রুমে প্লাস্টিকের প্রাণী রাখা কি জায়েজ
Halal and Haram · Hanafi
Question
1 এইগুলা রাখা কি নাজায়েজ ,
2 এগুলো থাকলে কি নামাজে বা ইবাদতের কোন ক্ষতি হয় ।
3। ছোট বাচ্চাদের এরকম পুতুল ও প্লাস্টিকের প্রাণী দিয়ে খেলা কি জায়েজ
Answer
উত্তর
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين
আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে আমরা সংক্ষেপে হানাফি ফিকহের মূলনীতি উল্লেখ করছি: প্রাণীর ত্রিমাত্রিক মূর্তি তৈরি বা রাখা সাধারণত হারাম, কারণ এটি আল্লাহর সৃষ্টির অনুকরণ এবং শিরকের পথ খুলে দেয়। তবে ছোট শিশুদের খেলনা হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে মেয়েদের পুতুল খেলার হাদিসের ভিত্তিতে। নিচে আপনার তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো—
১. টেবিলে সাজিয়ে রাখা কি নাজায়েজ?
উত্তর: হ্যাঁ, প্রাণীর আকৃতির প্লাস্টিকের মূর্তি সৌন্দর্য বা প্রদর্শনের জন্য টেবিলে সাজিয়ে রাখা নাজায়েজ (হারাম)।
- কারণ: হানাফি ফিকহের বিশুদ্ধ মতানুসারে প্রাণীর প্রতিমূর্তি (ছায়াবিশিষ্ট ত্রিমাত্রিক মূর্তি) তৈরি, রাখা বা বিক্রি করা হারাম। এটি আল্লাহর সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য রাখে এবং শিরকের দিকে নিয়ে যেতে পারে। (রদ্দুল মুহতার, ১/৫৪৮; ফাতাওয়া আলমগীরী, ৫/৩৫৮)
- টেবিলে সাজানো মানে তা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে রাখা, যা সরাসরি হারাম কাজের অন্তর্ভুক্ত। তাই এগুলি সরিয়ে ফেলা বা শিশুদের খেলার জায়গায় রাখা উচিত।
সতর্কতা: যদি মূর্তিগুলি এমন ছোট হয় যে ছায়া পড়ে না বা চোখে স্পষ্ট না হয়, তাহলেও সাজিয়ে রাখা মাকরূহ তাহরীমি (গুরুতর অপছন্দনীয়) হবে। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৪৮)
২. এগুলো থাকলে নামাজে বা ইবাদতে ক্ষতি হয় কি?
উত্তর: উক্ত মূর্তিগুলি যদি আপনার ঘরে টেবিলের ওপর থাকে এবং আপনি সেই ঘরেই নামাজ পড়েন, তাহলে নামাজ মাকরূহ তাহরীমি হবে যদি মূর্তিগুলি আপনার সামনে বা পাশে থাকে। তবে নামাজের সঠিকতা নষ্ট হয় না।
- হানাফি ফিকহের বড় কিতাবসমূহে এসেছে, যে স্থানে জানবহর প্রাণীর ছবি বা মূর্তি থাকে সেখানে নামাজ পড়া মাকরূহ। (আল-হিদায়া, ১/৬০; রদ্দুল মুহতার, ২/৪০৫)
- যদি মূর্তিগুলি আপনার দৃষ্টির বাইরে (যেমন পিছনে) বা কাপড় দিয়ে ঢাকা থাকে, তবে মাকরূহ নয়। তবে উত্তম হলো ঘর থেকে সরিয়ে ফেলা বা ঢেকে দেওয়া।
উপসংহার: নামাজের সময় মূর্তিগুলির উপস্থিতি নামাজের সওয়াব কমিয়ে দেয়, কিন্তু নামাজ নষ্ট করে না। এজন্য ইবাদতের পূর্ণ ফায়দা পেতে এগুলি সরিয়ে নেওয়া জরুরি। (ফাতাওয়া উসমানী, ১/৩৫২)
৩. ছোট বাচ্চাদের প্লাস্টিকের প্রাণী দিয়ে খেলা কি জায়েজ?
উত্তর: হ্যাঁ, ছোট বাচ্চাদের (ছেলে-মেয়ে উভয়ের) জন্য প্লাস্টিকের প্রাণী দিয়ে খেলা জায়েজ, তবে শর্ত হলো—
- খেলার জিনিস হিসেবে ব্যবহার হবে, প্রদর্শন বা পূজার জন্য নয়।
- বাচ্চারা ছোট (নাবালেগ) এবং খেলনা হিসেবে ব্যবহার করছে।
- দলিল: হযরত আয়েশা রা. বলেছেন, “আমি নবীজীর সাথে খেলনা পুতুল নিয়ে খেলতাম” (বুখারি, মুসলিম)। হানাফি ফিকহে এই অনুমতি খেলনা প্রাণীর জন্যও দেওয়া হয়েছে, কারণ তা বাচ্চাদের মনোরঞ্জন ও শিক্ষার জন্য। (শরহু মাআনিল আছার, ৪/৩২৫; বাহেশতি জেওর, ৪/৮৮)
- তবে বাচ্চা বড় হলে (বালেগ হওয়ার পর) এই অনুমতি নেই। বর্তমান যুগের হানাফি ফকীহগণ (মুফতি তাকি উসমানি, মুফতি মুহাম্মদ শফি) এ ব্যাপারে একমত যে ছোটদের খেলনা জায়েজ। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৫০)
নির্দেশনা: পিতার উচিত বাচ্চাদের খেলনা হিসেবে দেওয়া এবং সেগুলি সাজিয়ে না রেখে খেলার জায়গায় রাখা। বড়দের ঘরে সাজিয়ে রাখা নাজায়েজ।
তবে কেহ কেহ বাচ্চাদের ক্ষেত্রেও সর্বছুরতে নাজায়েজ বলেছেন।
সারসংক্ষেপ
- টেবিলে সাজানো নাজায়েজ (হারাম)। সরিয়ে ফেলুন বা শিশুদের খেলার জন্য দিন।
- নামাজের স্থানে থাকলে মাকরূহ তাহরীমি, নামাজের সওয়াব কমে। সরিয়ে বা ঢেকে নিন।
- ছোট বাচ্চাদের খেলা জায়েজ, তবে বড় হওয়ার পর নয়। কেহ কেহ ছোট বাচ্চাদের জন্যেও নাজায়েজ বলেছেন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন।
** المرجع**
- রদ্দুল মুহতার (১/৫৪৮, ২/৪০৫)
- ফাতাওয়া আলমগীরী (৫/৩৫৮)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (৪/২৪৮)
- ফাতাওয়া উসমানী (১/৩৫২, ২/৪৫০)
- বাহেশতি জেওর (৪/৮৮)
- আল-হিদায়া (১/৬০)
- শরহু মাআনিল আছার (৪/৩২৫)
والله أعلم بالصواب