আয়াতটি আম না খাস, জাকাত

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 1732
Questioner: GOLAM OHIB
Question Asked: 17 Jun 2026, 03:08 PM
Reviewed & Published: 17 Jun 2026, 03:28 PM
Views: 64
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ। সূরা আনফালের ৩৯ নং আয়াত আ'ম না কি খাস?

২। আমার আম্মার জাকাত ২০-২৫ টকা হয়। একসাথে তার পক্ষে দেয়া সম্ভাব না। তাই ১০০,৫০০,১০০০ টাকা করে বিভিন্ন সময় দেন। এখন সোনার দাম যেহেতু ঊঠা নামা করে তাই কিভাবে জাকাতের হিসাব করবেন

Answer

উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্ন ১: সূরা আনফালের ৩৯ নং আয়াত কি ‘আম (সাধারণ) না খাস (বিশেষ)?

সূরা আনফালের ৩৯ নং আয়াতটি হলো:
"وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ ۚ فَإِنِ انْتَهَوْا فَإِنَّ اللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ بَصِيرٌ"
(অর্থ: “তাদের সাথে যুদ্ধ কর যতক্ষণ না ফিতনা দূর হয় এবং দ্বীন সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর জন্য হয়ে যায়। অতঃপর যদি তারা বিরত হয়, তবে তারা যা করে আল্লাহ তা দেখেন।”)

এই আয়াতটি হানাফি ফিকহের দৃষ্টিকোণ থেকে ‘আম (সাধারণ) হিসেবে গণ্য। অর্থাৎ এটি সাধারণভাবে সব কাফিরের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নির্দেশ দেয়, যতক্ষণ না তারা শিরক ও ফিতনা ত্যাগ করে। তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, এই ‘আম নির্দেশের প্রয়োগ ইসলামী রাষ্ট্রের ইমাম বা খলিফার অনুমতি সাপেক্ষে; ব্যক্তিগতভাবে কারো জন্য স্বতঃস্ফূর্ত যুদ্ধ জায়েজ নয়। (তাফসিরে মাআরিফুল কুরআন, সূরা আনফালের ৩৯ নং আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)

কিন্তু কিছু মুফাসসির এটিকে খাস বলেও মত দিয়েছেন, যেমন মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রযোজ্য। তবে হানাফি মাযহাবে এটিকে ‘আম হিসেবেই গ্রহণ করা হয়েছে, যেহেতু আয়াতে ‘ফিতনা’ শব্দটি সাধারণভাবে কুফর ও শিরককে বোঝায়। (রদ্দুল মুহতার, কিতাবুল জিহাদ)

সারসংক্ষেপ:

  • হানাফি মাযহাবে এই আয়াতটি ‘আম
  • তবে এর প্রয়োগ ইসলামী রাষ্ট্রের ইমামের নেতৃত্বে বা অনুমতি সাপেক্ষে।

প্রশ্ন ২: আমার আম্মার জাকাতের হিসাব কিভাবে করবেন, যখন তিনি অল্প অল্প করে বিভিন্ন সময়ে দেন এবং সোনার দাম ওঠানামা করে?

প্রথমেই জেনে নিতে হবে, জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে হবে এবং এক বছর পূর্ণ হতে হবে। নিসাব হলো:

  • সোনার ক্ষেত্রে: ৭.৫ তোলা (৮৭.৪৮ গ্রাম) বা সমমূল্যের নগদ অর্থ।
  • রুপার ক্ষেত্রে: ৫২.৫ তোলা (৬১২.৩৬ গ্রাম) বা সমমূল্যের নগদ অর্থ।

আপনার আম্মা যদি এই নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক না হন, তাহলে তার উপর জাকাত ফরজ নয়। তবে তিনি যদি স্বেচ্ছায় কিছু দেন, তা নফল সদকাহ হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু তিনি যদি জাকাত ফরজ হওয়ার নিয়তে দেন, তাহলে নিচের নিয়ম অনুসরণ করুন:

জাকাতের হিসাব করার পদ্ধতি:

১. সনদ নির্ধারণ: যেদিন থেকে আপনার আম্মার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ এসেছে, সেদিন থেকে এক বছর পূর্ণ হলে জাকাত ফরজ হয়। সে সময়ের সোনার দাম ধরে জাকাত হিসাব করতে হবে।

  • উদাহরণ: যদি তার কাছে ১ জানুয়ারি ২০২৪-এ ৭.৫ তোলা সোনা থাকে, তাহলে ১ জানুয়ারি ২০২৫-এ জাকাত ফরজ হবে। সে দিনের সোনার বাজার দর ধরে ২.৫% জাকাত দিতে হবে।

২. অনিয়মিত কিস্তিতে জাকাত প্রদান:

  • আপনি বলেছেন, তিনি ১০০, ৫০০, ১০০০ টাকা করে বিভিন্ন সময় দেন। এটি যদি জাকাতের বকেয়া পরিশোধের নিয়তে দেওয়া হয়, তাহলে প্রতিটি কিস্তি প্রদানের দিনের সোনার দাম ধরে হিসাব করা উচিত। তবে যেহেতু সোনার দাম ওঠানামা করে, তাই ঝামেলা এড়ানোর জন্য সাধারণত বছরের শেষে বা যখন পুরো জাকাত আদায় করবেন, তখনকার সোনার দাম ধরা উত্তম
  • হানাফি ফিকহে এটি জায়েজ। (ফাতাওয়া উসমানি, জাকাত অধ্যায়)

৩. সোনার দাম ওঠানামার ক্ষেত্রে:

  • জাকাত ফরজ হওয়ার সময় (অর্থাৎ এক বছর পূর্ণ হওয়ার দিন) সোনার যে বাজার দর ছিল, সেটাই মাপকাঠি। পরবর্তীতে দাম বাড়লেও বা কমলেও জাকাতের দায় একই থাকবে।
  • কিন্তু আপনি যদি কিস্তিতে দেন, তাহলে প্রতিটি কিস্তির দিনের দাম ধরা অধিক সতর্কতা। তবে সহজ পদ্ধতি হলো: বছরের শেষে মোট জাকাতের পরিমাণ বের করে পুরো টাকা একসাথে দেওয়া। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে প্রতিটি কিস্তি দেওয়ার সময় আনুমানিক বর্তমান দাম ধরে হিসাব করে নিন।

উদাহরণ:

ধরুন, আপনার আম্মার কাছে ৭.৫ তোলা সোনা আছে এবং জাকাত ফরজ হওয়ার দিন (যেমন ১ জুন ২০২৪) সোনার দর ছিল ১,০০,০০০ টাকা প্রতি তোলা। তাহলে মোট মূল্য = ৭.৫ × ১,০০,০০০ = ৭,৫০,০০০ টাকা। জাকাত = ২.৫% = ১৮,৭৫০ টাকা। এখন তিনি যদি কিস্তিতে দেন, তাহলে:

  • ১ কিস্তি (১০০ টাকা): ১০০ টাকা জাকাতের অন্তর্ভুক্ত।
  • ২ কিস্তি (৫০০ টাকা): মোট ৬০০ টাকা জমা হলো।
    এভাবে শেষ কিস্তি দেওয়ার দিন পর্যন্ত পুরো ১৮,৭৫০ টাকা পূর্ণ করতে হবে।

মাসআলা: যদি জাকাতের টাকা অসম্পূর্ণ থাকে (যেমন ২০-২৫ টাকা বাকি), তাহলে তা দেওয়া জরুরি। বাকি টাকা একসাথে বা কিস্তিতেই দিন, কোনো অসুবিধা নেই।

সতর্কতা:

  • জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য নিসাবের মালিকানা ও এক বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত। আপনার আম্মার নিসাব আছে কিনা নিশ্চিত হোন।
  • জাকাত আদায়ের নিয়ত করা জরুরি। প্রতিটি কিস্তি দেওয়ার সময় মনে মনে নিয়ত করুন যে “আমি আমার জাকাতের অংশ আদায় করছি”।

সারসংক্ষেপ:

  • সোনার দাম ওঠানামা করলে জাকাত ফরজ হওয়ার দিনের দর ধরা হবে।
  • কিস্তিতে দিলে প্রতিটি কিস্তির দিনের দর ধরা অধিক সতর্কতা, তবে পুরো জাকাত একসাথে হিসাব করে দেওয়াই সহজ।
  • আপনার আম্মার জাকাতের পরিমাণ খুবই কম (২০-২৫ টাকা) হলে, তা সম্ভবত নফল সদকাহ। নিশ্চিত হোন যে তার উপর জাকাত ফরজ হয়েছে কিনা।

রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার, ‘কিতাবুজ জাকাত’
  • ফাতাওয়া উসমানি, জাকাত অধ্যায়
  • বেহেশতি জেওর, জাকাতের মাসাইল
  • মাআরিফুল কুরআন, সূরা আনফালের ৩৯ নং আয়াতের ব্যাখ্যা

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সঠিকভাবে জাকাত আদায় করার তাওফিক দেন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.