অন্যান্য কাজ করার সময় কুরআন তিলাওয়াত বা ইসলামিক লেকচার শুনা

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Questioner: Entishar Rashid Chowdhury
Question Asked: 30 May 2026, 10:27 AM
Reviewed & Published: 30 May 2026, 01:50 PM
Views: 34
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

অনেকে অন্যান্য কাজ করার সময় কুরআন তিলাওয়াত বা ইসলামিক লেকচার শুনতে থাকে। এটা করা যাবে?

Answer

প্রশ্নের উত্তর:

অনেকে অন্যান্য কাজ করার সময় কুরআন তিলাওয়াত বা ইসলামিক লেকচার শুনতে থাকেন। এ বিষয়টি জায়েজ কি না তা নির্ভর করে উদ্দেশ্য, মনোযোগ এবং সম্মান রক্ষার উপর। নিম্নে হানাফি মাজহাবের আলোকে বিশদ বিশ্লেষণ প্রদান করা হলো:

১. কুরআন তিলাওয়াত শোনার বিধান:

কুরআন তিলাওয়াত শোনার সময় মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা এবং সম্মান প্রদর্শন করা ওয়াজিব বা মুস্তাহাব। আল্লাহ বলেন:
"যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা তা মনোযোগ সহকারে শোন এবং নীরব থাক, যাতে তোমরা রহমত প্রাপ্ত হও।" (সূরা আল-আরাফ: ২০৪)

  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, কুরআন শ্রবণের সময় মনোযোগ দেওয়া ওয়াজিব নয়, তবে সুন্নত। অন্যদিকে, ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, এটি ওয়াজিবের কাছাকাছি। (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ১/৫৫৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১০৮)
  • আধুনিক ফতওয়ায় (যেমন: মুফতি তাকি উসমানি): অন্য কাজে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় কুরআন শোনা মাকরূহে তানজিহি (অপছন্দনীয়) মনে করা হয়, কারণ এটি কুরআনের প্রতি অমনোযোগিতা ও অশ্রদ্ধার কারণ। তবে যদি ব্যক্তি কাজে এতটাই ব্যস্ত থাকে যে মনোযোগ দিতে পারে না, তাহলে শোনা থেকে বিরত থাকা উত্তম।

উদাহরণ:

  • ড্রাইভিং বা রান্না-র মতো কাজের সময় কুরআন শোনা জায়েজ, তবে শর্ত হলো যেন মনোযোগের ঘাটতি না হয় এবং কুরআনের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশ না পায়।
  • টিভি দেখা বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় কুরআন শোনা হারাম বা মাকরূহ হবে, কারণ এটি কুরআনের মর্যাদা হানির কারণ।

২. ইসলামিক লেকচার শোনার বিধান:

ইসলামিক লেকচার বা ওয়াজ-নসীহত শোনা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) এবং এতে কোনো সমস্যা নেই, যদি শোনার উদ্দেশ্য জ্ঞান অর্জন ও আমল করা হয়। তবে মনোযোগ না দিয়ে শোনা বা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় শোনা মাকরূহ নয়, বরং এতে সওয়াব কম হতে পারে।

শর্ত:

  • লেকচারে যেন কোনো হারাম বা সন্দেহজনক বিষয় না থাকে।
  • কাজের ধরন এমন না হয় যে, শোনার প্রতি অমনোযোগিতা বা অশ্রদ্ধার সৃষ্টি হয়।

সারসংক্ষেপ:

| বিষয় | বিধান | শর্ত |
|------|-------|------|
| কুরআন তিলাওয়াত শোনা | মাকরূহে তানজিহি (অপছন্দনীয়) যদি মনোযোগ না থাকে; জায়েজ যদি মনোযোগী হয়। | কুরআনের প্রতি সম্মান বজায় রাখা এবং অমনোযোগিতা পরিহার করা। |
| ইসলামিক লেকচার শোনা | জায়েজ (অনুমোদিত) এবং মুস্তাহাব, তবে উত্তম হলো মনোযোগী হয়ে শোনা। | লেকচার যেন শরিয়তসম্মত হয় এবং কাজের ক্ষতি না করে। |

হানাফি কিতাবের রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (১/৫৫৬): "কুরআন শ্রবণের সময় মনোযোগ দেওয়া সুন্নত, তবে কিছু ফকিহ ওয়াজিব বলেছেন।"
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/১০৮): "অন্য কাজে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় কুরআন শোনা মাকরূহ।"
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/২৫০): "ইসলামিক লেকচার শোনা জায়েজ, তবে ফরজ কাজের সময় নয়।"
  • মাআরিফুল কুরআন (৪/৫২০): "কুরআন শ্রবণের আদব হলো নীরব থাকা এবং মনোযোগ দেওয়া।"

পরামর্শ:

  • কুরআন তিলাওয়াত শুনলে পুরো মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করুন। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে শোনা থেকে বিরত থাকাই উত্তম।
  • ইসলামিক লেকচার কাজের সময় শুনতে কোনো বাধা নেই, তবে মনোযোগ দিয়ে শুনলে অধিক সওয়াব হবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সব কাজে ইখলাস ও আদব দান করুন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.