নযর বা মান্নতের কুরবানির মাংস কি কুরবানি দাতা ও তার পরিবার খেতে পারবে?

Qurbani-Slaughtering · Hanafi

Question No: 792
Questioner: Yasmin Akter
Question Asked: 26 May 2026, 02:30 PM
Reviewed & Published: 26 May 2026, 02:38 PM
Views: 61
Tokens: 2,917
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
এক প্রতিবেশীর প্রশ্ন, তিনি জানতে চান,
একজন এভাবে নিয়ত করেছে যে, তার ছেলের চাকরি হলে আগামী বছর বাড়িতে গিয়ে একাই একটি গরু কুরবান দিবেন। এখন, তাকে একজন বলেছে সেই গোস্ত নাকি তার পরিবার ও সে নিজে খেতে পারবে না। কারণ সে নিয়ত করেছে। এটা কি সঠিক??

Answer

وعلیکم السلام ورحمة الله وبركاته

উক্ত ব্যক্তি যদি শর্তসাপেক্ষে মানত করে থাকেন— “আমার ছেলের চাকরি হলে আগামী বছর বাড়িতে গিয়ে আমি একাই একটি গরু কুরবানী করবো”— এবং তার ছেলের চাকরি হয়ে গেছে, তাহলে সেই কুরবানী ওয়াজিব (আবশ্যক) হয়ে গেছে। ওয়াজিব কুরবানীর মাংসের হুকুম নফল কুরবানীর মতো নয়। নিম্নে বিস্তারিত জানানো হলো—

১. মানতের কুরবানী (নযর) ও তার হুকুম

  • ইসলামী শরী‘আতে যে কুরবানী মানতের মাধ্যমে আবশ্যক হয়, তাকে “কুরবানী নযর” বা ** মান্নতকৃত ওয়াজিব কুরবানী** বলা হয়।
  • এই কুরবানীর মাংস কুরবানীদাতা নিজে খেতে পারবেন না। তাঁর পরিবারের সদস্যরাও— যদি তারা ধনী বা সচ্ছল হন- বরং সম্পূর্ণ মাংস গরিব-মিসকীনকে সাদকা (দান) করতে হবে। [১]

২. দলিল ও হানাফী ফিকহের উদ্ধৃতি

  • রদ্দুল মুহতার (আল-হানাফী) -এ বলা হয়েছে:
    “মানতের কুরবানীর মাংস কুরবানীকারী নিজে খেতে পারবে না, বরং তা সবটুকু গরিবদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। যদি সে খেয়ে ফেলে, তাহলে তার মূল্য সাদকা করতে হবে।” (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩২৭)
  • ফাতাওয়া আলমগীরী-তে উল্লেখ আছে:
    “মানতের কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার কারণে তা নফল কুরবানীর মতো নয়। এর মাংস কুরবানীদাতা ও তার পরিবারের ধনী সদস্যদের জন্য হালাল নয়।” (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৬২)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া-তে আশরাফ আলী থানভী (রহ.) স্পষ্ট বলেছেন:
    “মানতের কুরবানীর গোশত নিজে খাওয়া ও ধনীদের দেওয়া জায়িয নেই, বরং সবটুকু গরিবদের দিতে হবে।” (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৩৫৭)

৩. উত্তর: প্রতিবেশীর কথাটি কি সঠিক?

হ্যাঁ, তিনি যা বলেছেন— “সেই গোস্ত তার পরিবার ও সে নিজে খেতে পারবে না”— তা মোটামুটিভাবে সঠিক। তবে শর্ত হলো, যদি পরিবারের কোনো সদস্য নিজে গরিব (যাকাতের হকদার) হন, তাহলে তাকে গরিব হিসেবে সেটি দেওয়া যেতে পারে। [২]

অর্থাৎ, সাধারণ অবস্থায় (যখন পরিবারের সবাই সচ্ছল) তার ও তার পরিবারের জন্য ওই মাংস খাওয়া জায়িয নেই। পুরো মাংস গরিব-মিসকীনকে সাদকা করে দিতে হবে।

উপসংহার: উক্ত ব্যক্তি যেহেতু মানত করেছেন এবং শর্ত পূর্ণ হয়েছে, তাই তার জন্য ওই কুরবানীর মাংস নিজে ও পরিবারের সচ্ছল সদস্যদের খাওয়া হারাম; পুরোটাই গরিবদের দান করতে হবে।

و الله أعلم بالصواب


[১] সচ্ছল পরিবারের সদস্য অর্থাৎ যার নিজের কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ আছে বা যাকে যাকাত দেওয়া জায়িয নয়।
[২] كذا في فتاوی عثمانی (باب الضحایا)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.