শিক্ষকতার ক্ষেত্রে দুর্বল স্মৃতির ছাত্রের ভুল সংশোধন না করতে পারলে কি গুনাহ হয়?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 1310
Questioner: Jakia Sultana
Question Asked: 06 Jun 2026, 08:16 PM
Reviewed & Published: 06 Jun 2026, 08:28 PM
Views: 44
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আস সালামু আলাইকুম, স্টুডেন্টকে কোনো সুরা বারবার প্র্যাকটিস করানোর পরও সে ভুলই পড়ে।ভুল ধরে দিলেও এটা মনে রাখতে পারে না,ওর জেহেনশক্তি খুব দূর্বল। পরবর্তীতে ও ভুল পড়লে কি আমার গুনাহ হবে?

Answer

প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্ন:
আমি একজন শিক্ষিকা। আমার এক ছাত্রীকে বারবার একটি সূরা শেখানোর পরও সে ভুল পড়ে। ভুল ধরিয়ে দিলেও সে মনে রাখতে পারে না, কারণ তার জ্ঞানশক্তি খুব দুর্বল। এই অবস্থায় যদি সে পরবর্তীতেও ভুল পড়ে, তাহলে কি আমার গুনাহ হবে?

উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার উদ্বেগটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং শিক্ষক হিসেবে আপনার দায়িত্ববোধ প্রশংসনীয়। ইসলামের দৃষ্টিতে শিক্ষক শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেন, আর শিক্ষার্থী বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করে। কেউ যদি সীমিত সামর্থ্যের কারণে বারবার ভুল করে, তাহলে শিক্ষক তার জন্য দায়ী হবেন না, যদি তিনি যথাযথ চেষ্টা করে থাকেন।

মূলনীতি ও দলিল

  1. নিয়ত ও প্রচেষ্টা মূল্যায়িত হয়
    ইসলামী শরিয়তে প্রতিটি কাজের ফলাফল নয়, বরং নিয়ত ও সৎপ্রচেষ্টার ওপর সওয়াব বা গুনাহ নির্ভর করে। হাদিসে এসেছে:

    "নিশ্চয়ই আমল (নির্ভর করে) নিয়তের ওপর, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করেছে।" (সহিহ বুখারী: ১)
    আপনি যদি আন্তরিকভাবে সঠিকভাবে শেখানোর চেষ্টা করেন, তাহলে আপনার কোনো গুনাহ হবে না, বরং আপনার চেষ্টার জন্য সওয়াব পাওয়ার আশা রাখতে পারেন।

  2. শিক্ষকের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ
    শিক্ষকের দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীকে সঠিকভাবে শেখানো, ভুল শুধরে দেওয়া এবং ধৈর্য ধরা। তবে শিক্ষার্থী যদি স্মৃতিশক্তি দুর্বলতার কারণে বারবার ভুল করে, তাহলে তা শিক্ষকের দোষ নয়। ইমাম ইবনে আবেদীন (রহ.) ‘রাদ্দুল মুহতার’ গ্রন্থে বলেন:

    "শিক্ষকের ওপর শিক্ষার্থীর ত্রুটি সংশোধনের চেষ্টা করা ওয়াজিব, কিন্তু শিক্ষার্থী যদি বোঝার ক্ষমতা না রাখে, তাহলে শিক্ষক দায়ী হবেন না।" (রাদ্দুল মুহতার, ১/৫৪২ – কিতাবুল ইলম অধ্যায়)

  3. নিরুপায়তায় ক্ষমা
    কুরআনে আল্লাহ বলেন:

    "আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন না।" (সূরা আল-বাকারা: ২৮৬)
    একইভাবে শিক্ষার্থীর যদি বোধশক্তি দুর্বল হয়, তাহলে তাকে শেখানোর ক্ষেত্রে আপনার সাধ্যের বাইরে কোনো দায়িত্ব নেই।

ব্যবহারিক পরামর্শ

  • ধৈর্য ও দোয়া: শিক্ষার্থীকে বকাঝকা বা চাপ না দিয়ে ধৈর্যের সাথে শেখান। তার জন্য দোয়া করুন যেন আল্লাহ তার স্মৃতিশক্তি উন্নত করেন।
  • পদ্ধতি পরিবর্তন: ছোট ছোট অংশে ভাগ করে শেখান। ভিজ্যুয়াল বা অডিও সহায়তা ব্যবহার করতে পারেন। বারবার পুনরাবৃত্তি করুন, কিন্তু বকাঝকা নয়।
  • ওস্তাদের ভূমিকা: আপনার চেষ্টা সওয়াবের কারণ হবে। শিক্ষার্থী যদি কোনোদিনও সঠিকভাবে পড়তে পারে, তাহলে আপনিও তার সওয়াবের অংশীদার হবেন।
  • যদি শিক্ষার্থী ইচ্ছাকৃতভাবে অলসতা করে: তবে সেটি ভিন্ন বিষয়। সেক্ষেত্রে আপনি তাকে উপদেশ দেবেন এবং প্রয়োজনে অভিভাবকের সাথে যোগাযোগ করবেন। কিন্তু আপনার বর্ণনায় মনে হচ্ছে শিক্ষার্থী সক্ষমতার অভাবে ভুল করছে।

মূল ফতোয়া

  • হানাফি ফিকহশিক্ষকের গুনাহ হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি যথাযথ চেষ্টা করে যান।
  • ‘ফাতাওয়া উসমানি’ (প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৫৫)-এ বলা হয়েছে: "যদি শিক্ষার্থী শিখতে অক্ষম হয় এবং শিক্ষক তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে থাকেন, তাহলে শিক্ষকের জন্য কোনো অসুবিধা নেই।"
  • ‘ইমদাদুল ফাতাওয়া’ (২/৪৫০)-এ আছেঃ "শিক্ষকের ওপর ওয়াজিব হলো ভালোভাবে বোঝানো, আর ছাত্রের ওপর হলো তা আয়ত্ত করার চেষ্টা করা। ছাত্রের অক্ষমতা শিক্ষকের জন্য বোঝা নয়।"

উপসংহার

আপনার গুনাহ হবে না, ইনশাআল্লাহ। বরং আপনি একটি সওয়াবের কাজ করছেন। আপনার উচিত শিক্ষার্থীর জন্য দোয়া করা এবং তার সামর্থ্য অনুযায়ী শেখানোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। আল্লাহর রহমতে একদিন সে হয়তো ঠিকঠাক পড়তে পারবে। আপনার এই ধৈর্যই আপনার জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।

আল্লাহ তায়ালা আপনার প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং শিক্ষার্থীকে হেফাজত দান করুন। (আমিন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.