"ইয়া নাবি সালাম আলাইকা" বলা কি জায়েয?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলুল্লাহ বা ইয়া নাবি সালাম আলাইকা বলা জায়েয বরং এটি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। তবে শর্ত হলো, এই সম্মান ও সালামের মাধ্যমে রাসূল ﷺ-কে কোনো প্রকার ইবাদতের অংশ বা অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী মনে করা যাবে না, বরং নবী ﷺ-এর প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশের জন্যই বলা হবে।
প্রমাণ ও দলিল:
১. কুরআনের নির্দেশনা: আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا (সুরা আহযাব: ৫৬) "নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তার ফেরেশতারা নবীর প্রতি দুরূদ প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তার প্রতি দুরূদ প্রেরণ কর এবং যথাযথভাবে সালাম জানাও।"
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে নবী ﷺ-এর প্রতি সালাম জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন। আর "ইয়া রাসূলুল্লাহ" বলে সালাম জানানো সালাম জানানোর একটি পদ্ধতি মাত্র।
২. হাদীসের দলিল: সাহাবায়ে কিরাম রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এসে বলতেন:
"السلام عليك يا رسول الله" (আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ) (বুখারী, মুসলিম) সাহাবীরা তাঁর সামনেই এভাবে সালাম দিতেন, এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ কখনো তা নিষেধ করেননি। বরং তিনি মুমিনদেরকে তাঁর রওজার কাছে গিয়ে সালাম জানাতে উৎসাহ দিয়েছেন।
হাদীসে এসেছে:
"مَنْ زَارَ قَبْرِي وَجَبَتْ لَهُ شَفَاعَتِي" (মিশকাত) "যে ব্যক্তি আমার কবর যিয়ারত করবে, তার জন্য আমার শাফাআত অবধারিত।"
আর কবর যিয়ারতের সময় "আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ" বলা সুন্নত।
৩. হানাফী ফকীহগণের মতামত:
- ফাতাওয়া শামী (রদ্দুল মুহতার) -এ বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কবরের নিকট "আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ" বলা মুস্তাহাব।
- ফাতাওয়া উসমানি -তেও এই সালামের বৈধতা স্বীকার করা হয়েছে।
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী) -তেও ইঙ্গিত রয়েছে যে, নবী ﷺ-কে সম্বোধন করে সালাম জানানো জায়েয, কারণ তিনি জীবিত ও তাঁর রূহ সামনা সামনি আছেন (حياة النبي في قبره)।
আপত্তি ও তার জবাব:
-
কেউ কেউ বলেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ" বলা শিরক বা বিদ'আত। কিন্তু এটি ভুল। কারণ সাহাবীরা বলতেন এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ নিষেধ করেননি। তবে শর্ত হলো, একে কোনো প্রকার ইবাদতের মাধ্যম বা শিরকের উপকরণ মনে না করা।
-
রাসূলুল্লাহ ﷺ জীবিত এবং তাঁর কবরে তিনি দুনিয়াবী জীবনের মতো হলেন না, তবে তাঁর রূহ তাঁর কবরে সংযুক্ত রয়েছে (হাদীস: "الأنبياء أحياء في قبورهم")। তাই তাঁকে সম্বোধন করা জায়েয।
সতর্কতা:
- সালাম জানানোর সময় সম্মান ও আদব বজায় রাখা জরুরি।
- এমন কোনো বিশ্বাস রাখা যাবে না যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে কোনো প্রকার ক্ষতি বা উপকার করতে পারেন (গায়েব জানা ইত্যাদি)।
- সালামটি কেবল সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশের জন্য হবে, ইবাদত বা মাদাদ (সাহায্য) চাওয়ার জন্য নয়।
সারসংক্ষেপ: "আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলুল্লাহ বা ইয়া নাবি সালাম আলাইকা" বলা জায়েয, বরং মুস্তাহাব। এটি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি সাহাবীদের সালামের পদ্ধতি। তবে শিরকী বিশ্বাস ও উদ্দেশ্য থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।
والله أعلم بالصواب