উমরী কাজা নামাযের সঠিক পদ্ধতি কি? বালেগ হওয়ার পর থেকে কত ওয়াক্ত নামাজ কাজ হয়েছে তা স্মরণ না থাকলে করণীয় কি?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
আমি একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম বালেগা হবার পর থেকে যত নামাজ কাজ হয়েছে এখন আদায় করতে হবে কি না। সম্ভবত, উত্তর ছিল সংক্ষেপে আদায় করতে হবে।
এখন আমি যে একেবারে নামাজ পড়ি নী এমন না, তবে গুরুত্ব ছিল না তেমন অনেক বেশি কাজ গেছে, তাছাড়া একেবারে বালেগ হওয়ার সময় থেকে সাথে সাথে শুরু করি নী। এত বছর আগের কথা exactly মনে নেই, আমি এরকম মনে করে আন্দাজে কিছু হিসাব করে সংখ্যা নির্ধারণ করেছি। যেটা একেবারে সঠিক হবার সম্ভাবনা নেই, কিছু বেশি ধরে রাখলেও আমার বাস্তব কাযা থেকে কম হয়ে যেতে পারে।
আমি কি অনুমানের ভিত্তিতে এভাবেই উমুরি কাজা আদায় করব?
আর বেতর এর কাজ পড়তে হবে?
বেতর এর উমুরী কাযা আদায় করতে হবে?
জাঝাকুমুল্লাহুল খাইর
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاتة
প্রশ্নটির জন্য ধন্যবাদ। নামাজ ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ এবং এটি ত্যাগ করা বা অবহেলা করা কবিরা গুনাহ। বালেগ হওয়ার পর থেকে যেসব ফরজ বা ওয়াজিব নামাজ ছুটে গেছে, সেগুলো কাযা করা ফরজ/ওয়াজিব। নিচে আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর হানাফি ফিকহের আলোকে দেওয়া হলো:
১. বালেগ হওয়ার পর থেকে যত নামাজ কাজ হয়েছে, সেগুলো কি আদায় করতে হবে?
উত্তর: হ্যাঁ, বালেগ হওয়ার পর থেকে যেসব ফরজ নামাজ (যেমন: ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) ইচ্ছাকৃতভাবে বা অলসতায় ছুটে গেছে, বা সঠিক সময়ে পড়া হয়নি, সেগুলো কাযা করা ফরজ। ওয়াজিব নামাজ (যেমন: বিতর, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজ, সূরা ও দুআ ভুলে পড়লে সিজদা সাহুর মাধ্যমে) ছুটে গেলে তা কাযা করাও ওয়াজিব।
(সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ২/৪২৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১২৫; বাহেশতি জেওর, ৪র্থ খণ্ড)
২. কত নামাজ কাজ হয়েছে, তা যদি স্মরণ না থাকে, তবে কীভাবে কাযা আদায় করবেন?
উত্তর: যদি সঠিক সংখ্যা মনে না থাকে, তাহলে প্রাণপণ চেষ্টা করে যতটুকু সম্ভব স্মরণ করুন। অতঃপর যতটুকু সংখ্যা নির্ধারণ করতে পারেন, তার চেয়ে কিছু বেশি ধরে (যেমন: ১-২ বছর বা মাস হিসাবে) কাযা পড়তে পারেন। তবে অনুমান ভিত্তিক আদায় করাই যথেষ্ট; কারণ শরিয়তে অনির্দিষ্ট কাযার জন্য ক্ষমা ও উদারতা রয়েছে। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে কম ধরা উচিত নয়; কারণ দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেতে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
(সূত্র: ফাতাওয়া উসমানি, ২/৩৪৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/২৮৫; কিতাবুল মাসায়েল, ২/১৪০)
উদাহরণ:
- যদি মনে করেন ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের মাঝে অনেক নামাজ ছুটে গেছে, তাহলে প্রতিবছর ধরে মাসওয়ারি কাযা পড়তে পারেন। অথবা প্রতিদিন ১-২টি করে পুরনো কাযা পড়ার নিয়ত করুন নফল নামাজের নিয়মে।
৩. বিতর নামাজের কাযা আদায় করা কি জরুরি?
উত্তর: হ্যাঁ, বিতর নামাজ ওয়াজিব (হানাফি মতে)। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে বা অলসতায় ছুটে যাওয়া বিতর নামাজও কাযা করা ওয়াজিব। এটি ফরজ নামাজের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। তবে যদি বিতর নামাজ স্মরণ না থাকে, তাহলে ওপরের নিয়মেই কাযা করতে হবে।
(সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ২/৪১৫; আল-হিদায়া, ১/১২৫)
৪. উমুরী কাযা (আজীবন জমে থাকা নামাজ) আদায়ের সুবিধা:
- আপনি যে অনুমানের ভিত্তিতেই কাযা শুরু করেছেন, তা উত্তম। ধীরে ধীরে কাযা পড়তে থাকুন।
- আজীবন কাযা পড়ার নিয়ম: প্রতিদিন ফরজ নামাজের পর ২-৪ রাকাত করে কাযা পড়বেন। অথবা জুমার দিন বিশেষ নিয়ম করে পড়বেন।
- সতর্কতা: কাযা পড়ার সময় "নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া ..." (যেমন: ফজরের ২ রাকাত কাযা) নিয়ত করবেন। নিয়ত মনে রাখা জরুরি, আরবি বলা জরুরি নয়।
(সূত্র: ফাতাওয়া উসমানি, ২/৩৫০)
৫. বিশেষ মাসআলা: নারীদের জন্য
- মাসিক ও নিফাসের সময় ছুটে যাওয়া নামাজ কাযা করতে হবে না। তবে অন্যান্য সময় অলসতায় ছুটে যাওয়া নামাজ কাযা করতে হবে।
৬. দোয়া ও তওবা
আপনার যদি গীতি বা উন্মাদনা থাকে, তবে তওবা (ক্ষমা প্রার্থনা) করুন এবং নামাজের প্রতি গুরুত্ব দিন। কাযা পড়ার পাশাপাশি নফল নামাজ পড়তেও সচেষ্ট হোন।
সংক্ষেপে:
- ফরজ ও ওয়াজিব নামাজের কাযা ফরজ/ওয়াজিব।
- স্মরণযোগ্য সংখ্যা ধরে তার চেয়ে কিছু বেশি কাযা পড়ুন।
- বিতর নামাজ ফরজের মতোই কাযা করতে হবে।
- অনুমান ভিত্তিক পড়াই যথেষ্ট, তবে নিশ্চিত হতে অধিক পড়ুন।
আল্লাহ আপনার তওবা কবুল করুন এবং কাযা নামাজ আদায়ের তওফিক দিন।
(আমীন)
রেফারেন্স:
- কুরআন: "নিশ্চয় নামাজ মুমিনদের জন্য নির্ধারিত সময়ে ফরজ..." (সূরা নিসা: ১০৩)
- হাদিস: "যে ব্যক্তি নামাজ কাজ করে ফেলে, সে যেন তা কাযা করে... (সুনানে আবু দাউদ)।
- ফিকহ: রদ্দুল মুহতার, ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ইমদাদুল ফাতাওয়া।