নানুর বাড়িতে যাওয়ার পথে এক ঘন্টার জন্য দাদার বাড়িতে নামলে কি কসর করতে হবে? মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব কে? তাঁর পরিচয় কি?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 938
Questioner: No name
Question Asked: 29 May 2026, 03:10 PM
Reviewed & Published: 29 May 2026, 03:18 PM
Views: 110
Tokens: 2,092
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১- উস্তাজ আমি যদি আমার নানুর বাড়িতে যাওয়ার পথে এক ঘন্টার জন্য দাদার বাড়িতে নেমে একটু দেখা করে যাই দাদুর সাথে, তাহলে কি আমার নানুর বাড়িতে সালাত কসর করতে হবে?
২-উস্তাজ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব এর ব্যাপারে আপনাদের মতামত কি? উনি কি আহলুস সুন্নাহ থেকে খারিজ?

Answer

উত্তর:

প্রশ্ন ১:
আপনার নানুর বাড়ি যদি আপনার মূল বসবাসের স্থান থেকে শর‘ঈ সফরের দূরত্বে (প্রায় ৭৮ কিমি বা তার বেশি) হয়, তাহলে আপনি সফর অবস্থায় গণ্য হবেন। পথিমধ্যে দাদার বাড়িতে এক ঘন্টা অবস্থান করলেও এটি সফর ভঙ্গ করবে না, কারণ এক ঘন্টা অবস্থান স্বাভাবিক সফরের অংশ এবং এতে ইচ্ছাকৃতভাবে সফর বিরতি গ্রহণ করা হয়নি। হানাফি ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, সফরের নিয়ত ও দূরত্ব বিদ্যমান থাকলে পথিমধ্যে সংক্ষিপ্ত বিরতি সফরকে প্রভাবিত করে না।

তবে শর্ত হলো, দাদার বাড়িতে অবস্থানের সময় আপনি যদি সেখানে ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার নিয়ত না করেন, তাহলে নানুর বাড়িতে পৌঁছে আপনাকে কসর (সংক্ষিপ্ত) সালাত পড়তে হবে। যদি দাদার বাড়িতে অবস্থানের সময় আপনি মুসাফির না হন (যেমন দাদার বাড়ি আপনার মূল বসবাসের মধ্যে পড়ে), তাহলে বিষয়টি ভিন্ন।

মূলনীতি:

  • সফর অবস্থায় কসর করার জন্য সফরের দূরত্ব (৭৮ কিমি) এবং সফরের নিয়ত আবশ্যক।
  • পথিমধ্যে সংক্ষিপ্ত বিরতি (১-২ ঘন্টা) সফর ভঙ্গ করে না।
  • যদি বিরতির স্থানে ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার ইচ্ছা থাকে, তাহলে সফর ভঙ্গ হবে এবং পূর্ণ সালাত আদায় করতে হবে।

সুতরাং আপনার ক্ষেত্রে: যদি নানুর বাড়ি সফরের দূরত্বে হয় এবং দাদার বাড়িতে আপনি ১৫ দিনের কম থাকার ইচ্ছা করেন, তাহলে নানুর বাড়িতে গিয়ে কসর সালাত পড়তে হবে।

রেফারেন্স:

  • আল-হিদায়া (১/১৩৫): "المسافر إذا نزل في مكان لا ينوي الإقامة فيه خمسة عشر يوما فهو مسافر يقصر الصلاة."
  • রদ্দুল মুহতার (২/১২১): "الإقامة القليلة لا تمنع القصر."
  • ফাতাওয়া উসমানী (১/৪০২): "পথিমধ্যে সংক্ষিপ্ত বিরতি সফর ভঙ্গ করে না।"

প্রশ্ন ২:
মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহ.) সম্পর্কে হানাফি আলেমদের মতামত:

তিনি ছিলেন নাজদ অঞ্চলের একজন সংস্কারক, যিনি বিদ‘আত ও শিরক নির্মূলের জন্য আন্দোলন করেন। তার দাওয়াতের মূল লক্ষ্য ছিল তাওহীদের পুনরুজ্জীবন এবং মানুষের মধ্যে প্রচলিত শিরকী আকীদা-বিশ্বাস দূর করা। হানাফি মাজহাবের অধিকাংশ আলেম তাকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের অন্তর্ভুক্ত মনে করেন, তবে তার পদ্ধতি ও কিছু মতামত (যেমন মাযার জিয়ারত, তাওয়াসসুল ইত্যাদি বিষয়ে) নিয়ে বিতর্ক আছে।

মূল কথা:

  • তিনি মুশরিক বা কাফির ছিলেন না। বরং তিনি মুজাদ্দিদ হিসেবে পরিচিত।
  • তার বিরুদ্ধে তাকফিরি (অন্যকে কাফির বলার) অভিযোগ কিছু সূত্রে পাওয়া যায়, কিন্তু অধিকাংশ আলেম একে অতিরঞ্জিত মনে করেন।
  • হানাফি আলেমগণ যেমন মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহ.) ও মুফতি তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) তাকে আহলুস সুন্নাহ থেকে খারিজ বলেননি। বরং তারা তার কিছু চরমপন্থা থেকে সতর্ক করেছেন।

সারসংক্ষেপ:
মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আহলুস সুন্নাহ থেকে খারিজ নন। তবে তার দাওয়াত ও পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করা জরুরি। ফিকহী ও আকীদাগত বিষয়ে হানাফি মাজহাবের আলেমদের অনুসরণ করা নিরাপদ।

রেফারেন্স:

  • মা‘আরিফুল কুরআন (মুফতি মুহাম্মদ শফী, ৮/৩২৮): "তিনি শিরক নির্মূলের জন্য কাজ করেছেন, কিন্তু তার পদ্ধতি নিয়ে ভিন্নমত আছে।"
  • ফাতাওয়া উসমানী (২/৫০): "তাকে কাফির বলা ঠিক নয়; বরং তিনি মুসলিম সংস্কারক ছিলেন।"
  • বাহিশতী জেওর (মুফতি মুহাম্মদ শফী): "বিদ‘আত নির্মূলের জন্য তার প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়।"


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.