বিতরের নামাজ

Salah-Prayer · Hanafi · Questioner: Nusrat · 13 May 2026 · 3 views

This answer is according to the ‘Hanafi’ school of thought.
This answer was reviewed and published by Admin.

Question

বিতরের নামাজ কাযা হয়ে গেলে করনীয় কী?

Answer

বিতরের নামাজ কাযা হলে করণীয়

প্রশ্ন: বিতরের নামাজ কাযা হয়ে গেলে কী করা উচিত?

উত্তর: হানাফি মতে বিতরের নামাজ ওয়াজিব (আবশ্যকীয়)। তাই কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে (ইশার নামাজের পর থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত) আদায় করা সম্ভব না হলে তা কাযা করা ওয়াজিব। কাযা করার নিয়ম ও সময় নিম্নরূপ:

কাযা করার নিয়ম

  • বিতরের নামাজ তিন রাকাত পড়তে হবে, এক সালামে (দুই রাকাত পড়ে সালাম ফিরানো যাবে না)।
  • তৃতীয় রাকাতে কুনুত (দুআ-ই কুনুত) পড়তে হবে – রুকুতে যাওয়ার আগে তাকবির বলে হাত তুলে দুআ পড়া।
  • কাযা নামাজের পদ্ধতি আসল বিতরের অনুরূপ হবে। তিলাওয়াত, রুকু, সিজদা সব একই নিয়মে।

কাযা করার সময়

  • প্রাধান্য: একই রাতে ফজরের আগে কাযা করা উত্তম।
  • অনুমোদিত সময়: যদি সেই রাত পার হয়ে যায়, তবে সূর্যোদয়ের পর (ইশরাকের সময়) থেকে যেকোনো সময় কাযা করা যাবে। তবে মাকরুহ সময় (সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত, এবং ঠিক দ্বিপ্রহর) ব্যতীত।
  • দিনে কাযা: দিনের বেলায় কাযা করলে (যেমন চাশতের সময়) তৃতীয় রাকাতে কুনুত পড়তে হবে এবং তিন রাকাত এক সালামে পড়তে হবে।
  • সতর্কীকরণ: বিতরের কাযা কখনোই দুই রাকাত পড়া জায়েয নয়; বরং তিন রাকাতই পড়তে হবে।

দলিল ও গ্রন্থসূত্র

  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে বিতর ওয়াজিব, তাই কাযা আবশ্যক। (রদ্দুল মুহতার, ২/৪৭৩)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া: “বিতর যদি ছুটে যায়, তবে তা কাযা করতে হবে, এবং যেভাবে আদায় করা হয় সেভাবেই কাযা করা হবে।” (ফাতাওয়া আলমগিরী, ১/১১২)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া: বিতরের কাযা সময়সীমা ছাড়া অন্য সময়েও পড়া যায়, তবে মাকরুহ সময় বাদ দিয়ে। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২২৪)
  • ফাতাওয়া উসমানি: বিতর কাযা করলে তা তিন রাকাত, এক সালামে এবং কুনুতসহ পড়তে হবে। (ফাতাওয়া উসমানি, ১/৪৫২)
  • বাহিশতি জেওর: বিতর কাযা করার নিয়ম বর্ণিত আছে, দিনে কাযা করলেও কুনুত পড়তে হবে। (বাহিশতি জেওর, ৪র্থ খণ্ড, বিতর অধ্যায়)

বিশেষ দ্রষ্টব্য

  • ইশার নামাজ কাযা থাকলে: ইশার নামাজ কাযা করার পর বিতর কাযা করতে হবে। তবে শুধু বিতর কাযা হলে ইশা আদায়ের পর কাযা করা জরুরি নয়; যেকোনো সময় পড়া যায়।
  • একাধিক বিতর কাযা: একাধিক রাতের বিতর কাযা হলে প্রতিটি আলাদাভাবে তিন রাকাত করে পড়তে হবে, একসাথে জমা করে পড়া জায়েয নয়।

সারসংক্ষেপ

বিতরের নামাজ কাযা হলে করণীয়:

  1. তিন রাকাত, এক সালামে, তৃতীয় রাকাতে কুনুতসহ পড়া।
  2. মাকরুহ সময় বাদ দিয়ে যেকোনো সময় (সূর্যোদয়ের পর থেকে) কাযা করা।
  3. দিনে কাযা করলেও তিন রাকাত ও কুনুত বহাল থাকবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সব নামাজ যথাসময়ে আদায় করার তৌফিক দিন। আমিন।


মেটা ডেসক্রিপশন

বিতরের নামাজ কাযা হলে করণীয় সম্পর্কে হানাফি ফিকহের নির্দেশনা। কাযা করার নিয়ম, সময় ও দলিলসহ বিস্তারিত মাসআলা জানুন (রদ্দুল মুহতার, ফাতাওয়া উসমানি)।

এসইও কীওয়ার্ড

বিতরের নামাজ, কাজা নামাজ, বিতর কাজা, হানাফি ফিকহ, নামাজের কাজা, ইমাম আবু হানিফা, ফাতাওয়া উসমানি, ইমদাদুল ফাতাওয়া, রদ্দুল মুহতার, বাহিশতি জেওর, ওয়াজিব নামাজ, নামাজ কাজার নিয়ম।

এসইও সার্চ ফ্রেজ

বিতরের নামাজ কাজা করার নিয়ম | বিতরের নামাজ কাজা হয় কীভাবে | বিতর নামাজ কাজা করতে হবে কি | বিতরের কাজা নামাজের সময় | ইশার নামাজ কাজা হলে বিতর কি হবে | বিতর নামাজ কাজা করার দোয়া | হানাফি মতে বিতর কাজা | বিতর নামাজ দিনে কাজা করার নিয়ম | বিতর কাযায় কুনুত পড়তে হবে কি


Related Questions

আসরের নামাজের বাংলাদেশ সময় কখন হয়

শুধু ফরজ নামাজ পড়লে হবে?

Mohilader namaje sejda ki puruser Moto dibe naki alada

সালাত বিষয়ক

Mohilader namaje sejda debar niom

সফরে যোহর আছর একসাথে পড়া