নামায শেষে সাদাস্রাব (মযী/ওয়াদী) বের হলে নামায ভাঙবে কি?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 7250
Questioner: Siratul Mustaqeem
Question Asked: 22 Oct 2026, 02:23 PM
Reviewed & Published: 22 Oct 2026, 02:44 PM
Views: 16
Tokens: 2,800
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি নামায পড়ে উঠে প্রায় ১-১.৫ মিনিট পর চেক করে দেখি সাদাস্রাব বের হয়েছে।এখন নামায কি হয়েছে?নাকি আবার পড়বো?

Answer

নামায কি হয়েছে? — সাদাস্রাব (মযী/ওয়াদী) বের হলে নামাযের হুকুম

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ: আপনি নামায শেষ করে ওঠার প্রায় ১–১.৫ মিনিট পর দেখতে পান সাদাস্রাব (সাদা তরল) বের হয়েছে। জানতে চান—নামায হয়েছে কি না, নাকি আবার পড়তে হবে?

সংক্ষিপ্ত উত্তর

আপনার নামায হয়ে গেছে, আবার পড়তে হবে না। তবে ওই সাদাস্রাব যদি মযী (মধু-সদৃশ পাতলা সাদা তরল) হয়, তাহলে অযু ভেঙে গেছে — পরবর্তী নামাযের জন্য নতুন অযু করতে হবে। আর যদি তা ওয়াদী (ঘন সাদা তরল, প্রস্রাবের পর নির্গত হয়) হয়, তাহলে অযুও ভাঙেনি।


দলিল ও বিশ্লেষণ

১. নামায ভঙ্গের কারণ ঘটেনি: নামাযের ভেতরে বা নামায শেষ করার সাথে সাথেই যদি এই স্রাব বের না হয়, বরং নামায শেষ করে ওঠার পর বের হয়, তাহলে নামায ভঙ্গ হয়নি। নামায ভঙ্গ হয় কেবল তখনই, যখন নামাযের ভেতরে (বা নামাযের সাথে সংযুক্ত সময়ে) এমন কিছু ঘটে যা নামায নষ্ট করে। নামায শেষ হওয়ার পর বের হওয়া স্রাব পূর্ববর্তী নামাযকে বাতিল করে না।

ইবন আবিদীন (রহ.) বলেন: «وَلَوْ خَرَجَ مِنْهُ شَيْءٌ بَعْدَ الْفَرَاغِ لَا يُفْسِدُ صَلَاتَهُ» — "নামায শেষ হওয়ার পর যদি কিছু বের হয়, তা তার নামায নষ্ট করে না।" (রাদ্দুল মুহতার, ১/২৮৬-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য; ফাতাওয়া আলমগিরি, ১/৯১)

২. মযী ও ওয়াদীর পার্থক্য:

  • মযী (المذي): পাতলা, সাদা, আঠালো তরল; সাধারণত শাহওয়াত (যৌন উত্তেজনা) বা চিন্তার সময় নির্গত হয়। এটি নাপাক এবং অযু ভঙ্গ করে।
  • ওয়াদী (الودي): ঘন, সাদা তরল; প্রস্রাবের পর বা ভারী কিছু বহনের পর নির্গত হয়। এটি পবিত্র এবং অযু ভাঙে না (ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মদের মতে)।

রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে মযী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: «فِيهِ الْوُضُوءُ» — "এতে অযু করতে হবে।" (সহীহ বুখারী, হাদীস ১৩২; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৩০৩)

ওয়াদী সম্পর্কে ইবন আব্বাস (রা.) বলেন: «إِنَّهُ يَخْرُجُ بَعْدَ الْبَوْلِ كَالْبَوْلِ، فَيُغْسَلُ مِنْهُ الذَّكَرُ وَيُتَوَضَّأُ» — তবে ইমাম আবু হানিফার মতে ওয়াদী পবিত্র ও অযু ভঙ্গকারী নয়; এটি ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের মতের বিপরীতে ইমাম আবু হানিফার প্রসিদ্ধ মত। (শরহু মাআনিল আছার, ১/৪৭; বাদায়িউস সানাই, ১/৩৩)

৩. নামাযের ভেতরে সন্দেহ হলে: যদি স্রাব নামাযের ভেতরেই বের হয়ে থাকে (এবং আপনি নামায শেষে নিশ্চিত হন), তাহলে নামায ভেঙে গেছে — এক্ষেত্রে নামায পুনরায় পড়তে হবে। কিন্তু আপনার বর্ণনা অনুযায়ী তা নামায শেষে ওঠার পর বের হয়েছে, তাই নামায সহীহ।

৪. ওযু ভাঙার পর করণীয়: মযী বের হলে অযু ভেঙে যাবে; পরবর্তী নামাযের জন্য নতুন অযু করতে হবে। তবে ইতিমধ্যে পড়া নামায পুনরায় পড়তে হবে না। আর ওয়াদী হলে অযুও ভাঙবে না, শুধু পবিত্রতা রক্ষার জন্য ধুয়ে নেওয়া উত্তম।


ব্যবহারিক নির্দেশনা

  1. নামায পুনরায় পড়তে হবে না — আপনার নামায আদায় হয়ে গেছে।
  2. স্রাবটি চিনুন: মযী হলে (পাতলা, আঠালো, শাহওয়াতের সাথে) → অযু ভেঙেছে, নতুন অযু করুন। ওয়াদী হলে (ঘন, প্রস্রাবের পর) → অযু ভাঙেনি।
  3. সন্দেহ হলে: যেহেতু সাদাস্রাব সাধারণত মযীই হয়, সতর্কতাস্বরূপ নতুন অযু করে নেওয়া উত্তম; এতে ইবাদতে প্রশান্তি থাকে।
  4. পুনরাবৃত্তি হলে: বারবার মযী বের হওয়ার সমস্যা থাকলে (মযী-র রোগী) ইমাম আবু হানিফার মতে প্রতি নামাযের জন্য নতুন অযু করতে হবে; তবে নামাযের ভেতরে বের হলে নামায ভাঙবে না — এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ফকীহের পরামর্শ নিন।

সতর্কতা: উপরের হুকুম নামায শেষ হওয়ার পর স্রাব বের হওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নামাযের ভেতরে বের হলে হুকুম ভিন্ন।


আরবি সারাংশ

إذا خرج المذي بعد الفراغ من الصلاة لم تفسد صلاته، لكن ينتقض وضوؤه فيتوضأ لما يستقبل. وأما الودي فهو طاهر عند أبي حنيفة ولا ينقض الوضوء. (رد المحتار، ١/١٦٨؛ فتح القدير، ١/٣٣؛ الفتاوى الهندية، ١/١١)


আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.