আমলি মোনাফেক কি চিরস্থায়ী জাহান্নামি?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Questioner: Air D
Question Asked: 29 May 2026, 07:33 PM
Reviewed & Published: 29 May 2026, 07:40 PM
Views: 43
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১।আমলি মোনাফেক কি চিরস্থায়ী জাহান্নামি।
২।গোনাহ করলে হয়তো আল্লাহ পাক মাফ করবেন না হয় শাস্তি দিবেন এরকম মনে করে গোনাহ করলে কি ইমানে সমস্যা হবে?
৩।আল্লাহ পাক এর আজাবের ভয় আছে এবং রহমতের আশা আছে এরকম মনে করে গোনাহ করলে ইমানে সমস্যা হবে?

Answer

উত্তর প্রদান

১. আমলি মোনাফেক কি চিরস্থায়ী জাহান্নামি?

উত্তর: ইসলামী পরিভাষায় মুনাফিক দুই প্রকার: ‘আক্বীদাগত মুনাফিক’ (যে অন্তরে কুফরী করে মুখে ঈমান প্রকাশ করে) এবং ‘আমলি মুনাফিক’ (যে ঈমান তো রাখে, কিন্তু মুনাফিকদের কিছু বৈশিষ্ট্য যেমন মিথ্যা বলা, ওয়াদা ভঙ্গ করা, খিয়ানত করা ইত্যাদি তার মধ্যে বিদ্যমান)।

  • আক্বীদাগত মুনাফিক চিরস্থায়ী জাহান্নামী। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: “নিশ্চয় মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে...” (সূরা আন-নিসা: ১৪৫)।
  • আমলি মুনাফিক তাদের ঈমানের কারণে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে না। হাদীসে এসেছে: “তিনটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে থাকে, সে পাক্কা মুনাফিক: কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে, এবং আমানত রাখলে খিয়ানত করে।” (বুখারী, মুসলিম) ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) ব্যাখ্যা করেছেন যে, এটি ‘আমলি নিফাক’ তথা আমলের দিক থেকে মুনাফিক, আক্বীদার দিক থেকে নয়। তাই আমলি মুনাফেক চিরস্থায়ী জাহান্নামী নয়, বরং যদি তওবা না করে মারা যায় তবে আল্লাহর ইচ্ছায় শাস্তি পেতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জান্নাতে যাবে। (ইবনে আবেদীন, রদ্দুল মুহতার; ফাতাওয়া উসমানী, ১/২৪৫)

রেফারেন্স:

  • কুরআন: সূরা আন-নিসা ১৪৫
  • হাদীস: বুখারী, কিতাবুল ঈমান
  • ইবনে আবেদীন, রদ্দুল মুহতার, ৩/৩৪২
  • ফাতাওয়া উসমানী, ১/২৪৫-২৪৬

২. গোনাহ করলে হয়তো আল্লাহ পাক মাফ করবেন না হয় শাস্তি দিবেন এরকম মনে করে গোনাহ করলে কি ইমানে সমস্যা হবে?

উত্তর: এই ধরনের চিন্তা করে গোনাহ করা তাত্ত্বিকভাবে কুফরী নয়, তবে এটি গুরুতর পাপ এবং ঈমানের দুর্বলতার লক্ষণ। কারণ একজন মুমিনের উচিত আল্লাহর রহমত ও শাস্তি উভয়কে স্মরণ রেখে গোনাহ থেকে বিরত থাকা। কিন্তু যদি কেউ শুধু ‘হয়তো মাফ করবেন’ এই আশায় গোনাহ করে, তাহলে সে আল্লাহর রহমতকে অপব্যবহার করছে এবং গোনাহকে হালকা করে দেখছে, যা ঈমানের পরিপন্থী নয় তবে কবীরা গুনাহ।

ইমাম তাহাবী (রহ.) বলেন: “কেউ যদি মনে করে যে, আল্লাহর রহমতের আশা ও শাস্তির ভয় না রেখে শুধু রহমতের ভরসায় গোনাহ করা জায়েজ, তবে সে পথভ্রষ্ট।” (শরহু আকীদাতিত তাহাবিয়া) তবে এতে ঈমান নষ্ট হয় না, যতক্ষণ না গোনাহকে হালাল মনে করে বা দ্বীনের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ২/২৭২; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৯৭)

সারমর্ম: উক্ত ধারণা নিয়ে গোনাহ করলে ঈমানের মূল সমস্যা হবে না, পাপ হবে। তবে গোনাহকে হালাল বিশ্বাস করলে বা ‘আল্লাহ মাফ করবেন’ বলে নিশ্চিত হয়ে গোনাহ করলে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত, কারণ এটি “আল্লাহর মক্কার সাথে ধূর্ততা” করার শামিল। (মা‘আরিফুল কুরআন, ১/৪৯০)

রেফারেন্স:

  • শরহুল আকীদাতিত তাহাবিয়া
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ২/২৭২
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৯৭

৩. আল্লাহ পাক এর আজাবের ভয় আছে এবং রহমতের আশা আছে এরকম মনে করে গোনাহ করলে ইমানে সমস্যা হবে?

উত্তর: এই অবস্থায় গোনাহ করা ঈমানের সমস্যা সৃষ্টি করে না, বরং এটি সাধারণ পাপ। কারণ, আল্লাহর ভয় ও আশা দুটোই মুমিনের জন্য প্রশংসনীয় গুণ। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: “নিশ্চয় যারা ভয় করে তাদের প্রতিপালককে অদৃশ্য অবস্থায়, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।” (সূরা আল-মুলক: ১২) এবং “আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।” (সূরা আয-যুমার: ৫৩)

তবে মনে রাখতে হবে: ভয় ও আশা থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে গোনাহ করা মুমিনের মর্যাদার পরিপন্থী এবং এটি ‘তাওয়াক্কুল’ (ভরসা)-এর অপব্যবহার। হাদীসে এসেছে: “বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি যে নিজেকে হিসাব করে এবং মৃত্যুর পরের জন্য আমল করে। আর অক্ষম সেই ব্যক্তি যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং আল্লাহর কাছে আশা পোষণ করে।” (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ) অর্থাৎ শুধু আশা করেই গোনাহ করা মূর্খতা। কিন্তু ঈমানের দৃষ্টিকোণ থেকে এতে কোনো ত্রুটি হয় না; এটি কবীরা গুনাহ, যা তওবা ও ইস্তেগফার দ্বারা মুক্তি পেতে হবে। (রদ্দুল মুহতার, ৪/২৬১; ফাতাওয়া উসমানী, ১/৩৫৪)

রেফারেন্স:

  • সূরা আল-মুলক ১২, সূরা আয-যুমার ৫৩
  • তিরমিযী, কিতাবু সিফাতিল কিয়ামাহ
  • রদ্দুল মুহতার, ৪/২৬১

আল্লাহই ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.