ও অন্যান্য:
    তিনি যেহেতু কথা বলতে পারছেন না, তাই কিরাত (সূরা পড়া) মুখে উচ্চারণ না করে মনে মনে পড়বেন। জিহবা নাড়াতে পারলে যতটুকু পারেন পড়বেন, অসমর্থ হলে শুধু মনে মনে নিয়তই যথেষ্ট। আরবীতে না পারলে বাংলা অর্থ চিন্তা করবেন। তবে যতটা সম্ভব আরবী উচ্চারণের চেষ্টা করবেন।
    (ফাতাওয়া উসমানি, ১/৪২২)


২. ওযুর বিধান (কীভাবে কন্টিনিউ করবেন)

  • ওযু করা সম্ভব হলে:
    বিছানায় বসে বা সাহায্যে ওযু করবেন। পানি ব্যবহার করতে না পারলে তায়াম্মুম করবেন। তায়াম্মুমের জন্য হাত পাক করে মাটি বা পাথরে মারবেন (বা দেয়াল), তারপর মুখ ও ডান-বাম হাত মাসাহ করবেন।

  • যদি নিজে করতেও অক্ষম হন:
    অন্য কেউ তার হাত ধরে সাহায্য করবে।

৩. মুসাফির হওয়া (কসর বা পূর্ণ নামাজ?)

আপনার স্বামী বর্তমানে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আছেন, যা তার স্থায়ী বাসস্থান থেকে মুসাফিরের দূরত্বে (প্রায় ৭৭ কিমি বা তার বেশি)। মুসাফির হওয়ার জন্য শর্ত হলো—

  • সফর শুরু করার সময় নিয়ত করা (ঢাকা যাওয়ার সময়),
  • ১৫ দিনের কম থাকার ইচ্ছা থাকা।

যেহেতু তিনি শানে ১৫ দিন বা তার চেয়ে বেশি থাকছেন,তাই তিনি পূর্ণ নামাজ আদায় করবেন।

কসর নয়।

৪. ব্যবহারিক নির্দেশনা (দ্রুত সমাধান)

  1. প্রতি ওয়াক্তের জন্য:
    • শরীর পাক আছে কিনা নিশ্চিত হন (কাপড়-বিছানা নাপাক হলে পরিবর্তন করুন)।
    • যদি ওযু করা সম্ভব হয় (হাত ধোয়া, মুখ ধোয়া, মাসাহ), তবে করবেন। না পারলে তায়াম্মুম করুন (হাত মাটিতে/দেয়ালে মারুন, তারপর মুখ ও হাত মাসাহ)।
    • নামাজ বসে বা শুয়ে ইশারা দ্বারা পড়ুন। মাথা বা হাতের ইশারা যথেষ্ট।
    • মনে মনে সূরা পড়ুন, আরবীতে অক্ষম হলে বাংলা অর্থ চিন্তা করুন।

উপসংহার:
আপনার স্বামী যেহেতু হাত নড়াতে পারেন, তাই তিনি ইশারা করে নামাজ আদায় করবেন।বসা কষ্টকর হলে শুয়ে থেকেই ইশারা করে নামাজ আদায় করবেন। অযু করা তার শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জন্য ক্ষতিকর না হলে আপনারা তাকে অযু করিয়ে দিবেন।

দ্রুত আরোগ্যের জন্য আল্লাহর কাছে দো‘আ করবেন।

আল্লাহ তাকে সুস্থতা দিন এবং নামাজের তাওফিক দিন।

রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার: ১/২৩২, ২/৯৯, ২/৬০৫
  • বেহেশতি জেওর: ৩/১২, ৪/২২
  • ফাতাওয়া উসমানি: ১/৪২২, ২/২২২
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২৬
  • আল-হিদায়া: ১/৩৪২

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.