গায়রে মাহরাম কাজের লোককে বোরকা নেকাব পরিধান করে নেগরানি করার আদেশ স্বামী দিলে, সেই আদেশ মান্য করা কি যাবে?
Family Life · Hanafi
Question
আমার শাশুড়ি আম্মু একটা লোক দিয়ে মাঝে মাঝে বিভিন্ন কাজ করায় । উনি কাজটা করে আর আমার শাশুড়ি ইনস্ট্রাকশন দেয় । আমি পর্দা পালন করি বিধায় নিজের রুমে থাকি ঐ সময় ।
এখন শাশুড়িকে খুশি করার জন্য স্বামী যদি খিমার পরে ঐখানে গিয়ে এমনিতেই বসে থাকতে বলে এটা কি জায়েয? ( আমার কোনো কাজ নেই ওখানে) ।
Answer
ওয়ালাইকুম আসসালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্টভাবে বুঝে নেব:
প্রশ্নের সারমর্ম: আপনার শাশুড়ি একটি বেগানা (মাহরাম নয়) পুরুষকে দিয়ে কাজ করান। আপনি পর্দা পালন করেন বলে ঐ সময় নিজের রুমে থাকেন। এখন আপনার স্বামী আপনাকে শাশুড়িকে খুশি করার জন্য খিমার (বোরকা) পরে ওই জায়গায় গিয়ে শুধু বসে থাকতে বলেছেন, অথচ সেখানে আপনার কোনো প্রয়োজনীয় কাজ নেই। এ কাজটি কি জায়েজ?
উত্তর:
না, শরীয়তের দৃষ্টিতে এ কাজ জায়েজ নয়। নিম্নে এর কারণ ও দলীল উল্লেখ করা হলো:
১. বেগানা পুরুষের সাথে অপ্রয়োজনে বসা নিষেধ: ইসলাম নারী-পুরুষের মধ্যে পর্দা ও সংযমের নির্দেশ দিয়েছে। কোনো বেগানা পুরুষের সাথে এমন স্থানে বসা যেখানে প্রয়োজন নেই, তা ফিতনার কারণ হতে পারে। এমনকি পর্দা (খিমার) পরা অবস্থায়ও যদি কোনো কাজ না থাকে, তাহলে সেখানে বসে থাকা উচিত নয়।
২. দলীল:
-
আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর তোমরা ঘরে অবস্থান করো এবং প্রাচীন জাহেলিয়াতের মতো নিজেদেরকে প্রদর্শন করো না।" (সূরা আল-আহযাব: ৩৩) এ আয়াতে নারীদেরকে অপ্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া ও নিজেদেরকে প্রদর্শন করতে নিষেধ করা হয়েছে। যদি বাড়ির ভেতরেও কোনো বেগানা পুরুষ থাকে এবং সেখানে নারীর যাওয়ার প্রয়োজন না থাকে, তাহলে বেহুদা বসে থাকা এই আয়াতের পরিপন্থী।
-
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "তোমরা নারীদের নিকটে (একান্তে) যেও না।" (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৫২৩২) এখানে "নারীদের নিকটে যাওয়া" অর্থ বেগানা নারী-পুরুষের একান্তে মিলিত হওয়া নিষিদ্ধ। যদি কোনো বেগানা পুরুষ বাড়িতে কাজ করে এবং তার সামনে গিয়ে বসে থাকা হয়, তাহলে তা খালওয়াত (একান্তে মিলন) বা ফিতনার কারণ হতে পারে।
-
ইমাম ইবনে আবেদীন (রহ.) বলেন: "বেগানা পুরুষের জন্য বেগানা নারীর দিকে তাকানো হারাম, এমনকি যদি তা বিনা শাহওয়াতে হয়। আর নারীর জন্যও বেগানা পুরুষের দিকে তাকানো হারাম, বিশেষ করে যখন ফিতনার আশঙ্কা থাকে।" (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৭০)
৩. স্বামীর আদেশ মানা জরুরি, কিন্তু গুনাহের কাজে না: ইসলামে স্বামীর আনুগত্য ফরজ, তবে তা শুধু বৈধ ও নেক কাজে। কোনো নিষিদ্ধ বা গুনাহের কাজে স্বামীর আদেশ মানা জায়েজ নেই। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "আল্লাহর নাফরমানীতে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য করা যায় না।" (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৭২৫৭)
সুতরাং স্বামী যদি এমন কাজ করতে বলেন যা পর্দা ও শরীয়তের খিলাফ, তবে তা মানা ওয়াজিব নয়। বরং আপনাকে ভদ্রভাবে বুঝিয়ে বলা উচিত যে এ কাজ শরীয়তে জায়েজ নয় এবং এর ফলে ফিতনার আশঙ্কা রয়েছে।
৪. শাশুড়িকে খুশি করার জন্য শরীয়তসম্মত উপায়: শাশুড়িকে খুশি করতে আপনি অন্য উপায় অবলম্বন করতে পারেন, যেমন:
- তার সাথে ভালো ব্যবহার করা, দোয়া করা, প্রয়োজনে সাহায্য করা।
- স্বামীর মাধ্যমে তাকে বোঝানো যে পর্দার কারণে আপনি বেগানা পুরুষের সামনে আসতে পারেন না।
- আপনি নিজের রুমে থেকে অন্য কোনো কাজে তাকে সাহায্য করতে পারেন।
সারসংক্ষেপ:
- আপনার স্বামীর অনুরোধ জায়েজ নয়, কারণ এতে কোনো প্রয়োজন নেই এবং এটি ফিতনার কারণ হতে পারে।
- আপনি পর্দা করছেন, তাই নিজের রুমে থাকাই উত্তম এবং এতে আপনার কোনো গুনাহ নেই।
- স্বামীকে বোঝান যে শরীয়তের সীমার মধ্যে থেকে শাশুড়িকে খুশি করার চেষ্টা করবেন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।