ভাসুরের টাকায় কুরবানী দিলে শ্বশুরের কোরবানি আদায় হবে কি না, ভাসুরের দেওয়া টাকা দিয়ে কোরবানি দেওয়ার বিধান,

Qurbani-Slaughtering · Hanafi

Question No: 750
Questioner: Rokshana Alam Popy
Question Asked: 25 May 2026, 04:02 PM
Reviewed & Published: 25 May 2026, 04:14 PM
Views: 122
Tokens: 4,757
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ্।আমার শ্বশুর বাড়িতে আমার ভাসুর আছে এবং আমার জামাই দুই ভাই। আমি আমার চাকরির সূত্রেআমরা বাইরে থাকি। শশুর বাড়িতে শশুর শাশুড়ি আর আমার ভাসুর তার ছেলেমেয়েরা থাকে। তারা একসাথেই খায়। আমরাও গেলে ওদের সাথেই খাওয়া-দাওয়া করি। বাসায় তো জমিজমা সবকিছু এখনো ভাগ হয়নি আমার শ্বশুরের নামে আছে। আমার হাজব্যান্ড মাঝে মাঝে বাবা- মাকে টাকা দেয়.।তাদের সংসার আমার ভাসুর ব্যবসা টাকা আর জমি জমা থেকে চলে। সব সময় আমার শশুর কুরবানী দেন। আমাদের যেহেতু নিসাব পরিমাণ সম্পত্তি বা টাকা নেই তাই আমরা দেই না। আমার শ্বশুরের এবার ভুট্টা এখনো বিক্রি করা হয়নি। তার কাছে কোরবানির গরু কিনার মত ক্যাশ টাকা নেই। গরু কেনার টাকা আমার ভাসুর দিয়েছে। কিন্তু আমার ভাসুরের নিসাব পরিমাণ সম্পত্তি বা টাকা নেই। আমার ভাসুর আমার শ্বশুরকে যে গরু কেনার টাকা দিয়েছে আমার শ্বশুরের কোরবানি করার হক আদায় হবে এই টাকা দিয়ে? নাকি আমার ভাসুরকে টাকা ফেরত দিয়ে দিবে আমার শশুর যখন আমার শ্বশুড়ের কাছে টাকা হবে?

Answer

উত্তর
وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ

আপনার প্রশ্নটি কোরবানি সংক্রান্ত ফিকহী মাসআলা নিয়ে। নিচে বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো:

১. কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার শর্ত

হানাফি মাযহাব মতে, কোরবানি ওয়াজিব হয় এমন ব্যক্তির উপর যিনি মুসলিম, স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক এবং নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক (অর্থাৎ সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা বা সমমূল্যের টাকা বা বাণিজ্যিক পণ্য)। তবে কোরবানির নিসাবের ক্ষেত্রে যেসব সম্পদ ব্যবহার করা হয় না (যেমন: নিজের বসবাসের ঘর, ব্যবহারের পোশাক, গাড়ি, কৃষিজমি ইত্যাদি) সেগুলো নিসাব গণনায় অন্তর্ভুক্ত হয় না।

আপনার শ্বশুরের মালিকানায় যে সমস্ত দৈনন্দিন প্রয়োজন অতিরিক্ত কৃষি পণ্য রয়েছে, প্রয়োজন অতিরিক্ত সম্পদ রয়েছে, প্রয়োজন অতিরিক্ত টাকা পয়সা রয়েছে, সব মিলিয়ে যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদ হয় সেক্ষেত্রে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে।

অনুরুপ ভাবে আপনার ভাসুরের মালিকানায় যে সমস্ত দৈনন্দিন প্রয়োজন অতিরিক্ত ব্যবসার পণ্য রয়েছে, প্রয়োজন অতিরিক্ত সম্পদ রয়েছে, প্রয়োজন অতিরিক্ত টাকা পয়সা রয়েছে, সব মিলিয়ে যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদ হয় সেক্ষেত্রে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে।

২. গরু কেনার টাকা কার পক্ষ থেকে কোরবানি হবে?

এখন প্রশ্ন হলো, ভাসুর যদি গরু কেনার টাকা শ্বশুরকে দেয় এবং শ্বশুর সেই টাকা দিয়ে গরু কিনে কোরবানি করেন, তাহলে কার কোরবানি গণ্য হবে?

  • যদি ভাসুর টাকা উপহার (হেবা) হিসেবে শ্বশুরকে দেন: তাহলে টাকা শ্বশুরের মালিকানায় চলে যাবে। এরপর শ্বশুর নিজের অর্থ দিয়ে গরু কিনে কোরবানি করলে তা শ্বশুরের পক্ষ থেকে কোরবানি গণ্য হবে।

তবে শর্ত হলো, শ্বশুরকে টাকা উপহার দেওয়ার সময় নিয়ত করতে হবে যে টাকা শ্বশুরের মালিকানায় যাবে এবং শ্বশুর তা কবজ করবেন।

  • যদি ভাসুর টাকা ধার (ঋণ) হিসেবে দেন: তাহলে টাকা শ্বশুরের জিম্মায় দায় হয়ে যাবে। শ্বশুর টাকা ধার করে গরু কিনলে তা তার নিজের কোরবানি হবে, কিন্তু পরে তাকে ভাসুরকে টাকা ফেরত দিতে হবে।
    • ফলাফল: শ্বশুরের কোরবানি আদায় হবে, কিন্তু টাকা ফেরত দেওয়া বাধ্যতামূলক।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সহীহ বুঝ দান করুন এবং আমাদের ইবাদত কবুল করুন।
والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.