মেয়েদের জন্য চুল কতটুকু ছোট করা জায়েজ?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 1308
Questioner: Nayla Ahmad
Question Asked: 06 Jun 2026, 08:05 PM
Reviewed & Published: 06 Jun 2026, 08:13 PM
Views: 48
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

السلام عليكم ورحمة الله وبركاته
উস্তাজ আমার কপাল বড় এবং সামনে দিয়ে চুল একটু কম। সামনে দিয়ে কিছু ছোট চুল আছে। সেগুলো কি আমি কেটে একটু শেপ দিতে পারবো যেনো কপালটা বেশি বড় না দেখায়? আর চুল কতটুক ছোট করা যায় মেয়েদের জন্য?

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্ন দুইটি:

  1. সামনের ছোট চুল কেটে শেপ দেওয়া যাবে কি না, যাতে বড় কপাল ঢাকা যায়?
  2. মেয়েদের জন্য চুল কতটুকু ছোট করা জায়েজ?

হানাফী ফিকহ অনুযায়ী জবাব:

প্রথম অংশ:
বড় কপাল ঢাকার উদ্দেশ্যে সামনের চুল কেটে (যেমন ফোরলক বা ব্যাং কাট) শেপ দেওয়া মেয়েদের জন্য জায়েজ। শর্ত হলো—এতে পুরুষদের চুলের স্টাইল বা কাফির-ফাসিক নারীদের সাজ-সজ্জার মতো না হয়। যেহেতু এটি কপাল ঢাকা ও নিজেকে সুন্দর করার জন্য বৈধ প্রক্রিয়া, তাই কোনো গুনাহ নেই।

হাদীসে এসেছে, নবীজি (সা.) মেয়েদের জন্য মাথা মুণ্ডন করা নিষেধ করেছেন, তবে সামান্য কাটার অনুমতি দিয়েছেন (সুনানে নাসাঈ, হাদীস: ৫২৪৪)। ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, মেয়েদের জন্য চুল কাটা জায়েজ, তবে পুরুষের মতো খুব ছোট করা মাকরুহ (রদ্দুল মুহতার, ৬/৪১৯)। অল্প কেটে সাজানো নিষিদ্ধ নয়।

দ্বিতীয় অংশ: মেয়েরা চুল কতটুকু ছোট করতে পারে?
হানাফী মাজহাবে মেয়েদের চুল কাটার ব্যাপারে মূলনীতি হলো:

  • জায়েজ: স্বামীর জন্য সাজতে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য, অথবা চুলের ডগা ফাটা দূর করার জন্য অল্প কাটা।
  • নাজায়েজ: পুরুষের চুলের মতো ছোট করা (যেমন ছোট ছেলে বা পুরুষদের হেয়ারকাট), অথবা কাফির নারীদের নকল করা।

আপনার নির্দিষ্ট সমস্যা:
ছোট চুল কেটে শেপ দেওয়া কপাল ঢাকার জন্য সম্পূর্ণ বৈধ। বেশি চুল কাটার দরকার নেই, শুধু সামনের কিছু চুল কাটবেন। এতে পুরুষদের মতো দেখাবে না, বরং নারীদের সাধারণ রীতি।

উপসংহার:

  • সামনের চুল কেটে শেপ দিয়ে কপাল ঢাকা জায়েজ
  • মেয়েদের চুল সাধারণত কানের লতি থেকে কিছু নিচে রাখা নিরাপদ, তবে যদি স্বামীর পছন্দ হয় বা কপাল ঢাকার প্রয়োজন হয়, তবে তার চেয়েও কিছুটা ছোট (তবে পুরুষসদৃশ নয়) করা যেতে পারে।

আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

প্রাসঙ্গিক কিতাব:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন) – ৬/৪১৯
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানবী) – ২/২২৯
  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতী তাকী উসমানী) – ২/২৮৬
  • ফাতাওয়া আলমগীরী – ৫/৩৬২

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.