মাহরাম পুরুষের সামনে হাঁটুর উপরের জামা, ঢোলা প্যান্টের সাথে কুর্তি এবং মেয়েদের প্যান্ট পরার হুকুম সম্পর্কে জানতে চাই?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
প্রশ্ন ১ : আমি কি বাসায় মাহরাম পুরুষের সামনে হাঁটুর উপরের জামা পড়তে পারবো?
প্রশ্ন ২ : ঢোলা প্যান্টের সাথে হাটুর উপরের কুর্তি পড়তে পারবো?
প্রশ্ন ৩ : যে প্যান্ট মেয়েদের জন্য বানানো হয় তাকে কী আমি বাসায় পড়তে পারবো ? মানে মেয়েদের প্যান্ট পড়তে কি পারবো?
Answer
وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
জবাব
বাসায় মাহরাম পুরুষদের (যেমন: বাবা, ভাই, ছেলে, আপন চাচা-মামা ইত্যাদি) সামনে মহিলাদের পোশাক ও সতরের ব্যাপারে ইসলামি শরীআত ও ফিকহে হানাফীর প্রামাণ্য সিদ্ধান্ত ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ নিচে বিস্তারিত পেশ করা হলো:
প্রশ্ন ১: বাসায় মাহরাম পুরুষের সামনে হাঁটুর উপরের জামা পরা যাবে কি?
উত্তর: না, পরিধান করা যাবে না।
-
ফিকহী কারণ ও ব্যাখ্যা:
ইসলামি ফিকহের সর্বসম্মত মূলনীতি অনুযায়ী, মাহরাম পুরুষের সামনে একজন নারীর সতর হলো নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ (অর্থাৎ নাভির নিচ থেকে শুরু করে উরু এবং হাঁটু সহ ঢেকে রাখা ফরয) । সুতরাং বাসায় কেবল হাঁটুর উপরের জামা (যার নিচে হাঁটু ও উরু ঢেকে রাখার মতো সালোয়ার/পায়জামা বা পোশাক থাকে না) পরিধান করা বা মাহরামদের সামনে হাঁটু ও উরু অনাবৃত রাখা কঠোরভাবে নাজায়েয ও হারাম । -
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (৫ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৩২৭ (অধ্যায়: কিতাবুল কারাহিয়্যাহ, ৮ম পরিচ্ছেদ: সতর ও দৃষ্টিপাতের বিবরণ — মাহরাম পুরুষের সামনে নারীর সতর নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত হওয়ার অকাট্য বিধান)।
- দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১৬৩–১৬৪ (অধ্যায়: সতর ও পর্দার শর'য়ী রূপরেখা — আওরাতে গলীযাহ ও মাহরামদের সামনে সতরের সীমা)।
- ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২৭০–২৭২ (অধ্যায়: বাবুল হিজাব — মাহরামের সামনে সতর আবৃত রাখার বাধ্যবাধকতা)।
প্রশ্ন ২: ঢোলা প্যান্টের সাথে হাঁটুর উপরের কুর্তি পরা যাবে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, পরতে পারবেন ।
-
ফিকহী কারণ ও ব্যাখ্যা:
যদি কুর্তির নিচে ঢোলা সালোয়ার বা ঢোলা প্যান্ট/পায়জামা পরিধান করা থাকে, যা দ্বারা নাভি থেকে হাঁটু এবং সম্পূর্ণ পা সুন্দরভাবে আবৃত থাকে এবং তা এত টাইট বা পাতলা না হয় যে ভেতরের চামড়া বা অঙ্গের আকার-আকৃতি ফুটে ওঠে, তবে কুর্তি হাঁটুর সামান্য উপরে হলেও তা পরিধান করা শরীআতসম্মত ও জায়েয। কারণ এখানে আসল মূলনীতি হলো সতর (নাভি থেকে হাঁটু) ঢেকে থাকা, যা ঢোলা প্যান্ট/সালোয়ারের মাধ্যমে অর্জিত হচ্ছে। তবে ফিতনার আশংকা থাকলে জায়েয হবে না। -
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৪০৬–৪০৭ (অধ্যায়: পোশাক সম্পর্কে শরীআতের দৃষ্টিভঙ্গি — সতর আবৃত থাকা ও পোশাক মোটা/ঢোলা হওয়ার শরয়ী ১ম মূলনীতি) ।
- ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২৮০–২৮২ (অধ্যায়: প্যান্ট, কোট ও পোশাকের ব্যবহার — ঢোলা ও শালীন পোশাকের বৈধতা)।
প্রশ্ন ৩: মেয়েদের জন্য বানানো প্যান্ট কি বাসায় পরা যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, কিছু শর্ত সাপেক্ষে পরা যাবে।
-
ফিকহী কারণ ও শর্তাবলী:
যেসব প্যান্ট বিশেষভাবে নারীদের জন্য তৈরি এবং যা পুরুষের প্যান্টের অনুকরণ বা সাদৃশ্যপূর্ণ নয়, তা বাসায় মাহরামদের সামনে বা খাস কামরায় পরিধান করা জায়েয। তবে এর জন্য ২টি ফিকহী শর্ত অবশ্যই পূরণ হতে হবে: ১. ঢোলা-ঢালা হওয়া (গাইরে চস্ত): প্যান্টটি যেন আঁটসাঁট বা স্কিন-টাইট না হয়, যার ফলে উরু বা পায়ের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন স্পষ্ট ফুটে ওঠে।
২. পুরুষের সাদৃশ্য মুক্ত হওয়া: পুরুষের কাট বা পুরুষের উপযোগী প্যান্টের মতো না হওয়া (কারণ নারীদের জন্য পুরুষের পোশাকের সাদৃশ্য গ্রহণ করা হাদীসে নিষিদ্ধ)। সর্বপোরি ফিতনার আশংকা থেকে মুক্ত থাকা শর্ত । -
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৪০৭–৪০৮ (অধ্যায়: পোশাক সংক্রান্ত শরীআতের মূলনীতিসমূহ — ২য় মূলনীতি: নারী-পুরুষের একে অপরের সাদৃশ্য বর্জন করা এবং আঁটসাঁট পোশাকের নিষেধাজ্ঞা) ।
- ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২৮১ & ৩১৫ (অধ্যায়: পোশাকের বিবরণ — মহিলাদের জন্য টাইট বা পুরুষালী পোশাকের অপছন্দনীয়তা ও ঢোলা পোশাকের বিধান)।
وَاللهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ