বিয়ের জন্য ঘটক/গায়রে মাহরাম পুরুষের সামনে বোরখা পরে এবং মুখ খুলা রেখে যাওয়া যাবে কি?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 2517
Questioner: Nilima Akter
Question Asked: 10 Jul 2026, 12:42 PM
Reviewed & Published: 10 Jul 2026, 01:40 PM
Views: 189
Tokens: 3,517
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আস-সালামুয়ালাইকুম
১। বিয়ের জন্য ঘটক/অন্য কোনো পুরুষের সামনে বোরখা পরে মুখ খুলে যাওয়া যাবে কি?
২। মুখ ঢেকে পরিপূর্ণ পর্দা করে যাওয়া যাবে কি?
৩। যদি মুখ খুলে না যেতে চাই এবং পিতা-মাতা বাধ্য করে তারপরেও না যাই তাহলে কি পিতা-মাতার অবাধ্যতার কারণে গুনাহগার হবো?

Answer

উত্তর: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আপনার তিনটি প্রশ্নের জবাব নিচে দেওয়া হলো:

১. বিয়ের জন্য ঘটক/অন্য কোনো পুরুষের সামনে বোরখা পরে মুখ খুলে যাওয়া যাবে কি?

না, জায়েজ হবে না। শরীয়তে গায়রে মাহরাম পুরুষের সামনে নারীর জন্য পুরো শরীর আবৃত রাখা ফরজ (রদ্দুল মুহতার, ১/৪০৫)। বিয়ের ঘটক বা অন্য কোনো পুরুষ গায়রে মাহরাম হওয়ায় তার সামনে মুখ খোলা জায়েজ নয়। বিয়ের মতো প্রয়োজনে বোরখা পরে ঘটকের সাথে কথা বলা যেতে পারে, তবে মুখ খোলার প্রয়োজন নেই; বোরখা বা পর্দার আড়ালেই আলোচনা করা সম্ভব।

কুরআন ও হাদিসের দলিল:

  • আল্লাহ বলেন: "আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। আর তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তবে যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া।" (সূরা আন-নূর: ৩১)
  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, গায়রে মাহরাম পুরুষের সামনে নারীর মুখ খোলা ও হাতের কব্জি পর্যন্ত খোলা জায়েজ, শর্তহীনভাবে নয়; তবে ফিতনার আশঙ্কা থাকলে তা জায়েজ নয়। অধিকাংশ হানাফি ফুকাহার মতে, বর্তমান যুগে ফিতনা ব্যাপক হওয়ায় মুখ ঢেকে রাখাই উত্তম এবং তা ওয়াজিবের কাছাকাছি (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৪৫)।

২. মুখ ঢেকে পরিপূর্ণ পর্দা করে যাওয়া যাবে কি?

হ্যাঁ, যাবে এবং এটি উত্তম। পরিপূর্ণ পর্দা (নিকাব বা মুখ ঢেকে) বাইরে যাওয়া শরিয়তসম্মত এবং এটি নারীর জন্য অধিক নিরাপদ ও মর্যাদার বিষয়। হাদিসে এসেছে, নবী (সা.)-এর যুগে সাহাবি নারীরা মুখ ঢেকে হজ-উমরা করতেন (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৮৩৮)। তাই বোরখা ও নিকাব পরে বাইরে যাওয়া বৈধ।

৩. যদি মুখ খুলে না যেতে চাই এবং পিতা-মাতা বাধ্য করে তারপরেও না যাই তাহলে কি পিতা-মাতার অবাধ্যতার কারণে গুনাহগার হবো?

না, গুনাহগার হবেন না। পিতা-মাতার আনুগত্য ফরজ, তবে তা শুধুমাত্র বৈধ ও শরিয়তসম্মত বিষয়ে। যদি পিতা-মাতা আপনাকে শরিয়তবিরোধী কোনো কাজে বাধ্য করেন, তবে তাদের কথা না মানা জায়েজ এবং গুনাহের বিষয় নয়। বরং আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধে কাজ করলে গুনাহ হবে।

নীতিমালা:

  • "সৃষ্টিকর্তার নাফরমানিতে সৃষ্টির আনুগত্য নেই।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭২৫৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮২৪)
  • পিতা-মাতাকে বিনয়ের সাথে বোঝানোর চেষ্টা করুন, দলিল-প্রমাণ দিয়ে বুঝান। যদি তারা একগুঁয়ে হন, তবুও আপনি পর্দা না ভাঙলেই আল্লাহর কাছে মাজুর হবেন। বরং পিতা-মাতার অবাধ্যতা বলতে শরিয়তসম্মত কাজে অবাধ্যতা বোঝায়, এখানে তা প্রযোজ্য নয়।

উপসংহার: আপনার জন্য মুখ ঢেকে সম্পূর্ণ পর্দা করা ওয়াজিব। পিতা-মাতার বাধ্যতার কারণে শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন করবেন না। আল্লাহর বিধান মেনে চলার চেষ্টা করুন, তাঁর সাহায্য কামনা করুন।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে দ্বীনের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। (আমিন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.