গুনাহকে হারাম জেনে আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা করে গুনাহ করে ফেললে কি গোনাহ হবে?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Questioner: Air D
Question Asked: 29 May 2026, 03:51 PM
Reviewed & Published: 29 May 2026, 03:58 PM
Views: 59
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১।ইমান নিয়ে মরলে যতই গোনাহ করুক আল্লাহ পাক এর মরহমতের সম্ভবনা বেশি বিনা শাস্তি দিয়ে জান্নাত দিতে পারেন তবে শাস্তি হতে পারে। যেহতু রহমতের সম্ভাবনা বেশি এরকম চিন্তা করে মনে করে গোনাহ কে হারাম জেনে মনে করে গোনাহ করে ইমানের সমস্যা হবে কুফরি হতে পারে কি?

Answer

প্রশ্নের উত্তর

আপনার প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আকীদার (বিশ্বাসের) সাথে সম্পর্কিত। সংক্ষেপে বলবো: গুনাহকে হারাম জেনে, কিন্তু আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা করে গুনাহ করা ইমানের সমস্যা সৃষ্টি করে না, তবে এটি কুফরি বা শিরকও নয় যদি না কেউ গুনাহকে হালাল বা জায়েয মনে করে। তবে এটি একটি বিপজ্জনক মানসিকতা যা আস্তে আস্তে ইমানকে দুর্বল করতে পারে এবং আল্লাহর শাস্তির কারণ হতে পারে।


বিস্তারিত ব্যাখ্যা:

১. গুনাহ করার সময় ইমান থাকা

যদি একজন মুসলিম কোনো গুনাহ করে, কিন্তু সে গুনাহটিকে হারাম (নিষিদ্ধ) জানে এবং আল্লাহকে ভয় করে, তাহলে তার ইমানের মূল (ঈমানের ভিত্তি) অক্ষুণ্ণ থাকে। কিন্তু এই অবস্থায় যদি কেউ "আল্লাহর রহমত বেশি, তাই গুনাহ করলে ক্ষতি হবে না" এই চিন্তা করে গুনাহ করে, তবে এটি গুনাহের প্রতি অবহেলা এবং অহমিকা (গর্ব) এর লক্ষণ, যা মারাত্মক পাপ।

কোরআনের নির্দেশনা:

"আর তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় কেবল কাফের সম্প্রদায়।" (সূরা ইউসুফ: ৮৭)

এখানে বোঝানো হয়েছে যে, কেবল কাফেররাই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, গুনাহ করে নির্ভয়ে বসে থাকা যাবে। বরং অন্য আয়াতে সতর্ক করা হয়েছে:

"তারা কি আল্লাহর কৌশল (তাদের আমলনামার বিচার) থেকে নিশ্চিন্ত হয়েছে? বস্তুতঃ আল্লাহর কৌশল থেকে কেবল ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ই নিশ্চিন্ত থাকে।" (সূরা আল-আরাফ: ৯৯)

২. "রহমতের সম্ভাবনা বেশি" – এটি কি কুফরি?

কেউ যদি মনে করে যে "আমি গুনাহ করলেও আল্লাহ অবশ্যই আমাকে বিনা শাস্তিতে ক্ষমা করে দেবেন" – এটি কুফরি নয়, তবে এটি বড় পাপ (কবীরা গুনাহ) এবং আল্লাহর শাস্তি থেকে নির্ভয়তা (আমন মিন মাকরিল্লাহ)। এটি ইমানকে দুর্বল করে এবং তওবা না করলে পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মতে:

"যদি কেউ গুনাহ করে এবং মনে করে যে এটি হালাল, তবে সে কাফের। কিন্তু যদি গুনাহকে হারাম জেনে করে, তবে সে গুনাহগার, কাফের নয়।" (ফিকহুল আকবার)

সুতরাং:

  • গুনাহকে হারাম জানলে তার ইমান ঠিক থাকে, তবে গুনাহ কমিয়ে আনার জন্য তওবা করা ওয়াজিব।
  • গুনাহকে হালাল বা জায়েয মনে করলে (যেমন: "আল্লাহর রহমত আছে, তাই গুনাহ করলে দোষ নেই") – এই চিন্তা কুফরি হতে পারে, কারণ এটি আল্লাহর বিধানকে অস্বীকার করার শামিল।

৩. হানাফী ফিকাহ ও আচার্য্যগণের বক্তব্য

  • ইমাম তহাবী (রহ.) বলেন: "আমরা কাউকে তার গুনাহের কারণে কাফের বলি না, যতক্ষণ না সে সেই গুনাহকে হালাল মনে করে।" (শরহু আকীদাতিত তহাবী)
  • মুফতী তকী উসমানী (দাঃবাঃ) বলেন: "আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা করে গুনাহ করা একটি বিপজ্জনক প্রবণতা। এতে করে বান্দা গুনাহের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ে এবং তওবা থেকে দূরে সরে যায়। তবে এটি কুফরি নয়, যদি গুনাহকে হারাম জানা থাকে।" (বই: "গুনাহ ও তওবা", পৃষ্ঠা: ৪৫)

৪. গুনাহ করার পর করণীয়

  • তওবাহ (অনুশোচনা) করা ফরজ।
  • গুনাহকে ছোট মনে না করা এবং আল্লাহর শাস্তিকে ভয় করা।
  • আল্লাহর রহমতের আশা করা – যেমন রাসূল (সা.) বলেছেন:

    "তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। তবে আল্লাহর কৌশল থেকে নিরাপদও থাকো না।" (সহীহ বুখারী)


উপসংহার:

  • গুনাহকে হারাম জেনে, কিন্তু "আল্লাহর রহমত বেশি" বলে গুনাহ করা – এটি কুফরি নয়, তবে বড় পাপ এবং ইমানকে দুর্বলকারী মানসিকতা
  • গুনাহকে হালাল বা জায়েয মনে করলে (যেমন: "গুনাহ করলে কোনো ক্ষতি নেই") – এটি কুফরি হতে পারে।
  • উত্তম পথ: আল্লাহর রহমতের আশা বজায় রেখে গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং গুনাহ হলেই সাথে সাথে তওবা করা।

আল্লাহ আমাদেরকে গুনাহ থেকে বাঁচান এবং তাঁর রহমতের আশা রেখে তওবা করার তাওফীক দান করুন। (আমিন)



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.