কসরের দূরত্ব ভুল মনে করে কসর নামাজ আদায় করলে কী হবে?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 7365
Questioner: আমাতুল্লাহ
Question Asked: 25 Oct 2026, 01:23 AM
Reviewed & Published: 25 Oct 2026, 04:50 AM
Views: 21
Tokens: 3,155
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ।
কসরের দূরত্ব মনে করে পুরো সারাদিনের নামাজ কসর আদায় করে নিয়ে, পরবর্তীতে যদি তা কসরের দূরত্ব না হয় জানতে পারে, তাহলে কি আদায়কৃত সকল কসর ওয়াক্তের নামাজ পুনরায় পূর্ণ নামাজের হুকুমে ক্বাজা আদায় করে নিতে হবে ইনশাআল্লহ?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

সংক্ষিপ্ত উত্তর:
হ্যাঁ, যদি কেউ কসরের দূরত্ব (শরীয়তের নির্ধারিত সফর দূরত্ব) সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করে—অর্থাৎ প্রকৃতপক্ষে সফর দূরত্ব হয়নি, কিন্তু সে মনে করেছে সফর দূরত্ব হয়েছে—এবং এ অবস্থায় পুরো দিনের নামাজ কসর (চার রাকআতের ফরজ দুই রাকআত) আদায় করেছে, তাহলে তার আদায়কৃত ঐসব কসর নামাজ সহীহ হয়নি। তাকে পুনরায় পূর্ণ (চার রাকআত) নামাজ ক্বাজা আদায় করতে হবে।

কারণ:
কসর করা শুধু তখনই বৈধ, যখন শরীয়তের নির্ধারিত সফর দূরত্ব (হানাফি মাযহাব অনুযায়ী প্রায় ৪৮ মাইল/৭৭-৭৮ কিলোমিটার) অতিক্রম করে সফরের নিয়তে বের হয়। যদি প্রকৃতপক্ষে সফর দূরত্ব না হয়, তাহলে মুকীম (স্থানীয়) হিসেবে পূর্ণ নামাজ ওয়াজিব ছিল। কসর আদায় করা সত্ত্বেও ফরজের রাকআত কম আদায় হওয়ায় নামাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়; তাই পূর্ণ নামাজ পুনরায় আদায় করা আবশ্যক।

দলিল:

  • আল্লাহ তাআলা বলেন: «وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ» (সূরা নিসা: ১০১) — অর্থাৎ সফরে কসরের অনুমতি; সফর ছাড়া কসরের অনুমতি নেই।
  • হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন: «إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى وَضَعَ عَنِ الْمُسَافِرِ الصَّوْمَ وَشَطْرَ الصَّلَاةِ» (তিরমিজি: ৭১৫) — অর্থাৎ সফর অবস্থায় নামাজের অর্ধেক (কসর) আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। সুতরাং সফর প্রমাণিত না হলে কসর বৈধ নয়।
  • হানাফি ফিকহের মূলনীতি: «الْقَصْرُ إِنَّمَا يَثْبُتُ بِالسَّفَرِ الشَّرْعِيِّ» — কসর কেবল শরয়ি সফর দ্বারা প্রমাণিত হয়। (আল-হিদায়া, কিতাবুস সালাত, বাবুল কসর; রাদ্দুল মুহতার, ২/১২১-১২৩)

হানাফি কিতাবের বক্তব্য:

  • ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, সফর দূরত্ব নির্ধারিত হওয়ার পরই কসর ওয়াজিব হয়; অন্যথায় পূর্ণ নামাজ ওয়াজিব। (আল-হিদায়া; ফাতাওয়া আলমগিরি, ১/১৩৯)

তাই:
আপনি যে সমস্ত ওয়াক্তের নামাজ কসর আদায় করেছেন, সেগুলো পূর্ণ চার রাকআত হিসেবে ক্বাজা আদায় করে নিন। তবে যেহেতু ভুলবশত হয়েছে এবং আপনি এখন সংশোধন করতে চাচ্ছেন, আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল; তাওবা ও ইস্তিগফার করবেন এবং ভবিষ্যতে সফর দূরত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নামাজ আদায় করবেন।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.