সালাতে ইমামের ওযু ছুটে গেলে করণীয়
Salah-Prayer · Hanafi
Question No:
7319
Questioner:
আব্দুল্লাহ
Question Asked:
23 Oct 2026, 05:15 PM
Reviewed & Published:
23 Oct 2026, 05:48 PM
Views:
15
Tokens:
6,022
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
সালাতে রুকু বা সিজদায় ইমামের ওযু ছুটে গেলে মুক্তাদিগনের করণীয় কী?
আর কাতার থেকে কোনো মুক্তাদি বের হয়ে গেলে কি ফাঁকা জায়গা পূরণ করতে হবে নাকি সেটা ফাঁকা থাকলেও চলবে? যদি করতে হয় তাহলে কি পিছনের কাতার থেকে কেউ সামনে এসে করবে নাকি পাশ থেকে কেউ পূরণ করবে?
এবং ইমামের ভুল হলে সুবহানাল্লাহ্ নাকি আল্লাহু আকবার কোনটা বলা উত্তম? রেফারেন্সসহ উক্ত বিষয়গুলো বিস্তারিত জানালে উপকৃত হতাম ইনশাআল্লাহ্
আর কাতার থেকে কোনো মুক্তাদি বের হয়ে গেলে কি ফাঁকা জায়গা পূরণ করতে হবে নাকি সেটা ফাঁকা থাকলেও চলবে? যদি করতে হয় তাহলে কি পিছনের কাতার থেকে কেউ সামনে এসে করবে নাকি পাশ থেকে কেউ পূরণ করবে?
এবং ইমামের ভুল হলে সুবহানাল্লাহ্ নাকি আল্লাহু আকবার কোনটা বলা উত্তম? রেফারেন্সসহ উক্ত বিষয়গুলো বিস্তারিত জানালে উপকৃত হতাম ইনশাআল্লাহ্
Answer
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
জবাব
১. সালাতে রুকু বা সিজদায় ইমামের ওযূ ছুটে গেলে মুক্তাদিগণের করণীয়:
সালাতে রুকু বা সিজদা অবস্থায় ইমাম সাহেবের ওযূ ভেঙে গেলে (حدث لاحق হলে) শরী'আতের বিধান হলো:
- ইস্তিখলাফ (প্রতিনিধি মনোনীত করা): ইমাম সাহেব সঙ্গে সঙ্গে নামায থেকে বের হয়ে যাবেন এবং পেছনে থাকা যোগ্য কোনো মুক্তাদিকে (যে নামাযের আহকাম ও ইস্তিখলাফ সম্পর্কে অভিজ্ঞ) সংকেত দিয়ে বা টেনে নিজের স্থানে সামনে বাড়িয়ে দেবেন। (ফিকহের পরিভাষায় একে 'ইস্তিখলাফ' বা প্রতিনিধি বানানো বলা হয়)।
- নামায পরিচালনা: উক্ত খলীফা/প্রতিনিধি ইমামের স্থলাভিষিক্ত হয়ে সেই রুকু বা সিজদা সম্পন্ন করবেন এবং বাকি নামাযের কাজসমূহ পুরো করিয়ে সালাম ফেরাবেন। মুক্তাদিগণ ওই খলীফা ইমামেরই অনুসরণ করবেন।
- মূল ইমামের করণীয়: মূল ইমাম সাহেব গিয়ে দ্রুত ওযূ করে আসবেন। ওযূ করে এসে যদি দেখেন খলীফা ইমামের নামায এখনও চলছে, তবে তিনি খলীফার পেছনে নামাযে শরীক হবেন এবং খলীফা সালাম ফেরানোর পর নিজের যে অংশটুকু বাকি ছিল তা কেরাত ছাড়া একা একা পড়ে শেষ করবেন]। আর ওযূ করে ফিরে আসার আগেই যদি খলীফা নামায শেষ করে ফেলেন, তবে তিনি একা একা বাকি নামায পূর্ণ করবেন। (তবে নতুন করে ওযূ করে এসে পুরো নামায শুরু থেকে পুনরায় পড়া উত্তম/আফযাল) ।
কিতাব ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ২০তম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১০৮, প্রশ্ন নং: ১০৩২৮ (উদ্ধৃতি: মজমাউল আনহুর মাআ মুলতাক্বা আল-আবহুর, কিতাবুস সালাত, বাবুল হাদাসি ফিস-সালাত) ।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৭৩–১৭৪, অধ্যায়: সালাত, 'ইস্তিখলাফ' (ইমামের ওযূ ছুটলে প্রতিনিধি নিযুক্তকরণ) সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ।
২. কাতার থেকে মুক্তাদি বের হয়ে গেলে ফাঁকা জায়গা পূরণ করার বিধান:
কাতারের মাঝখান থেকে কোনো মুক্তাদি বের হয়ে গেলে সেই ফাঁকা জায়গা পূরণ করা ওয়াজিবের কাছাকাছি সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ; কাতার ফাঁকা রেখে দেওয়া মাকরূহ।
- ফাঁকা জায়গা পূরণের নিয়ম:
- পাশ থেকে সরে আসা: ফাঁকা জায়গার ডানে ও বামে থাকা মুক্তাদিগণ নামাযরত অবস্থাতেই সামান্য পাশে চেপে এসে (আমলে কাসীর বা অতিরিক্ত বড় নড়াচড়া না করে) খালি জায়গাটি বন্ধ করে দেবেন ।
- পিছনের কাতার থেকে সামনে যাওয়া: যদি পাশে থাকা মুক্তাদিদের মাধ্যমে কাতার পূরণ সম্ভব না হয় বা কাতার বেশি ফাঁকা হয়, তবে পিছনের কাতার থেকে যেকোনো একজন মুক্তাদি সোজা ১-২ কদম সামনে এগিয়ে গিয়ে সামনের কাতারের খালি স্থানটি পূরণ করবেন।
- শর'য়ী কারণ: নামাযে কাতার সোজা করা ও খালি জায়গা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে ১-২ কদম সামনে বা পাশে হাঁটা মাসনূন আমল, এতে নামায ফাসিদ (নষ্ট) হয় না ।
কিতাব ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ২২তম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৯৬–৯৮, প্রশ্ন নং: ১০৩১২ ও ১০৩১৫ (উদ্ধৃতি: রদ্দুল মুহতার / ফাতাওয়ায়ে শামী ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৫২৮; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮৯) ।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২২৭, অধ্যায়: সালাত, 'ইমাম ও মুক্তাদীর বিবরণ' অনুচ্ছেদ।
- দরসুল ফিকহ: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৭৬–৭৮, 'কাতারে কাতার সোজা করা ও খালি জায়গা বন্ধ করার নিয়ম'।
৩. ইমামের ভুল হলে সুবহানাল্লাহ নাকি আল্লাহু আকবার বলা উত্তম?
নামাযে ইমামের কোনো ভুল বা ভুলবশত সাহু হলে তাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার (লুকমা দেওয়ার) জন্য "সুবহানাল্লাহ" (سُبْحَانَ اللهِ) বলা মাসনূন ও সর্বোত্তম।
- রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নির্দেশ: হাদীস শরীফে পুরুষ মুক্তাদিদের জন্য ভুল সংশোধনে 'তাসবীহ' তথা 'সুবহানাল্লাহ' বলার নির্দেশ স্পষ্টভাবে এসেছে— "التَّسْبِيحُ لِلرِّجَالِ وَالتَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ" (অর্থাৎ পুরুষদের জন্য নামাযের সতর্কবাণী হলো তাসবীহ/সুবহানাল্লাহ বলা, আর নারীদের জন্য হাতের পিঠে হাত মেরে শব্দ করা)।
- আল্লাহু আকবার বলা: কেউ যদি 'সুবহানাল্লাহ'-এর বদলে 'আল্লাহু আকবার' বা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে ইমামকে সতর্ক করে, তবে এতেও নামায ফাসিদ হবে না এবং ইমামকে সতর্ক করা হয়ে যাবে। তবে 'সুবহানাল্লাহ' বলাই সুন্নাতসম্মত ও উত্তম।
কিতাব ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৫২–১৫৩, প্রশ্ন নং: ৩২২৯ (উদ্ধৃতি: ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৯৯; আল-তাহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ, পৃষ্ঠা: ৩৩২; সহীহ মুসলিম ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২০৩)।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৯৯ ও ১৭২, অধ্যায়: সালাত, 'নামাযের মাকরূহাত ও সতর্ককরণ' অনুচ্ছেদ।
- নূরুল ঈযাহ: বাংলা সংস্করণ, পৃষ্ঠা: ১০৫, অনুচ্ছেদ: 'সুতরা ও নামাযরত ব্যক্তিকে বাধা প্রদান/সতর্ককরণ'।
- সহীহ বুখারী: হাদীস নং: ১২০১; সহীহ মুসলিম: হাদীস নং: ৪২১।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ।