মোবাইল স্কিনে রওজা বা দরুদ শরিফ থাকলে টয়লেটে নেওয়া যাবে কি?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 1849
Questioner: Ruma Akter
Question Asked: 20 Jun 2026, 09:33 PM
Reviewed & Published: 20 Jun 2026, 09:40 PM
Views: 73
Tokens: 3,745
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়াবরকাতুহ।
মোবাইলের ওয়ালপেপারে যদি রাসুলুল্লাহ সাঃ এর রওজা এর ছবি দেয়া থাকে এবং তার উপরে যদি দরুদ লেখা থাকে তাহলে সেই মোবাইল টয়লেটে নিলে কি গুনাহ হবে?

Answer

উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

আপনার প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো: হ্যাঁ, এই অবস্থায় মোবাইলটি টয়লেটে নেওয়া মাকরুহে তাহরিমি (নিষিদ্ধের কাছাকাছি) হবে এবং গুনাহের কারণ হতে পারে। কারণ, যে বস্তুর সাথে কুরআনের আয়াত, দরুদ শরিফ, বা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর সাথে সম্পৃক্ত কোনো পবিত্র বাক্য বা প্রতীক (যেমন রওজা মোবারকের ছবি যাতে সম্মান ও পবিত্রতার অনুভূতি জাগে) লেখা বা অঙ্কিত থাকে, সেটিকে অপবিত্র স্থানে (যেমন টয়লেট) নেওয়া ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী।

বিস্তারিত দলিল ও বিশ্লেষণ:

ইসলামী ফিকহের মূলনীতি হলো, যে কোনো বস্তুর সাথে যদি আল্লাহ বা তাঁর রাসূল (সা.)-এর নাম, কুরআনের আয়াত বা ধর্মীয় পবিত্রতা সম্পৃক্ত থাকে, তাহলে সেটিকে সর্বোচ্চ সম্মান ও পবিত্রতার সাথে রাখা ও ব্যবহার করা ওয়াজিব। অশ্লীল বা অপবিত্র স্থানে (যেমন টয়লেট, বাথরুম) সে বস্তু নিয়ে যাওয়া ও ব্যবহার করা মাকরুহে তাহরিমি (নিষিদ্ধের কাছাকাছি)।

১. হাদিসের দলিল: হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) টয়লেটে প্রবেশের সময় তাঁর আংটি (যাতে ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ খোদাই করা ছিল) খুলে রাখতেন। এটি প্রমাণ করে যে, পবিত্র বাক্য বা নাম সম্বলিত বস্তুকে অপবিত্র স্থানে নেওয়া উচিত নয়। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৭৪৭; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৯; ইমাম শাফেঈ (রহ.) এটিকে সহিহ বলেছেন)

২. ফিকহি নীতি: হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহে (যেমন ফাতাওয়া হিন্দিয়া, রদ্দুল মুহতার, ইমদাদুল ফাতাওয়া) স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:

  • যে কাগজে বা জিনিসে আল্লাহ বা রাসূলের নাম, কুরআনের আয়াত, বা দরুদ শরিফ লেখা থাকে, তা টয়লেটে নেওয়া মাকরুহে তাহরিমি।
  • যদি তা অপবিত্র স্থানে নেওয়া জরুরি হয়, তবে সেটিকে এমনভাবে পবিত্র কাপড়ে বা কভারে ঢেকে রাখতে হবে যাতে পবিত্র বাক্যগুলো অপবিত্র স্থানে না পৌঁছায় বা অপবিত্রতার স্পর্শ না লাগে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩২২; রদ্দুল মুহতার, ১/৪১৮)

৩. ওয়ালপেপারের বিশেষ অবস্থা: যেহেতু ওয়ালপেপারে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা মোবারকের ছবি এবং দরুদ শরিফ লেখা আছে, তাই এটি একটি অত্যন্ত পবিত্র ও সম্মানজনক বিষয়ের প্রতিনিধিত্ব করে। টয়লেটে এটি নেওয়া মানে অপবিত্র স্থানে পবিত্র বাক্য ও পবিত্র স্থানের ছবি নিয়ে যাওয়া, যা ইসলামী আদবের পরিপন্থী।

৪. কিছু ব্যতিক্রম ও সমাধান:

  • প্রয়োজন: যদি টয়লেটে জরুরি প্রয়োজনে (যেমন ফোন কল রিসিভ করতে) মোবাইল নিতে হয়, তাহলে ওয়ালপেপার পরিবর্তন করে এমন কিছু বসিয়ে নিন যাতে পবিত্র কোনো বাক্য বা ছবি না থাকে। অথবা ফোনটি এমন কভার বা পকেটে রাখুন যা পবিত্র বাক্যগুলোকে সম্পূর্ণরূপে ঢেকে রাখে।
  • নিয়ত: আপনার যদি ছবি ও দরুদকে অপমান করার কোনো নিয়ত না থাকে, তবুও টয়লেটে নেওয়াটা আদবের খিলাফ হওয়ায় গুনাহ হবে। তাই এ থেকে বিরত থাকা জরুরি।

সারসংক্ষেপ ও দিকনির্দেশনা:

| বিষয় | হুকুম | | :--- | :--- | | মোবাইলের ওয়ালপেপারে রওজার ছবি ও দরুদ শরিফ থাকলে তা টয়লেটে নেওয়া | মাকরুহে তাহরিমি (গুনাহ হবে) | | টয়লেটে নেওয়ার প্রয়োজন থাকলে করণীয় | ওয়ালপেপার পরিবর্তন করে ফেলুন। | | দরুদ বা ছবি ছাড়া সাধারণ ওয়ালপেপার | টয়লেটে নেওয়া জায়েজ, তবে প্রয়োজন ছাড়া না নেওয়াই উত্তম। |

চূড়ান্ত পরামর্শ: আপনার মোবাইলের ওয়ালপেপারটি বদলে ফেলুন যাতে পবিত্র কোনো বাক্য বা ছবি না থাকে। এভাবে আপনি সহজেই গুনাহ থেকে বাঁচতে পারবেন এবং টয়লেটে মোবাইল ব্যবহার করতে কোনো অসুবিধা হবে না। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশের জন্য ওয়ালপেপারে দরুদ বা রওজার ছবি রাখা ভালো, তবে সেটি ব্যবহারের সময় এর পবিত্রতা রক্ষা করাও অপরিহার্য।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন এবং তাঁর হাবীব (সা.)-এর প্রতি সঠিক সম্মান ও আদব রক্ষা করার তাওফিক দান করুন। (আমিন)



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.