প্রসাবের পর টিস্যু নেওয়ার পর নতুন কাপড় পরিধান করা হলে নতুন কাপড় কি নাপাক হবে?

Waswasa-OCD · Hanafi

Questioner: Shadek Hossain
Question Asked: 30 May 2026, 02:13 PM
Reviewed & Published: 30 May 2026, 02:27 PM
Views: 56
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি প্রসাবের পর টিস্যু নিয়েছি, এবং তার পর মনে হলো কিছুটা কাপড়ে লেগেছে,তার পর আমি অনেকক্ষন বাইরে ছিলাম,বাসায় এসে কাপড় পরিবর্তন করেছি, তাহলে নতুন কাপড় কি নাপাক হয়ে গেছে,আমি নতুন করে পানি নেই নাই,,,
আর একটা বিষয় কোনো জায়গায় যদি অনেক আগে নাপাক পড়ে তাহলে পরবর্তীতে ঐ জায়গায় নাপাক থাকে, যেমন কোনো সোফায় যদি বছর খানেক আগে নাপাক পড়ে, কোনো কারনে পরিষ্কার করার বুঝ ছিল না, এখনো কি ওই জায়গা নাপাক, ওইখানে বসলেও কি নাপাক হবে

Answer

উত্তর:
প্রশ্নের দুটি অংশের জবাব নিম্নরূপ—

১. প্রস্রাবের পর টিস্যু ব্যবহার ও কাপড় পরিবর্তন প্রসঙ্গে

যদি আপনি নিশ্চিত না হন যে আপনার পুরনো কাপড়ে প্রস্রাব লেগেছে (শুধু ‘মনে হওয়া’ বা সন্দেহ), তাহলে শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী সন্দেহ নাপাকি সাব্যস্ত করার জন্য যথেষ্ট নয়। তাই আপনার পুরনো কাপড় পাকই ছিল। আর যদি আপনি নিশ্চিত হন যে কাপড়ে প্রস্রাব লেগেছে, তাহলে সেটি নাপাক হয়ে গিয়েছিল।

এখন আপনি বাসায় এসে পুরনো কাপড় খুলে নতুন কাপড় পরেছেন। এখানে নতুন কাপড় নাপাক হওয়া নির্ভর করে আপনার হাত বা শরীরের সাথে নাপাকি লেগেছিল কিনা তার ওপর।

  • যদি পুরনো কাপড়ের নাপাকি শুকনো অবস্থায় ছিল এবং আপনি শুকনো হাতে নতুন কাপড় পরেন, তাহলে সাধারণত নাপাকি স্থানান্তরিত হবে না। তাই নতুন কাপড় পাকই থাকবে।
  • কিন্তু যদি আপনার হাত বা শরীর ভিজা ছিল বা নাপাকি সরাসরি নতুন কাপড়ে লেগে যায়, তাহলে নতুন কাপড় নাপাক হবে।

যেহেতু আপনি ‘পানি না নেওয়ার’ কথা বলেছেন, অর্থাৎ ইস্তিঞ্জা বা হাত ধোয়া ছাড়াই কাপড় পরিবর্তন করেছেন, তাই যদি আপনার হাতে নাপাকি লেগে থাকে, তাহলে তা নতুন কাপড়ে লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে শুকনো নাপাকি শুকনো বস্তুতে সাধারণত স্থানান্তরিত হয় না (রদ্দুল মুহতার, ১/২১২-২১৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৪৪)।

সারকথা:

  • নাপাকি নিশ্চিত না হলে কোনো কিছুই নাপাক গণ্য হবে না।
  • নিশ্চিত হয়ে থাকলে পুরনো কাপড় নাপাক ছিল। নতুন কাপড় নাপাক হবে কিনা তা নির্ভর করে হাতের মাধ্যমে নাপাকি স্থানান্তরিত হয়েছে কিনা তার ওপর। শুকনো অবস্থায় সাধারণত স্থানান্তর হয় না, তবে পানির কারণে বা ভেজা অবস্থায় স্থানান্তর হতে পারে।

উত্তম পদ্ধতি:
ভবিষ্যতে এ ধরনের সন্দেহ দূর করতে প্রস্রাবের পর পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা বা টিস্যু ব্যবহারের পর হাত ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিত।


২. পুরনো নাপাকির স্থায়িত্ব ও সোফায় বসা প্রসঙ্গে

যদি কোনো জায়গায় (যেমন সোফা) এক বছর আগেও নাপাকি (যেমন পেশাব, রক্ত ইত্যাদি) লেগে থাকে এবং তা পানি দিয়ে ধৌত করা না হয়, তাহলে সেই স্থান আজও নাপাকই আছে। নাপাকি শুকিয়ে গেলেও তা পাক হয় না; পাক হতে হলে পানি দিয়ে ধোয়া আবশ্যক। (রদ্দুল মুহতার, ১/২০৭; ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৪৩)

এখন ওই সোফায় বসলে কী হবে?

  • যদি নাপাকি শুকনো থাকে এবং আপনি বসার সময় তা আপনার কাপড়ে বা শরীরে লাগে, তাহলে আপনার কাপড় বা শরীর নাপাক হবে।
  • যদি নাপাকি এমনভাবে শুকিয়ে যায় যে তা অন্য বস্তুতে স্থানান্তরিত হওয়ার মতো অবস্থায় না থাকে (যেমন সম্পূর্ণ শুষ্ক ও গুঁড়ো না), তাহলে বসলে সাধারণত কিছু হয় না। তবে সতর্কতামূলকভাবে সেই স্থান এড়িয়ে চলা বা পরিষ্কার করে নেওয়া উত্তম।

পরিষ্কারের পদ্ধতি:
সোফার নাপাক অংশটি পানি দিয়ে তিনবার ধুয়ে ফেলতে হবে (যাতে নাপাকি দূর হয়)। যদি পানি ব্যবহার করা কঠিন হয়, তবে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ফেললেও চলবে, তবে পানি ব্যবহারই উত্তম। (ফাতাওয়া উসমানী, ১/২৪৫)

সারকথা:

  • পুরনো নাপাকি ধোয়া ছাড়া পাক হয় না।
  • সেখানে বসলে নাপাকি কাপড়ে বা শরীরে লাগার সম্ভাবনা থাকলে তা এড়িয়ে চলা উচিত।
  • নাপাকি দূর করার জন্য পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়া জরুরি।

উল্লেখযোগ্য হানাফি কিতাবের রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (১/২১২-২১৩, ১/২০৭)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৪৪)
  • ফাতাওয়া উসমানী (১/২৪৫)
  • বেহেশতী জেওর (পবিত্রতা অধ্যায়)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.