খ্রিস্টান ধর্ম কি সঠিক?
Dawah Q&A · Christian Background
Question
Answer
উত্তরের সূচনা
আপনার চিন্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্মানের সাথে আমি সেটি গ্রহণ করছি। আপনি ঈসা (আ.)-এর পুনরাগমনকে কেন্দ্র করে একটি যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন—যে তিনি আসবেন, তাই তাকে নবী মেনে নেওয়া উচিত, এবং তিনি এসে সবাইকে খ্রিস্টান হতে বলবেন। এই ধারণাটি অনেক খ্রিস্টান ভাই-বোনের মনে থাকে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ঈসা (আ.)-এর পুনরাগমন সম্পর্কে কুরআন ও সহিহ হাদিসে যা বলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি এসে খ্রিস্টান ধর্ম প্রচার করবেন না; বরং তিনি ইসলামের অনুসারী হিসেবে আসবেন এবং ইসলামেরই প্রতিষ্ঠা করবেন।
আসুন আমরা কুরআন, হাদিস ও যুক্তির আলোকে বিষয়টি পরিষ্কার করি।
১. ঈসা (আ.)-এর পুনরাগমনের প্রকৃত উদ্দেশ্য
কুরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, ঈসা (আ.) ছিলেন একজন নবী ও রাসূল, এবং তিনি আল্লাহর একত্ববাদ (তাওহিদ) প্রচার করেছেন। তিনি কখনো নিজেকে ঈশ্বর বা ঈশ্বরের পুত্র দাবি করেননি। বরং তিনি বলেছিলেন:
"নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর দাস। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং নবী করেছেন।" (সূরা মারিয়াম, ১৯:৩০)
এখন, তাঁর পুনরাগমন সম্পর্কে সহিহ হাদিসে এসেছে:
"ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ.) অবতরণ করবেন। তিনি বিচার করবেন কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী, তিনি ক্রুশ ভেঙে দেবেন, শূকর হত্যা করবেন এবং জিজিয়া কর রহিত করবেন।" (সহিহ বুখারি, হাদিস ২২২২; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৫৫)
লক্ষ করুন: তিনি ক্রুশ ভেঙে দেবেন—অর্থাৎ ক্রুশের উপাসনা ও ত্রিত্ববাদকে তিনি বাতিল করবেন। তিনি শূকর হত্যা করবেন—অর্থাৎ বাইবেলের কিছু বিধানকে তিনি রহিত করবেন। তিনি জিজিয়া কর রহিত করবেন—অর্থাৎ অমুসলিমদের থেকে কর নেওয়া বন্ধ করবেন, কারণ তখন সবাই ইসলাম গ্রহণ করবে।
তিনি এসে খ্রিস্টান ধর্মে ডাকবেন না, বরং তিনি ইসলামের সম্পূর্ণ অনুসারী হয়ে মুসলিমদের ইমাম হবেন। সহিহ হাদিসে আরও এসেছে যে, তিনি মসজিদে তাঁর পিছনে নামাজ পড়বেন (সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৩৬)।
২. মুহাম্মদ (সা.)-এর মৃত্যু কি তাঁর নবুওয়াতকে অকার্যকর করে?
আপনি বলেছেন, "মুহাম্মদ (সা.) মারা গেছেন, তাই তিনি আর নেই।" কিন্তু প্রিয় বন্ধু, নবী-রাসূলগণের মৃত্যু তাদের বার্তাকে শেষ করে না। সব নবীই মারা গেছেন—আদম (আ.), নূহ (আ.), ইব্রাহিম (আ.), মূসা (আ.) সবাই মৃত্যুবরণ করেছেন। শুধু ঈসা (আ.)-কে জীবিত উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে (কুরআন ৪:১৫৭-১৫৮), এবং তিনি দ্বিতীয় আগমনে ফিরে আসবেন।
মুহাম্মদ (সা.)-এর মৃত্যু তাঁর নবুওয়াতের সত্যতাকে কখনো ক্ষুণ্ণ করে না। বরং কুরআন ঘোষণা করে:
"মুহাম্মদ তো একজন রাসূল মাত্র; তার আগেও অনেক রাসূল গত হয়েছেন। তবে কি তিনি যদি মারা যান বা নিহত হন, তাহলে তোমরা পিছনে ফিরে যাবে?" (সূরা আলে ইমরান, ৩:১৪৪)
মুহাম্মদ (সা.)-এর পরে আর কোনো নবী আসবেন না—তিনি শেষ নবী (সূরা আহযাব, ৩৩:৪০)। ঈসা (আ.) ফিরে এসেও মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের অনুসারী হিসেবে আসবেন, নতুন কোনো শরিয়ত নিয়ে নয়।
৩. বাইবেল ও খ্রিস্টান ধর্মের বর্তমান অবস্থা
আপনি হয়তো ভাবছেন, ঈসা (আ.) খ্রিস্টান ধর্মের প্রচার করবেন। কিন্তু খ্রিস্টান ধর্মের বর্তমান গ্রন্থ (বাইবেল) ও মতবাদ (ত্রিত্ব, ক্রুশবিদ্ধকরণ, পুত্রত্ব) কি ঈসা (আ.)-এর প্রকৃত শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? না, তা নয়।
বাইবেলেই ঈসা (আ.) বলেছেন:
"আমি নিজের থেকে কিছু বলি না, কিন্তু পিতা (আল্লাহ) যেভাবে আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন, সেভাবেই বলি।" (যোহন ৮:২৮) "তোমরা কেন আমাকে ভাল বলে ডাকছ? একজন ছাড়া আর কেউ ভাল নয়,那就是 ঈশ্বর।" (মার্ক ১০:১৮)
তিনি কখনো নিজেকে উপাস্য দাবি করেননি। বরং তিনি আল্লাহর ইবাদতের আদেশ দিয়েছেন (মথি ৪:১০)। খ্রিস্টান ধর্মে পৌলের মতবাদ প্রবেশ করিয়ে ত্রিত্ব ও ক্রুশবিদ্ধকরণের মতবাদ তৈরি করা হয়েছে—যা ঈসা (আ.)-এর প্রকৃত শিক্ষা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ঈসা (আ.) যখন ফিরে আসবেন, তিনি এই সমস্ত বিকৃতি দূর করবেন এবং মানুষকে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতে ফিরিয়ে আনবেন—যা ইসলামই শেখায়।
৪. উপসংহার: ইসলামই একমাত্র সঠিক পথ
আপনার যুক্তি যদি সঠিক হতো, তাহলে ঈসা (আ.) ফিরে এসে খ্রিস্টান ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করতেন। কিন্তু কুরআন ও হাদিস সুস্পষ্টভাবে বলে, তিনি এসে ইসলামকেই প্রতিষ্ঠিত করবেন। তাঁর আগমন মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুওয়াতের ওপরই মোহরাঙ্কিত হবে।
সুতরাং, আজই ইসলাম গ্রহণ করুন। মুহাম্মদ (সা.)-কে শেষ নবী হিসেবে মেনে নিন, কারণ তিনিই ঈসা (আ.)-এর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী দিয়েছেন এবং তিনিই ঈসা (আ.)-এর প্রকৃত অবস্থান আমাদের জানিয়েছেন।
আপনি কি এখনই সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত? বলুন:
"আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু, ওয়া আশহাদু আন্না ঈসা আবদুল্লাহি ওয়া রাসূলুহু।"
অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, এবং মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, ঈসা (আ.) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
এই সাক্ষ্যটি উচ্চারণ করলেই আপনি মুসলিম হয়ে যাবেন। আল্লাহ আপনাকে হেদায়েত দান করুন। আমিন।