সওয়াব নষ্ট হলো কিনা

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 7323
Questioner: Jani na
Question Asked: 23 Oct 2026, 09:12 PM
Reviewed & Published: 23 Oct 2026, 09:17 PM
Views: 31
Tokens: 4,853
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার কাছে টাকা না থাকা সত্ত্বেও আমি একজনকে তার অনেক বিপদে কিছু টাকা , এবং আরেকবার এরকম কারনেই তবে পাশাপাশি মুদারাবা হিসেবে ব্যবসার জন্য কিছু টাকা দেই অন্যের থেকে ধার নিয়ে। কাজ টা আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে করি, এবং সে আমাকে টাকা যথা সময়ে দিয়ে দিবে এই শর্ত কঠিন ভাবে নিয়েই দেই যেহেতু এগুলো অন্য দের টাকা। তবে এই ঘটনার অনেকদিন পরও তার খোজ নেই এবং যোগাযোগ ও করছেন না। তাই বাধ্য হয়ে তার পরিচিত একজনের মাধ্যমে তাকে আমার সাথে যোগাযোগ করতে বলি, সেই পরিচিত জন আমাকে কারণ জিগ্যেস করলে শুধু ব্যবসার জন্য টাকার বিষয়টা বলি, যাতে তার সম্মান হানি না হয়। এভাবে কি আমি সওয়াব অর্জন করতে গিয়ে উল্টো গুনাহ করলাম? যাদের টাকা তারা যদিও এখনো কিছু বলেনি আমাকে তবে ফেরতের বিষয় কয়েক বার ই জিগ্যেস করেছে।

Answer

আপনার প্রশ্নের সরল উত্তর হলো—আপনি সওয়াব অর্জনের নিয়তে যে কাজটি করেছেন, তা মূলত সদকা/ভালো কাজের অন্তর্ভুক্ত; আর পরিচিতকে কারণ জিজ্ঞাসার সময় শুধু "ব্যবসার টাকার বিষয়" বলায় আপনি গুনাহ করেননি, বরং তা ছিল অনুমোদিত (জায়েয) সংক্ষিপ্ত ও সম্মানরক্ষাকারী উত্তর। তবে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি:

১. অন্যের টাকা ধার নিয়ে দান করা

আপনি নিজের টাকা না থাকা সত্ত্বেও অন্যের কাছ থেকে ধার নিয়ে বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করেছেন—এটি নিঃসন্দেহে উত্তম কাজ, যদি ধার পরিশোধের ইচ্ছা ও সামর্থ্য থাকে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«مَنْ أَخَذَ أَمْوَالَ النَّاسِ يُرِيدُ أَدَاءَهَا أَدَّى اللَّهُ عَنْهُ، وَمَنْ أَخَذَ يُرِيدُ إِتْلَافَهَا أَتْلَفَهُ اللَّهُ» "যে ব্যক্তি (ধার নিয়ে) পরিশোধের নিয়তে মানুষের সম্পদ গ্রহণ করে, আল্লাহ তার পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করে দেন; আর যে ধ্বংস করার নিয়তে নেয়, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেন।" — সহীহ বুখারী, হাদীস ২৩৮৭

সুতরাং নিয়ত ঠিক থাকলে এতে গুনাহ নেই। তবে ধার করা টাকা দান করা (যেখানে ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব আপনার উপর) নিয়ে ফকীহগণের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা আছে; সারকথা—ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব আপনারই থাকে, এবং দান হিসেবে তা কবুল হওয়ার আশা করা যায়, তবে নিজের মালিকানাধীন টাকা দানই সর্বোত্তম। ইমাম ইবন আবিদীন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ ঋণগ্রহীতা কর্তৃক ঋণের মাল দান প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন (রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুল কারাহিয়্যাহ/বাবুল ইস্তিকরাদ)।

২. মুদারাবা চুক্তি

আপনি যে "মুদারাবা" হিসেবে টাকা দিয়েছেন—এটি শরীয়তসম্মত চুক্তি, তবে শর্ত হলো:

  • মুনাফার অনুপাত (যেমন ৫০:৫০) পূর্বনির্ধারিত হবে,
  • ক্ষতি মূলধনদাতা বহন করবে (মুদারিব ক্ষতি পূরণের দায়ী নয়, অবহেলা ছাড়া),
  • নির্দিষ্ট মাসিক "মুনাফা" নিশ্চিত করা যাবে না।

এসব শর্ত ঠিক থাকলে এতে সুদ বা গুনাহ নেই। (আল-হিদায়া, কিতাবুল মুদারাবা; ফাতাওয়া উসমানী, ৩/২৩৫-২৪০)

৩. "শর্ত কঠিনভাবে নেওয়া"

"যথাসময়ে দিয়ে দিবে" — এই শর্ত আরোপ করা নিজে থেকেই গুনাহ নয়; বরং ঋণ পরিশোধের তাগিদ দেওয়া শরীয়তসম্মত। কুরআনে আছে:

«فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ» (সূরা বাকারা: ২৭৯) — এটি সুদ সম্পর্কে; আর ঋণ সম্পর্কে: «وَلْيَكْتُبْ بَيْنَكُمْ كَاتِبٌ بِالْعَدْلِ» (বাকারা: ২৮২) — লিখে রাখার নির্দেশ, যা তাগিদেরই অংশ।

তবে কঠোরতা যেন ভাইয়ের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর্যায়ে না পৌঁছায়; রাসূল ﷺ বলেছেন: «خَيْرُكُمْ أَحْسَنُكُمْ قَضَاءً» — "তোমাদের মধ্যে উত্তম সে, যে উত্তমভাবে ঋণ পরিশোধ করে।" (সহীহ বুখারী, ২৩৯৩)

৪. কারণ জিজ্ঞাসায় শুধু "ব্যবসার টাকা" বলা

এটি গুনাহ নয়; বরং এটি ছিল:

  • সংক্ষিপ্ত উত্তর (ইজায),
  • সম্মান রক্ষা (সিত্র),
  • এবং মিথ্যা নয়—কারণ আপনি সত্যিই ব্যবসার (মুদারাবা) জন্য টাকা দিয়েছিলেন।

হাদীসে আছে: «لَا يَحِلُّ لِرَجُلٍ أَنْ يُحَدِّثَ حَدِيثًا يَعْلَمُ أَنَّهُ كَذِبٌ» — "যে কথা মিথ্যা জেনে বলা হয়, তা কারো জন্য হালাল নয়।" (সুনানে আবু দাউদ, ৪৯৭১) — কিন্তু আপনার কথাটি মিথ্যা ছিল না; আপনি শুধু অপ্রয়োজনীয় বিস্তারিত (যেমন: "আমি অন্যের কাছ থেকে ধার নিয়ে দিয়েছি") গোপন করেছেন, যা সম্মান রক্ষার জন্য বৈধ। ইমাম ইবন আবিদীন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ বলেছেন, প্রয়োজনে সংক্ষিপ্ত/সামঞ্জস্যপূর্ণ কথা বলা জায়েয (রাদ্দুল মুহতার, ৬/৪২৩-৪২৪, কিতাবুল হাযর ওয়াল ইবাহা)।

৫. এখন করণীয়

  1. ঋণদাতাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করুন; তাদের টাকা ফেরতের চেষ্টা করুন—এটি আপনার দায়িত্ব।
  2. যাকে টাকা দিয়েছেন, তার সাথে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করুন; প্রয়োজনে আরও এক ধাপ এগিয়ে লিখিতভাবে তাগিদ দিন।
  3. অপবাদ/গীবত থেকে বাঁচুন—তার অনুপস্থিতিতে তার সমালোচনা করবেন না।
  4. দোয়া করুন তার হেদায়েত ও ঋণ পরিশোধের তাওফিকের জন্য।
  5. ভবিষ্যতে লিখিত চুক্তি (দুই সাক্ষীসহ) করুন—কুরআনের নির্দেশ (বাকারা: ২৮২)।

সারসংক্ষেপ: আপনি গুনাহ করেননি; বরং উত্তম নিয়তে কাজ করেছেন। তবে ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব আপনার—এবং ধৈর্য ও দোয়ার সাথে তা আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যান। আল্লাহ তাওফিক দিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.