মোবাইল ব্যাংকিং কি জায়েয?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 261
Questioner: Md. Tanjim Ahammed Niloy
Question Asked: 17 May 2026, 11:49 PM
Reviewed & Published: 17 May 2026, 11:55 PM
Views: 9
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বিকাশ, নগদ, রকেট এগুলো ব্যবহার করা কি হালাল নাকি হারাম?

Answer

উত্তর:
বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) ব্যবহার করা মূলত জায়েজ (হালাল), তবে কিছু শর্ত ও সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক। কারণ এগুলো লেনদেনের একটি আধুনিক মাধ্যম, যা শরীয়াহ নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে যদি নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিশ্চিত করা যায়:

১. জায়েজ হওয়ার শর্তাবলী:

  • সুদ (রিবা) মুক্ত লেনদেন: কোনো প্রকার সুদি লেনদেন (যেমন: টাকা জমা রাখলে লাভ দেওয়া, বা ঋণে সুদ নেওয়া) না থাকলে এটি হালাল।
  • হারাম কাজে ব্যবহার না করা: জুয়া, মদ, ঘুষ ইত্যাদি হারাম কাজে টাকা লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার না করা।
  • সঠিক চুক্তি: ব্যবহারকারী ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনো ধোঁকা (গারার) বা অনিশ্চয়তা না থাকা।
  • বিনিময়ের নিয়ম: নগদ টাকা ও ইলেকট্রনিক মানি সমান ও সঠিকভাবে বিনিময় হওয়া।

২. সম্ভাব্য আপত্তি ও সমাধান:

  • সুদি ব্যাংকের সাথে সম্পৃক্ততা: অনেক MFS প্রতিষ্ঠান সুদি ব্যাংকের সাথে যুক্ত। তবে যদি প্রতিষ্ঠানটি নিজে সুদি কার্যক্রম না চালায় এবং ব্যবহারকারী শুধু লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে, তাহলে তা জায়েজ। ইমাম শাফেয়ী ও হানাফি ফুকাহায়ে কেরাম এই মত দিয়েছেন।
  • সার্ভিস চার্জ: নির্দিষ্ট ফি (যেমন: ক্যাশ আউট চার্জ) নেওয়া জায়েজ, কারণ এটি সেবার বিনিময়।
  • অর্থের নিরাপত্তা: প্রতিষ্ঠান অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে ব্যবহারকারীকে সতর্ক থাকতে হবে। তবে সাধারণত এটি কোম্পানির ঝুঁকি, যা ব্যবহারকারীর দায়িত্ব নয়।

৩. ফুকাহায়ে কেরামের ফতোয়া:

  • মুফতি তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) বলেন: "যদি MFS প্রতিষ্ঠান সুদি কার্যক্রমে না জড়ায় এবং গ্রাহকের টাকা সুদি কাজে না লাগায়, তবে তা হালাল।"
  • আল-হিদায়া ও ফতোয়া আলমগীরী: লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে ইলেকট্রনিক মানি (যেমন: ব্যাংক ড্রাফট) বৈধ, যদি তা জাল না হয় এবং বিনিময়ের নিয়ম সঠিক থাকে।
  • রদ্দুল মুহতার: আজ্ঞাবহ পরিস্থিতিতে (দুরূত) ইলেকট্রনিক লেনদেন জায়েজ, কারণ এটি 'ওয়াদি' (গচ্ছিত) ব্যবস্থার অনুরূপ।

৪. শরীয়াহ নির্দেশনা:

  • সতর্কতা: সম্পূর্ণ সুদমুক্ত MFS প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা উত্তম। যদি বাধ্য হয়ে সুদি ব্যাংকের সাথে যুক্ত MFS ব্যবহার করতে হয়, তবে শুধু জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করুন।
  • উদ্বৃত্ত অর্থ জমা না রাখা: দীর্ঘদিন টাকা জমা রাখা থেকে বিরত থাকা, কারণ সুদি কাজে ব্যবহারের আশঙ্কা থাকে।
  • হারাম কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ: যেমন অনলাইন জুয়া বা বেআইনি পণ্য কেনা।

সারসংক্ষেপ:

মোটকথা, বিকাশ/নগদ/রকেট ব্যবহার করা জায়েজ যদি:
✓ সুদি লেনদেনে জড়িত না হন।
✓ হারাম কাজে ব্যবহার না করেন।
✓ প্রতিষ্ঠানের সেবা ফি শুদ্ধ হয়।

তবে সম্পূর্ণ সুদমুক্ত প্রতিষ্ঠান (যেমন: ইসলামী ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং) বেছে নেওয়া অধিক নিরাপদ।

রেফারেন্স:

  • ফতোয়া উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ২৪০)
  • ইমদাদুল ফতোয়া (আল্লামা আশরাফ আলী থানভী, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৪৫)
  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৩০)
  • বাহিশতি জেওয়ার (মুফতি মুহাম্মদ শফি, অধ্যায়: লেনদেন)

আল্লাহু আলাম।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.