গান হারাম হলেও ইমান নষ্ট হয় না যতক্ষণ না হালাল মনে করা হয়।
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question No:
2579
Questioner:
Shawon
Question Asked:
12 Jul 2026, 08:14 AM
Reviewed & Published:
12 Jul 2026, 08:22 AM
Views:
58
Tokens:
3,027
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
সুন্নাতি লেবাস আছে এর লোকের পাশে বসে গান সুনলে ইমান যাবে কি
Answer
উত্তর:
গান-বাদ্য (মিউজিক) শ্রবণ করা ইসলামী শরিয়তে হারাম। তবে গান শুনলে ইমান চলে যায়—এমন কোনো কথা কোরআন-হাদিস বা হানাফি ফিকহের কিতাবে নেই। ইমান ততক্ষণ পর্যন্ত বাকি থাকে যতক্ষণ ব্যক্তি হারামকে হালাল মনে না করে বা ইসলামের কোনো মৌলিক বিষয় অস্বীকার না করে। তাই গান শোনা একটি কবিরা গুনাহ, কিন্তু এটি ইমান নষ্ট করে না।
প্রাসঙ্গিক মাসআলা:
- যদি কেউ গান শোনে এবং মনে করে এটি হালাল (অর্থাৎ শরিয়তের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞাকে অস্বীকার করে), তাহলে তা কুফরি হতে পারে। কিন্তু সাধারণত গান শোনা মানুষ জানে এটি গুনাহ, তবুও করে—এতে ইমান যায় না।
- কোনো সুন্নাতি পোশাক পরিহিত ব্যক্তির পাশে বসে গান শুনলে তার ইমান নষ্ট হওয়ার কোনো বিশেষ কারণ নেই। তবে সুন্নাতি পোশাক পরা ব্যক্তির জন্য গানের মজলিসে বসা নিজেও গুনাহ, এবং এতে তার দ্বীনদারির ওপর প্রশ্ন আসে।
হানাফি ফিকহের উল্লেখযোগ্য সূত্র:
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): গান-বাদ্য হারাম হওয়ার ব্যাপারে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও তার শিষ্যদের মত স্পষ্ট। তবে এটি ইমানের মূলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং এটি একটি কবিরা গুনাহ।
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ‘গান শোনা জায়েজ নয়; তবে যে শুনল সে কাফির হবে না, যতক্ষণ না হালাল মনে করে।’
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি আশরাফ আলী থানভী): “গান শোনা কবিরা গুনাহ, কিন্তু কুফর নয়। হারাম কাজ করলেই ইমান যায় না।”
পরামর্শ:
- যেকোনো ধরনের গান-বাদ্য থেকে দূরে থাকা উচিত। বিশেষত সুন্নাতি পোশাক পরা ব্যক্তির জন্য আরও বেশি সতর্কতা জরুরি, কারণ তার থেকে ইসলামের ভুল ধারণা ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে।
- গান শোনার অভ্যাস থাকলে তাওবা করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া আবশ্যক। ইমান রক্ষার জন্য গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা জরুরি, কিন্তু গুনাহ করলেই ইমান যায় না—এই ভুল ধারণা থেকে সাবধান থাকতে হবে।
সারকথা: গান শোনা হারাম ও কবিরা গুনাহ হলেও ইমান নষ্ট হয় না। কিন্তু গানকে হালাল মনে করা বা গানের মাধ্যমে ইবাদত মনে করা কুফরি। তাই তাওবা করে গান পরিহার করা প্রতিটি মুসলিমের কর্তব্য।