বোতলে মুখ লাগিয়ে পানি পান করা কি জায়েজ? এবং এরকম পানির বোতল বিক্রি করা কি জায়েজ?
Halal and Haram · Hanafi
Question
পানির বোতল তো বিক্রি করা তো জায়েয, তবে এমন কিছু বোতল আছে যেগুলো মুখ না লাগালে পানি খাওয়া যায় না। আমি একজনের কাছ থেকে শুনেছি পানির পাত্র উপরে নিয়ে সেটি থেকে পানি খাওয়া নাকি জাহান্নামিদের পানি খাওয়ার মতো, জানিনা কত টুকু সত্য, তবে পানির বোতল থেকে সেভাবেই খেতে হয়। তাছাড়া আমাদের দ্বীনি বোনেরা যদি সেটা থেকে পানি খেতে যায় তাহলে পর্দা খুলে নিতে হয়। এখন এটা কি জায়েয হবে?
Answer
উত্তর: পানির বোতল বিক্রি করা কি জায়েয?
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নটির মূল বিষয় দুটি: (১) পানির বোতলের মুখ লাগিয়ে পানি পান করা জাহান্নামীদের পানি পানের মতো কি না? (২) দ্বীনি বোনদের জন্য পর্দার প্রয়োজনীয়তা—বোতল থেকে পানি পান করতে গেলে পর্দা খোলা পড়তে পারে, তাই এমন বোতল বিক্রি করা জায়েয হবে কি?
১. বোতলের মুখ দিয়ে পানি পান করার বিধান
হাদিস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ মশক বা পাত্রের মুখ থেকে সরাসরি পানি পান করতে নিষেধ করেছেন। (সহীহ বুখারী, হাদিস: ৫৬২৮; সহীহ মুসলিম, হাদিস: ২০২৬)
হানাফি ফিকহে এই নিষেধাজ্ঞাকে মাকরূহ তানযীহী (অপছন্দনীয়, তবে হারাম নয়) গণ্য করা হয়েছে। কারণ এটি পাত্রের ভেতর অপবিত্রতা প্রবেশের সম্ভাবনা এবং শালীনতা বিরোধী বলে মনে করা হয়। তবে ব্যক্তিগত ও পরিচ্ছন্ন বোতল ব্যবহার করলে তা অপছন্দনীয় হলেও নাজায়েয নয়। (রাদ্দুল মুহতার, ১/২৮৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়্যা, ৫/৩৫৮)
কিন্তু প্রশ্নে উল্লেখিত “পাত্র উপরে নিয়ে পানি খাওয়া জাহান্নামিদের পানি খাওয়ার মতো”—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য হাদিস বা বক্তব্য আমাদের জানা নেই। বরং জাহান্নামিদের পানি পানের বিবরণ কুরআনে এসেছে “হামীম” (ফুটন্ত পানি) হিসেবে, যা পান করার পদ্ধতি সম্পর্কে ভিন্ন। এ ধরনের অপ্রমাণিত কথা বলা বা প্রচার করা উচিত নয়।
সারকথা: বোতলের মুখ লাগিয়ে পানি পান করা মাকরূহ হলেও তা হারাম নয়। বরং পাত্র থেকে পানি ঢেলে পৃথক পেয়ালায় পান করা উত্তম। বোতলে মুখ না লাগিয়ে যদি স্ট্র ব্যবহার করা সম্ভব হয়, তবে মাকরূহও থাকবে না।
২. দ্বীনি বোনদের পর্দা ও বোতল ব্যবহার
বোনেরা যদি বোতলের মুখ সরাসরি মুখে লাগিয়ে পান করতে গিয়ে পর্দা খোলার প্রয়োজন হয় (যেমন নেকাব বা মুখ ঢেকে রাখা অবস্থায়), তাহলে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে সমস্যাজনক। তবে বোতল নিজে কোনো পাপের কারণ নয়; ব্যবহারের পদ্ধতি এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
বোনেরা নিম্নলিখিত উপায়ে পর্দা রক্ষা করে বোতল থেকে পানি পান করতে পারেন:
- স্ট্র ব্যবহার করা
- পানি অন্য পাত্রে ঢেলে নেওয়া
- একান্ত গোপন স্থানে পানি পান করা (যেখানে গায়রে মাহরাম নেই)
যেহেতু বোতলটির বৈধ ও পর্দা রক্ষাকারী ব্যবহার সম্ভব, তাই তা বিক্রি করা জায়েয। কোনো বস্তুকে শুধু সম্ভাব্য অপব্যবহারের কারণে নাজায়েয বলা হয় না, যতক্ষণ তার অধিকাংশ ব্যবহার বৈধ হয়। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৩৮০; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/১১১)
৩. বোতল বিক্রির সার্বিক বিধান
পানির বোতল নিজে পবিত্র ও উপকারী বস্তু। সাধারণ ব্যবহারে তা জায়েয। বোতলের আকৃতি বা ডিজাইনের কারণে যদি মুখ লাগানোই একমাত্র উপায় হয়, তবুও তা বিক্রি করা নাজায়েয নয়, কারণ ক্রেতা সেটি স্ট্র দিয়ে বা অন্য উপায়ে পানি পান করতে পারে অথবা পৃথক কাপে ব্যবহার করতে পারে।
সারসংক্ষেপ:
- বোতলের মুখ লাগিয়ে পান করা মাকরূহ তানযীহী, হারাম নয়।
- “জাহান্নামিদের পানি পানের মতো” বক্তব্যটি ভিত্তিহীন; এ ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকা উচিত।
- বোনেরা পর্দা রক্ষার্থে স্ট্র বা পৃথক পাত্র ব্যবহার করতে পারেন।
- বোতল বিক্রি করা সম্পূর্ণ জায়েয ও বৈধ।
আল্লাহু তা‘আলাই সবচেয়ে ভালো জানেন।