ভাসুরের টাকায় কুরবানী দিলে শ্বশুরের কোরবানি আদায় হবে কি না, ভাসুরের দেওয়া টাকা দিয়ে কোরবানি দেওয়ার বিধান,
Qurbani-Slaughtering · Hanafi
Question
Answer
উত্তর
وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ
আপনার প্রশ্নটি কোরবানি সংক্রান্ত ফিকহী মাসআলা নিয়ে। নিচে বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো:
১. কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার শর্ত
হানাফি মাযহাব মতে, কোরবানি ওয়াজিব হয় এমন ব্যক্তির উপর যিনি মুসলিম, স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক এবং নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক (অর্থাৎ সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা বা সমমূল্যের টাকা বা বাণিজ্যিক পণ্য)। তবে কোরবানির নিসাবের ক্ষেত্রে যেসব সম্পদ ব্যবহার করা হয় না (যেমন: নিজের বসবাসের ঘর, ব্যবহারের পোশাক, গাড়ি, কৃষিজমি ইত্যাদি) সেগুলো নিসাব গণনায় অন্তর্ভুক্ত হয় না।
আপনার শ্বশুরের মালিকানায় যে সমস্ত দৈনন্দিন প্রয়োজন অতিরিক্ত কৃষি পণ্য রয়েছে, প্রয়োজন অতিরিক্ত সম্পদ রয়েছে, প্রয়োজন অতিরিক্ত টাকা পয়সা রয়েছে, সব মিলিয়ে যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদ হয় সেক্ষেত্রে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে।
অনুরুপ ভাবে আপনার ভাসুরের মালিকানায় যে সমস্ত দৈনন্দিন প্রয়োজন অতিরিক্ত ব্যবসার পণ্য রয়েছে, প্রয়োজন অতিরিক্ত সম্পদ রয়েছে, প্রয়োজন অতিরিক্ত টাকা পয়সা রয়েছে, সব মিলিয়ে যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদ হয় সেক্ষেত্রে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে।
২. গরু কেনার টাকা কার পক্ষ থেকে কোরবানি হবে?
এখন প্রশ্ন হলো, ভাসুর যদি গরু কেনার টাকা শ্বশুরকে দেয় এবং শ্বশুর সেই টাকা দিয়ে গরু কিনে কোরবানি করেন, তাহলে কার কোরবানি গণ্য হবে?
- যদি ভাসুর টাকা উপহার (হেবা) হিসেবে শ্বশুরকে দেন: তাহলে টাকা শ্বশুরের মালিকানায় চলে যাবে। এরপর শ্বশুর নিজের অর্থ দিয়ে গরু কিনে কোরবানি করলে তা শ্বশুরের পক্ষ থেকে কোরবানি গণ্য হবে।
তবে শর্ত হলো, শ্বশুরকে টাকা উপহার দেওয়ার সময় নিয়ত করতে হবে যে টাকা শ্বশুরের মালিকানায় যাবে এবং শ্বশুর তা কবজ করবেন।
- যদি ভাসুর টাকা ধার (ঋণ) হিসেবে দেন: তাহলে টাকা শ্বশুরের জিম্মায় দায় হয়ে যাবে। শ্বশুর টাকা ধার করে গরু কিনলে তা তার নিজের কোরবানি হবে, কিন্তু পরে তাকে ভাসুরকে টাকা ফেরত দিতে হবে।
- ফলাফল: শ্বশুরের কোরবানি আদায় হবে, কিন্তু টাকা ফেরত দেওয়া বাধ্যতামূলক।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সহীহ বুঝ দান করুন এবং আমাদের ইবাদত কবুল করুন।
والله أعلم بالصواب