আমি একজন নারী, আমি কি আমার শশুড় বাড়ী এবং বাবার বাড়ী কসর করবো?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 742
Questioner: Sharifa Jannat
Question Asked: 25 May 2026, 02:02 PM
Reviewed & Published: 25 May 2026, 09:25 PM
Views: 73
Tokens: 2,249
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি আমার স্বামির সাথে ঢাকা ভাড়া বাসাই থাকি। ঈদ এ শুধু শশুর বাড়ী বেড়াতে আসি যা সফরের দূরত্বে অবস্থিত। তাহলে কি শশুর বাড়িতে নামাজ কসর করব? বাবার বাড়িতে যদি বেড়াতে যাই তাহলেও কি নামাজ কসর করব?

Answer

উত্তর:
প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনার শ্বশুর বাড়ি ও বাবার বাড়ি উভয় স্থানেই আপনি মুসাফির গণ্য হবেন, যদি সেটি সফরের দূরত্বে (প্রায় ৭৭ কিমি বা ৪৮ মাইল) অবস্থিত হয় এবং আপনি সেখানে ১৫ দিনের কম থাকার ইচ্ছে রাখেন। সুতরাং আপনাকে উভয় স্থানে চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাজ কসর (অর্থাৎ দুই রাকাত) পড়তে হবে। আপনি যদি আপনার স্বামীর সাথে শশুড়বাড়ীতে যান, তাহলে ১৫ দিনের কম থাকার নিয়তে গেলেও আপনি মুকিম হিসেবে গণ্য হবে। কেননা তখন আপনি স্বামীর তাবে (অনুগামী) হিসেবে মুকিম গণ্য হবে। স্বামী তার বাবার বাড়ী যা তার আদি নিবাস সেখানে সে সর্বাবস্থায় মুকিম বলে গণ্য হবে।

কেননা:

  • বিবাহিত নারীর স্থায়ী বসবাস স্বামীর সাথে। তার শ্বশুর বাড়ি বা বাবার বাড়ি সফরের দূরত্বে হলে এবং সেখানে ১৫ দিনের কম থাকার সংকল্প থাকলে তিনি মুসাফির।
  • ফিকাহের কিতাবে বলা হয়েছে: “مَنْ سَافَرَ سَفَرًا مَسِيرَةَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فَهُوَ مُسَافِرٌ يُقَصِّرُ الصَّلَاةَ” (যে ব্যক্তি তিন দিনের পথ সফর করে, সে মুসাফির এবং নামাজ কসর করবে)। [আল-হিদায়া]
  • শ্বশুর বাড়ি বা বাবার বাড়ি হলেও সেটি যদি স্থায়ী আবাস না হয়, তবে সেখানে কসর করতে কোনো বাধা নেই। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, মুসাফিরের জন্য কসর ওয়াজিব (অর্থাৎ ফরজ নামাজ দুই রাকাত পড়া জরুরি)। [রাদ্দুল মুহতার]

শর্তসমূহ:
১. সফরের দূরত্ব কমপক্ষে ৭৭ কিমি (৪৮ মাইল) হতে হবে।
২. সেখানে ১৫ দিনের কম থাকার ইচ্ছা থাকতে হবে।
৩. কসর শুধু চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (যোহর, আসর, ইশা)। ফজর ও মাগরিব কসর হয় না।
৪. সুন্নত ও নফল নামাজ পুরো পড়বেন (কসর নয়)।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:

  • যদি আপনি শ্বশুর বাড়ি বা বাবার বাড়িতে ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার ইচ্ছে করেন, তাহলে সেটি আপনার জন্য বাসস্থানের (ওয়াতান) মতো গণ্য হবে এবং পূর্ণ নামাজ পড়তে হবে।
  • যদি দূরত্ব সফরের দূরত্বের কম হয়, তাহলেও পূর্ণ নামাজ পড়বেন।

রেফারেন্স:

  • আল-হিদায়া: (كتاب الصلاة، باب صلاة المسافر)
  • রাদ্দুল মুহতার: (২/১২২, ১২৩, باب صلاة المسافر)
  • ফতোয়ায়ে আলমগিরী: (১/১৩৮)
  • বেহেশতি জেওর: (باب صلاة السفر)
  • ইমদাদুল ফতোয়া: (১/২২৩)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.