নেশা অবস্থায় নামাজ পড়া নিষেধ বলে আমি কি ঠিক কাজ করেছি?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
২।গাজা, ইয়াবা,ঘুমের ঔষধ খেয়ে নেশা করার পর কতক্ষন পরে নামাজে যাওয়া যাবে
৩।গাজা ইয়াবা ঘুমের ঔষধ খেয়ে নেশা করলে কি নামাজ ছাড়া অন্যন্য ইবাদাত করা যাবেনা
Answer
উত্তর:
আপনার প্রশ্নের উত্তর নিম্নরূপ:
প্রথম প্রশ্ন:
"নেশা অবস্থায় নামাজ পড়া নিষেধ" বলা কি ঠিক?
উত্তর: হ্যাঁ, আপনি সম্পূর্ণ ঠিক কাজ করেছেন। কারণ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজ পড়া হারাম এবং নামাজ সহীহ হয় না। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজের নিকটবর্তী হইও না, যতক্ষণ না তোমরা যা বলছ তা বুঝতে পারো।" (সূরা আন-নিসা: ৪৩)
অতএব, নেশা দূর না হওয়া পর্যন্ত তাকে নামাজ পড়তে নিষেধ করা এবং পরে নামাজ কাযা করার নির্দেশ দেওয়া শরিয়তের বিধান। তবে তাকে নেশা ত্যাগ করতে এবং তওবা করতে উৎসাহিত করা জরুরি।
দ্বিতীয় প্রশ্ন:
গাজা, ইয়াবা বা ঘুমের ওষুধ খেয়ে কতক্ষণ পর নামাজ পড়া যাবে?
উত্তর: নেশার প্রভাব সম্পূর্ণ দূর না হওয়া পর্যন্ত নামাজ পড়া জায়েজ নয়। নেশা কাটার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা শরিয়তে নির্ধারিত নেই; এটি নির্ভর করে নেশার ধরন, পরিমাণ এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর। তবে সাধারণত:
- যদি নেশা এমন হয় যে ব্যক্তি কথা বলতে, হাঁটতে বা সাধারণ জ্ঞান ফিরে না পায়, তাহলে নামাজ পড়া জায়েজ নয়।
- নেশার প্রভাব সম্পূর্ণ চলে গেলে (যেমন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে) নামাজ পড়া যাবে।
- হানাফি ফিকহের মূলনীতি: নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির নামাজ সহীহ হয় না, এবং নেশাকালীন সময়ের নামাজ কাযা করতে হবে। (রদ্দুল মুহতার, ১/৪৫১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২৪)
তৃতীয় প্রশ্ন:
নেশা অবস্থায় নামাজ ছাড়া অন্যান্য ইবাদত (যেমন রোজা, যাকাত, হজ) করা যাবে কি?
উত্তর: না, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কোনো ইবাদতই সহীহ হবে না। কারণ ইবাদতের জন্য জ্ঞান (আক্বল) ও ইচ্ছা (নিয়্যত) থাকা আবশ্যক। নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি জ্ঞান ও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, তাই তার ইবাদত গ্রহণযোগ্য নয়। নির্দিষ্টভাবে:
- রোজা: নেশাগ্রস্ত অবস্থায় রোজা রাখা নিষিদ্ধ এবং রোজা ভঙ্গ হবে।
- যাকাত: নেশাগ্রস্ত অবস্থায় যাকাত দিলে তা সহীহ হবে না, কারণ ইচ্ছা ও জ্ঞান শর্ত।
- হজ: নেশাগ্রস্ত অবস্থায় হজ করলে তা সহীহ হবে না।
- অন্যান্য ইবাদত: দোয়া, জিকির, তিলাওয়াত ইত্যাদিও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় করা উচিত নয়।
সারসংক্ষেপ: নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সব ধরনের ইবাদত থেকে বিরত থাকতে হবে এবং নেশা ত্যাগ করে তওবা করা ফরজ।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে নির্দেশনা:
- নেশা হারাম:
"তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, এ দুটির মধ্যে বড় পাপ ও মানুষের জন্য কিছু লাভ রয়েছে, কিন্তু এদের পাপ লাভের চেয়ে অনেক বড়।" (সূরা আল-বাকারা: ২১৯)
- নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির নামাজ অগ্রহণযোগ্য:
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:"নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজ পড়ো না, যতক্ষণ না তোমরা জ্ঞান ফিরে পাও।" (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১১১)
সুপারিশ: নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিকে ইসলামী পরিবেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করুন এবং তাকে নেশা ত্যাগের জন্য সাহায্য করুন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নেশা থেকে হেফাজত করুন এবং নেক আমল করার তাওফিক দিন। (আমিন)