স্বপ্নে ব্যাখ্যা জানতে চাই?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 1773
Questioner: Mahbuba
Question Asked: 18 Jun 2026, 06:09 PM
Reviewed & Published: 18 Jun 2026, 06:11 PM
Views: 30
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু,

আমার বোন ১২-১৫ দিন আগে স্বপ্নে দেখে যে ,,,আমি আমার বোনের তরফ থেকে বলছি।

স্বপ্নটা হচ্ছে: আমার বোন নিজের স্বামীর সাথে কোথাও বেড়াতে গিয়েছে। যাদের বাসায় বেড়াতে গিয়েছে তাদের গেট খোলা । আমার বোন এবং তার জামাই হাত ধরে ছিলো। গেটের ভেতরের ওই আত্মীয়তা বোনের জামাইকে বলছে ,"তুমি তার হাত ছেড়ে দাও". কিন্তু আমার বোনের জামাই কিছুতেই আমার বোনের হাত ছাড়েনি। তিনি বারবার বলছিলেন ছেড়ে দাও কিছু হবে না ছেড়ে দাও ছেড়ে দাও। কিন্তু কিছুতেই আমার বোনের জামাই আমার বোনের হাত ছাড়েনি শেষ পর্যন্ত।

এখন কালকে আমার বোন স্বপ্নে দেখে যে, আমার বোনের শশুর বাসায় সবাই কুমির পালে। একটা বড় কুমির । স্বপ্নের শশুর কেও দেখে,(আমার বোনের শশুর ২০ বছর আগেই মারা গিয়েছে ) । অথচ আমার বোন তার শ্বশুরকে সামনাসামনি আসলে দেখেনি। তারা সবাই বাইরে যায় এভাবে ঘুরতে বাসায় এসে দেখে যে তার শশুরও নেই এবং কুমিরও নেই। তারপর খোঁজাখুঁজি লেগে যায় যে কুমির কোথায়। হঠাৎ করে তারা দেখতে পায় যেটা শ্বশুর দাঁড়িয়ে আছে এবং হুট করে কুমির পেছন থেকে এসে তার শশুরকে খাবলা মেরে নিয়ে যায়।

বি: দ্র : আমার বোন ২০২৪ এর একটি স্বপ্ন দেখে যে কারো উপর যাদু করা হচ্ছে ঠিক তার দুই মাস পরে আমার বাবার উপর যাদু করা ধরা পড়ে এবং সে স্বপ্নে মোটামুটি যেভাবে দেখেছিলো ঠিক সেই অবস্থায় আমার বাবার সাথে হয়। আমার বোন আজকাল কোনো কারণ ছাড়াই অনেক মন ক্ষুন্ন থাকে এবং কোন কারন ছাড়াই তার কান্না আসে। এখন কিছুদিনের মধ্যে সে পরপর এই দুইটা স্বপ্ন দেখে ্। এখন আমরা খুবই চিন্তিত যে তার এই স্বপ্নের কারণ কি। তার চেহারাও আগে থেকে খুবই ফ্যাকাসে হয়ে গিয়েছে এবং মনের চাঞ্চল্য হারিয়ে গিয়েছে। অনুগ্রহ করে স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা এবং বিশ্বস্ত রুকিয়াকরীর পরিচয় দিন। যে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে রুখিয়া করে থাকে । আমরা দরিদ্র মানুষ খুব টাকা দিয়ে রুকিয়া করানোর অবস্থা আমাদের নেই

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রথমেই জেনে রাখা জরুরি যে, ইসলামী শরিয়তে স্বপ্ন সাধারণত তিন প্রকারে বিভক্ত:
১. রহমানি স্বপ্ন: যা আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ বা সতর্কবার্তা।
২. শয়তানি স্বপ্ন: যা শয়তানের পক্ষ থেকে ভীতি প্রদর্শন বা মনকে অস্থির করার জন্য।
৩. নফসের খেয়াল: যা দৈনন্দিন চিন্তা-ভাবনার প্রতিফলন।

আপনার বোনের স্বপ্নদ্বয় ও তার বর্তমান মানসিক অবস্থা (অকারণে কান্না, বিষণ্নতা, ফ্যাকাসে চেহারা) শয়তানি প্রভাব বা নজর বা যাদুর ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষত পূর্বের অভিজ্ঞতা (২০২৪ সালের স্বপ্নের পর বাস্তবে যাদু ধরা পড়া) এটি আরও জোরালো করে। তবে স্বপ্নের ব্যাখ্যা সরাসরি দেওয়া উচিত নয়; বরং শরিয়তসম্মত রুকিয়াহ ও দোয়ার মাধ্যমে প্রতিকার গ্রহণ করাই উত্তম।

স্বপ্নের সম্ভাব্য ব্যাখ্যা (ইসলামী দৃষ্টিকোণ):

প্রথম স্বপ্ন (হাত ধরা ও ছাড়তে রাজি না হওয়া):

  • এটি ইঙ্গিত করতে পারে যে আপনার বোনের স্বামীর সাথে তার সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ়, কিন্তু বাইরের কেউ (আত্মীয়) তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে স্বামী এতে সফল হচ্ছে না। এটি একটি ভালো লক্ষণ যে তাদের সম্পর্ক টিকে থাকবে।

দ্বিতীয় স্বপ্ন (কুমির ও শশুর):

  • কুমির সাধারণত শত্রু, বিপদ বা যাদুর প্রতীক। শশুরের মৃত্যুর পরও তাকে জীবিত দেখা এবং কুমির দ্বারা নিহত হওয়া ইঙ্গিত করে যে, পারিবারিকভাবে কোনো পুরোনো শত্রুতা বা যাদুর প্রভাব রয়েছে যা আপনাদের পরিবারকে লক্ষ্য করে। এটি সতর্কবার্তা যে, আপনাদের পরিবারের সুরক্ষা জোরদার করা প্রয়োজন।

বর্তমান মানসিক অবস্থা:

  • অকারণে কান্না, মনক্ষুণ্নতা, ফ্যাকাসে চেহারা—এগুলো নজর, যাদু বা শয়তানি প্রভাবের সাধারণ লক্ষণ। বিশেষ করে পূর্বের অভিজ্ঞতা (বাবার উপর যাদু) প্রমাণ করে যে, আপনার পরিবার যাদু-টোনার শিকার হতে পারে।

প্রয়োজনীয় করণীয় (কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক):

১. রুকিয়াহ (যাদু-নজর থেকে সুরক্ষা):

নিম্নলিখিত আমলগুলো নিয়মিত করুন:

  • সূরা ফাতিহা (৩ বার)
  • আয়াতুল কুরসি (সূরা বাকারা: ২৫৫) (৩ বার)
  • সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস (প্রত্যেকটি ৩ বার)
  • সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (২৮৫-২৮৬)
  • দরুদ শরিফ (১১ বার)

প্রতিদিন ফজর ও মাগরিবের পর এই আমলগুলো করুন এবং আপনার বোনের ওপর পড়ে ফুঁ দিন।

২. বিশ্বস্ত রুকিয়াহকারীর পরিচয়:

আপনাদের এলাকায় যদি কোনো বিশ্বস্ত আলেম বা হাফেজ থাকেন, যিনি কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী রুকিয়াহ করেন, তার কাছে যান। অন্যথায়, নিজেরাই ঘরে বসে রুকিয়াহ করতে পারেন। দরিদ্র হওয়ার কারণে টাকা খরচের প্রয়োজন নেই; বরং নিজেরা নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়া করাই যথেষ্ট।

৩. অতিরিক্ত সুরক্ষামূলক আমল:

  • রাতে ঘুমানোর আগে সূরা বাকারা শেষ পর্যন্ত পড়ার চেষ্টা করুন। হাদিসে এসেছে, যে ঘরে সূরা বাকারা পড়া হয়, সেখানে শয়তান প্রবেশ করে না। (মুসলিম)
  • আপনার বোন যেন প্রতিদিন ৪ কুল (সূরা কাফিরুন, ইখলাস, ফালাক, নাস) পড়ে ঘুমায়।
  • হাদিসের দোয়া: "বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআস মিহি শাইয়ুন ফিল আরদি ওয়ালা ফিসসামায়ি ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম" (সকাল-সন্ধ্যায় ৩ বার পড়লে কোনো ক্ষতি হয় না) - আবু দাউদ।

৪. মনের প্রশান্তির জন্য:

  • বেশি বেশি ইসতিগফার (আস্তাগফিরুল্লাহ) পড়ুন।
  • সূরা ইনশিরাহ (আলাম নাশরাহ) পড়লে মন প্রশান্ত হয়।
  • সাদকাহ দিন, যদিও অল্প পরিমাণ হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "সাদকাহ বিপদ দূর করে।" (তিরমিজি)

বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা:

  • স্বপ্নকে অতিরিক্ত গুরুত্ব না দিয়ে বরং বাস্তব সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিন।
  • যাদু-টোনার বিশ্বাস থেকে বেরিয়ে এসে শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করুন।
  • যদি কোনো ব্যক্তি রুকিয়াহ করতে গিয়ে বেশি টাকা দাবি করে, তবে তা এড়িয়ে চলুন। সঠিক রুকিয়াহ সবসময় বিনামূল্যে বা সামান্য খরচে করা যায়।

আল্লাহ আপনার বোনকে এই কঠিন সময় থেকে উদ্ধার করুন এবং পরিবারকে শান্তি দিন। আমিন।
(রেফারেন্স: ফাতাওয়া উসমানি, ইমদাদুল ফাতাওয়া, বাহিশতি জেওর, মাআরিফুল কুরআন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.