আমার সর্বমোট সম্পদ(নগদ, পাওনা ও বিনিয়োগ মিলিয়ে) = ৬১০০০+১২০০০০+১৫০০০০= ৩৩১০০০ ( তিন লক্ষ একত্রিশ হাজার টাকা) আমার উপর কি কুরবানি ওয়াজিব?

Qurbani-Slaughtering · Hanafi

Question No: 798
Questioner: Tamanna Mostafa
Question Asked: 26 May 2026, 04:47 PM
Reviewed & Published: 26 May 2026, 05:04 PM
Views: 57
Tokens: 7,324
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।
ওস্তাদজী, আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন।
আমার উপর কুরবানি ওয়াজিব হয়েছে কি না? সেটা আমি নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারছি না কিছু কনফিউজিং বিষয়ের জন্য। তাই, সত্যিই আমার উপর কুরবানি ওয়াজিব কি না? জানার জন্য আমি আমার সম্পদের সব বিবরণ দিচ্ছি - বিবরণটা ভালো করে যাচাই করে আদৌ আমার উপর কুরবানি ওয়াজিব কি না? জানানোর অনুরোধ করছি।

১.আমার কাছে এখন নগদ(ব্যাংকে ও পকেটে) আছে= ৬১০০০ টাকা

২.আমি কয়েকজনের কাছ থেকে পাবো -- ৫০০০০ টাকা আগামী দুইতিন মাসের মধ্যে পাবো,-- আর ৭০০০০ হাজার টাকা যাকে দিয়েছি সে যতদিন না সামর্থ্যবান হবে ততোদিন দিতে পারবে না)
তার মানে মোট পাওনা= ১২০০০০

৩.আরেকটা বিষয় হলো আমি কিছুদিন আগে বিয়ে করেছি যেখানে মোহরানা ছিল ৩ লক্ষ। যার মধ্যে আমি নগদ ১ লক্ষ টাকা পরিশোধ করেছি আর ২ লক্ষ টাকা পরিশোধ করতে পারিনি।যেটা বাকি আছে।আর সেটা পরিশোধ করতে আমার হয়তো ১-২ বছর সময় লাগবে

৪.তাছাড়া আমি একটা ব্যবসায় ইনভেস্ট (বিনিয়োগ) করেছি
= ১৫০০০০ টাকা যে ব্যবসা থেকে এখনো কোনো লাভ বা লসের খবর আসেনি।

অতএব, আমার সর্বমোট সম্পদ(নগদ, পাওনা ও বিনিয়োগ মিলিয়ে) = ৬১০০০+১২০০০০+১৫০০০০=
৩৩১০০০ ( তিন লক্ষ একত্রিশ হাজার টাকা)

অতএব, এই পরিস্থিতিতে ও এই কনফিজিং সম্পদে কি আমার উপর কুরবানি ওয়াজিব? তাছাড়া মোহরানার বাকি টাকা টার জন্য আমি কি এখন ঋণী?
দয়া করে আমাকে জানাবেন।
জাজাকাল্লাহ খাইরান।

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে আমরা কুরবানীর ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলী এবং সম্পদ গণনার পদ্ধতি সম্পর্কে কুরআন-হাদীস ও হানাফী ফিকহের মূল গ্রন্থসমূহের আলোকে আলোচনা করব। তারপর আপনার প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেব।


কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার শর্ত (হানাফী মতে)

হানাফী মাযহাব মতে, কুরবানী ওয়াজিব হয় সেই মুসলিম, আক্বাল, বালেগ, মুকীম (মুসাফির নয়) ব্যক্তির উপর যার নিকট কুরবানীর দিনসমূহে (১০, ১১, ১২ জিলহজ্জ) ঋণ ও মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র (যেমন: বসবাসের ঘর, প্রয়োজনীয় কাপড়, ঘরের আসবাবপত্র, যানবাহন ইত্যাদি) বাদ দিয়ে নেসাব পরিমাণ অতিরিক্ত সম্পদ থাকে। এই নেসাব যাকাতের নেসাবের সমান, অর্থাৎ ২০০ দিরহাম রূপা (৬১২.৩৬ গ্রাম) অথবা ২০ মিসকাল সোনা (৮৭.৪৮ গ্রাম) মূল্যের সম্পদ। বর্তমান যুগে সাধারণত রূপার নেসাবকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়, কারণ তা অপেক্ষাকৃত কম।

(সূত্র: আল-হিদায়া, ৭/৩৫৮; রদ্দুল মুহতার, ৬/৩১৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১৯১; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/১৬২)


সম্পদ গণনার নিয়ম

নেসাব গণনার সময় নিম্নলিখিত বিষয়গুলি বিবেচনা করতে হবে:

  1. নগদ অর্থ (ব্যাংক ও পকেটের টাকা) – তা সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে।
  2. পাওনা টাকা (যা অন্য কেউ ফেরত দেবে) – এটি শক্তিশালী পাওনা (ঋণগ্রহীতা স্বচ্ছল ও পরিশোধে সক্ষম) হলে সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে; কিন্তু যদি ঋণগ্রহীতা অস্বচ্ছল হয় বা পরিশোধ অনিশ্চিত হয়, তবে তা সম্পদ হিসেবে ধরা হবে না। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২২২; ফাতাওয়া উসমানী, ১/২৫০)
  3. ব্যবসায় বিনিয়োগ – এটি আপনার মালিকানাধীন সম্পদ, তাই নেসাব গণনায় তা অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে যদি বিনিয়োগটি কোনো শেয়ার বা পণ্যে হয় যা সহজে নগদ করা না যায়, তবুও তা সম্পদ হিসেবে গণ্য। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১৯১)
  4. মোহরানা বাকি – এটি আপনার উপর একটি ঋণ (Debt)। স্ত্রীর পাওনা মোহরানা পরিশোধ করা আপনার দায়িত্ব। এই ঋণ নেসাব গণনার সময় সম্পদ থেকে বাদ দিতে হবে। (রদ্দুল মুহতার, ৩/১০৮; ফাতাওয়া উসমানী, ১/২৫২)

আপনার সম্পদের বিশ্লেষণ

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী:

| সম্পদের বিবরণ | পরিমাণ (টাকা) | মন্তব্য | |---------------|---------------|---------| | নগদ (ব্যাংক ও পকেট) | ৬১,০০০ | সম্পদ হিসেবে গণ্য | | পাওনা (আগামী ২-৩ মাসে পাবেন) | ৫০,০০০ | স্বচ্ছল ব্যক্তি থেকে পাওনা, সম্পদ হিসেবে গণ্য | | পাওনা (ঋণগ্রহীতা অস্বচ্ছল, পাবে না) | ৭০,০০০ | অনিশ্চিত বলে সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে না | | ব্যবসায় বিনিয়োগ | ১,৫০,০০০ | সম্পদ হিসেবে গণ্য | | মোট সম্পদ | ২,৬১,০০০ | (৬১,০০০ + ৫০,০০০ + ১,৫০,০০০) | | ঋণ (মোহরানার বাকি) | ২,০০,০০০ | সম্পদ থেকে বাদ দিতে হবে | | নেট সম্পদ (ঋণ বাদে) | ৬১,০০০ | (২,৬১,০০০ – ২,০০,০০০) |


নেসাবের বর্তমান মূল্য নির্ধারণ

রূপার বর্তমান বাজারমূল্য (বাংলাদেশে) ধরলে:

  • ৬১২.৩৬ গ্রাম রূপার মূল্য ≈ (৬১২.৩৬ × ৩০৫)
    ধরা যাক, ২০২৬ সালের মে মাসে রূপার দাম প্রতি গ্রাম ৩০৫-৪৯৫ টাকা (সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ক্যারেট হিসেবে)। সে হিসাবে নেসাব ≈ ১,৮৬,৭৬৯ – ৩,০৩,১১৮ টাকা (আনুমানিক)।

আপনার নেট সম্পদ ৬১,০০০ টাকা, যা সাধারণত নেসাবের চেয়ে কম (যদি রূপার নেসাব হিসেবে)।


সিদ্ধান্ত

  • আপনার নেট সম্পদ (৬১,০০০ টাকা) নেসাব পরিমাণ থেকে কম হওয়ার কারণে আপনার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়
  • তবে আপনি যদি নিজে থেকে কুরবানী করেন, তবে তা নফল হবে এবং সওয়াবের কাজ হবে।

(সূত্র: ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৩১২; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/১৬৫)


মোহরানার বাকি টাকা কি ঋণ?

হ্যাঁ, মোহরানার বাকি ২,০০,০০০ টাকা আপনার উপর একটি ঋণ (দেনা) হিসেবে গণ্য হবে। যাকাত, কুরবানী বা অন্যান্য ইবাদতের নেসাব গণনার সময় এটি সম্পদ থেকে বাদ দিতে হবে। (রদ্দুল মুহতার, ৩/১০৮)


প্রাসঙ্গিক গুরুত্বপূর্ণ নোট

  • আপনার বিনিয়োগকৃত ১,৫০,০০০ টাকা যদি ব্যবসায় আটকে থাকে এবং তা থেকে কোনো আয় না হয়, তবুও তা আপনার মালিকানাধীন সম্পদ। তাই নেসাব গণনায় তা অন্তর্ভুক্ত হবে।
  • যে ৭০,০০০ টাকা আপনি পাবেন বলে আশা করছেন, কিন্তু ঋণগ্রহীতা অস্বচ্ছল, তা সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে না। তবে যদি ভবিষ্যতে তিনি স্বচ্ছল হন এবং টাকা ফেরত দেন, তখন সেই টাকা আপনার সম্পদে যোগ হবে এবং পরবর্তী বছরের নেসাব গণনায় তা বিবেচিত হবে।

উপসংহার: আপনার বর্তমান অবস্থায় কুরবানী ওয়াজিব নয়। তবে মনে রাখবেন, কুরবানীর দিনগুলোতে (১০-১২ জিলহজ্জ) যদি আপনার সম্পদ বাড়ে (যেমন: পাওনা ফেরত আসে বা বিনিয়োগে লাভ হয়) এবং নেসাবের মাত্রা অতিক্রম করে, তাহলে কুরবানী ওয়াজিব হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে সেই দিনগুলোতে কুরবানী করার নিয়ত রাখবেন।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.